আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে গতিশীল ও তরান্বিত করতে ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যেক কর্মীকে শপথবদ্ধ জীবনের আওতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

গতকাল রোববার পল্লবী মধ্য থানা জামায়াত আয়োজিত বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে এক শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। থানা আমির রইসুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জুবায়ের হোসাইন রাজনের সঞ্চালনায় শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের মসলিশে শূরার সদস্য ও রূপনগর থানার আমির মাওলানা আবু হানিফ। উপস্থিত ছিলেন থানা শূরা কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ।

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আল্লাহ তা’য়ালার আমাদের ওপর দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালানোকে অত্যাবশ্যকীয় বা ফরজ করে দিয়েছেন। এ দায়িত্ব নিয়েই দুনিয়াতের সকল নবী-রাসূল প্রেরিত হয়েছিলেন। বিশ^নবী (সা.)ও একই দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে দুনিয়াতে মিশন সফলভাবে শেষ করেছিলেন। তার আসহাবগণও একই দায়িত্ব পালন করে গেছেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে। সে ধারাবাহিকতায় এ দায়িত্ব এখন আমাদের ওপর এসেছে। তাই এ দায়িত্ব কারো পক্ষেই পাশ কাটানোর সুযোগ নেই। মূলত, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মোমিনের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। আর এ দায়িত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন ভাবেই বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগ নেই বরং ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে ময়দানে আপোষহীন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা দেশের সকল রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। মূলত বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে কোনভাবেই দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ নেই। তাই আগামীতে দেশে সুশাসন সহ সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুষ্ঠানের জন্য অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রের কাক্সিক্ষত সংস্কার আনা জরুরি। একই সাথে জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচার দৃশ্যমান হওয়া দরকার। মূলত, সবার আগে দেশে নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি অতিদ্রুততার সাথে রাষ্ট্রের কাক্সিক্ষত সংস্কার, গণহত্যাকারীদের দৃশ্যমান বিচার ও অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় ফ্যাসিবাদীরা নতুন করে স্বপ্লবিলাসী হয়ে উঠবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।