ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২১৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে চিকিৎসকেরা। ইতোমধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউ ইয়র্ক টাইমস, গ্লোবাল টাইমস, এএফপি, আই আর আইবি, বিসিসি।

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া গত দুই সপ্তাহের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া চলমান এই সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। রোববার নরওয়ে-ভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতাসীন সরকার ও অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে ইরানে বিক্ষোভে ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। তবে নতুন হিসাবে সেই সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। বাইরের শক্তির সমর্থনে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের ভেতরে দাঙ্গা চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগে করে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রোববার কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের জাতীয় পুলিশ।

ইরান হিউম্যান রাইটস বলেছে, ‘‘আমরা বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’’ সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাই ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও জনগণের দাবি নিয়ে কথা বলবেন। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্ষমতাসীন সরকারের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের উপায় ও পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বলেছে, জাতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে এক কথোপকথনে প্রেসিডেন্ট ভর্তুকি ব্যবস্থার সংস্কারে সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেছেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও জনগণের দাবির জবাবে সরকারের অবস্থান নিয়েও আলোচনা করেছেন। সাক্ষাৎকারটি রোববার আরও পরে সম্প্রচার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ব্যাপক কঠোর অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে ‘‘সন্ত্রাসী সংগঠন’’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সামাািজক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সার বলেছেন, সফররত জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্টকে তিনি জানিয়েছেন, ‘‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার এখনই সময়।’’

এছাড়া ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে একের পর এক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় এত মানুষ হতাহত হয়েছেন যে অনেক হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকসহ হাসপাতালগুলোর কর্মীদের।

ইরানের তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বিবিসির সাথে কথা বলেছেন, তারা জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালগুলাে সংঘাত-সহিংসতায় আহত ও নিহতদের ভিড় সামলাতে সমস্যায় পড়ছে। হতাহতদের বেশিরভাগের শরীরে গুলীর ক্ষত রয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

তেহরানের একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বিবিসিকে বলেন, “অনেক তরুণের মাথায় এবং বুকে সরাসরি গুলী লেগেছে।

তেহরানের আরেকটি হাসপাতালের কর্মীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, শরীরে গুলী এবং রাবার বুলেটের ক্ষত নিয়ে আসা বহু মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছেন তারা। এদিকে, ইরানে সহিংস পদ্ধতিতে বিক্ষােভ দমনের জবাব সামরিক হামলার মাধ্যমে দেয়া হবে বলে শুক্রবার পুনরায় হুশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান অভিযোগ করেছে, দেশটির শান্তিপূর্ণ বিক্ষােভকে ‘সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যাপক ভাঙচুর’ এর রূপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরিভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে, যার ফলে তথ্য পাওয়া ও যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার রাতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন ইরানের অন্যতম প্রধান চক্ষু হাসপাতাল ফারাবি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক।

তিনি জানিয়েছেন যে, রোগির চাপ বাড়তে থাকায় জরুরি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দিতে হাসপাতালটি বেশ সংকটের মুখে পড়েছে।

এ অবস্থায় সাধারণ রোগি ভর্তি এবং অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ছুটিতে থাকা চিকিৎসকসহ সকল কর্মীকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

বিক্ষোভ দমনের ক্ষেত্রে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রায়ই শর্টগানের গুলী নিক্ষেপ করে থাকেন। এবারের আন্দোলনের সময়েও সেটি লক্ষ্য করা গেছে।

মধ্য ইরানের কাশান শহরের একজন চিকিৎসক বিবিসিকে বলেন, শর্টগানের গুলীর আঘাতে বিক্ষোভকারীদের অনেকের চোখ নষ্ট হতে বসেছে। তেহরানের একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক বিবিসিকে জানান, হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

“আমি একজনকে দেখেছি, যার চোখে গুলী লেগে মাথার পেছন থেকে গুলী বেরিয়ে গিয়েছে,” বলেন ওই চিকিৎসক। গত বৃহস্পতিবার রাতে গুলীবিদ্ধ অনেক রোগি হাসপাতালে আসে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

“মধ্যরাতের দিকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে একদল লোক দরজা ভেঙে গুলীবিদ্ধ একজন ব্যক্তিকে ভেতরে ফেলে রেখে যায়। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাকে বাঁচানো যায়নি, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সে মারা গিয়েছে,” বলেন তেহরানের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজের একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে বিবিসি একটি ভিডিও বার্তা পায়।

তিনি জানান, বিপুল সংখ্যক আহতদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। কিন্তু এত রোগির ভিড় সামলানোর জন্য যতজন সার্জন প্রয়োজন, সেটি হাসপাতালের নেই।

ইরান থেকে পাওয়া শুক্রবার রাতের কিছু ভিডিওতে তেহরানের রাস্তায় নেমে যানবাহনে আগুন দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের।

এছাড়া রাজধানী তেহরানের কাছে কারাজে একটি সরকারি ভবনেও আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়। বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় সেটি সামাল দিতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর রীতিমত বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতের সহিংসতা চলাকালে তেহরানে অন্তত ২৬টি ভবনে আগুন লাগানো দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও ওইসব ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে একাধিক সমন্বিত সতর্কতা জারি করেছে ইরানের সরকার। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, ‘সশস্ত্র হামলাকারীদের’ বিরুদ্ধে তারা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শুক্রবার এক ভাষণে বলেছেন, “কয়েক লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ক্ষমতায় এসেছে” এবং বিক্ষোভের মুখে তারা “পিছু হটবেন না।”

যুক্তরাষ্ট্রের মদদে ইরানে বিক্ষোভ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বিক্ষোভকারীরা “মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার চেষ্টা করছে” বলে মন্তব্য করেছেন আলি খামেনি।

এদিকে, ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি দেশটির চলমান বিক্ষোভকে “চমৎকার” বলে বর্ণনা করেছেন। সাধারণ ইরানিদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্ট বলেন, “ইরান স্বাধীনতার পথে হাঁটছে, যা সম্ভবত এভাবে দেখা যায়নি।” যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষেভকারীদের সাহায্য করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

একইভাবে বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেইন। গত শনিবার তিনি ‘সহিংস দমন-পীড়নের’ নিন্দা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক শুক্রবার বলেছেন, ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনায় তারা ‘খুবই উদ্বিগ্ন’। “বিশ্বের সব দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার জনগণের রয়েছে এবং সরকারের উচিৎ তাদের সেই অধিকার রক্ষা করা,” বলেন তিনি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস শুক্রবার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। সেখানে তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার” আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইরান। এরই মধ্যে দেশটির প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের দমন-পীড়নে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সূত্রের দাবি, ইতোমধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। চলছে আলোচনা। হামলা করা হলে কোন কোন ঘাঁটিকে নিশানা করা হবে, তা-ও চিহ্নিত করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি সূত্র উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের পরিস্থিতি দিন দিন উত্তপ্ত হচ্ছে। গত দেড় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে সেখানে বিক্ষোভ চলছে। প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন বহু মানুষ। ইরানের প্রশাসন কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমনের বার্তা দিয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ শনিবারই জানিয়ে দেন, বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে দেখা হবে। এর জন্য ইরানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের গুলীতে ইরানে বহু প্রতিবাদীর মৃত্যুর খবরও মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘‘ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে। হয়তো এর আগে কখনও এমনভাবে তাকায়নি। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত।”

রিপোর্টে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর যদি অতর্কিতে ইরানে হামলা চালানোর প্রয়োজন পড়ে, তবে কীভাবে কোন পথে অভিযান চলবে, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে হোয়াইট হাউসে আলোচনা হয়েছে। কোন কোন জায়গাকে নিশানা করা হবে, তা-ও চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আকাশপথে বড় হামলার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন বাহিনীর। সেক্ষেত্রে ইরানের সেনাঘাঁটিগুলীকে নিশানা করা হবে।

তবে আর এক কর্মকর্তা জানান, হামলার ধরন সম্পর্কে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অস্ত্রশস্ত্রও প্রস্তুত করা হয়নি। শুধু আলোচনা হয়েছে। একাংশের দাবি, এগুলো সাধারণ পরিকল্পনার অন্তর্গত। এই মুহূর্তে ইরানে হামলা হচ্ছে না।

বিক্ষোভকারীদের ‘মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানজুড়ে শনিবার রাতেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষও হয়েছে। গত তিন দিনে দুপক্ষের সংঘর্ষে কয়েক শ বিক্ষোভকারী নিহত বা আহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ পেয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেছেন, ‘যাঁরা বিক্ষোভ করছেন, তাঁদের আল্লাহর শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’

ইরানে এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আইনত মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলন শুরু হয়েছিল মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে, কিন্তু দ্রুতই তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। প্রতিবাদকারীদের কেউ কেউ এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্র শেষ করার ডাক দিচ্ছেন।

তেহরানের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে শনিবার মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর মাত্র ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২১৭ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এসব হাসপাতালে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগই গুলীবিদ্ধ ছিলেন। হাসপাতালগুলোতে হতাহত ব্যক্তিদের ভিড় উপচে পড়ছে।

ইরানে চলমান বিক্ষোভ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল পশ্চিম লন্ডনে ইরানের দূতাবাস প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ হয়েছে। এদিন কয়েক শ বিক্ষোভকারী দূতাবাস ভবনের বাইরে জড়ো হন। তাঁদের হাতে ছিল ইরানের পতাকা। তাঁরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়েছেন। এ সময় একজন দূতাবাস ভবনের বারান্দায় উঠে ইরানের পতাকা নামিয়ে ফেলেন।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ বলেছে, প্রতিবাদের সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে কর্মকর্তারা অন্য একজনকে খুঁজছেন।