হত্যাকাণ্ডসহ সারাদেশে বিএনপির সহিংসতার বিবরণ দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, নারী হেনস্তা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, শেরপুর শ্রীবরর্দি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এতে জামায়াতে ইসলামীর ৫০ জন আহত হয়েছেন। গাইবান্ধা পলাশবাড়ীতে শিবির নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেখানে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা'র জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কথা বলায় এক ভিক্ষুককে মারধর এবং বঙ্গবাজারে একজন সাধারণ ভোটারকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। ভোলা-২ আসন দৌলতখান-বোরহানউদ্দিনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি মাওলানা ফজলুল করীমের কর্মী ও সমর্থকদের প্রচারণায় বাঁধা দেয় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ ইবরাহিমের কর্মী-সমর্থকেরা। বিএনপির হামলায় জামায়াতের ৬ কর্মী আহত হয়েছেন।
তিনি জানান, যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছায় মহিলা জামায়াতের প্রচারণায় বাধা ও হেনস্তা করা হয়েছে। নোয়াখালীতে নারীকে ঘেরাও করে "আপনার কিসের রাজনীতি, ঘরে থাকবেন" বলে হুমকি ও হেনস্তা করা হয়েছে। কুষ্টিয়াতে যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নারী কর্মীদের লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া এবং মুফতি আমির হামজার মা ও নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করেছে। সীতাকু- ও নওগাঁয় নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত বাধা ও হেনস্তা করা হয়েছে।
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর ৫ লাখ টাকা বিতরণের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় ইমাম ও খতিবদের মধ্যে অর্থ বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের কোপানো, সীতাকু-ে ব্যানার পোড়ানো এবং জামায়াত প্রার্থী শিশির মনিরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি নেতা তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘ভোটের দিন দেখা হবে’ মর্মে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। শেরপুরে যুবদল নেতা সাইফুল হত্যার গুজব ছড়ানো হয়েছে। কিশোরগঞ্জে জামায়াতের হাতে বিএনপি নেতা খুনের মিথ্যা দাবি করা হয়েছে। শহীদ শিহাবের মাকে নিয়ে অশালীন প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পলাশবাড়ীতে লিয়নব সরকার নামে দাঁড়িপাল্লা সমর্থক আমলাগাছিতে নির্বাচনী প্রচার করছিলেন। হামলায় আহত হয় শিবিরের প্রায় ৪/৫ জন কর্মী। আহতরা রক্তাক্ত অবস্থায় ফেসবুক লাইভে আসেন। চুয়াডাঙ্গায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কথা বলায় আবু তালেব (৫২) নামে এক ভিক্ষুককে মেরে আহত করা হয়।
আহত আবু তালেব ভ্যানে করে ভিক্ষা করতে বের হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কথা বলাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বাকবিত-া হয়। একপর্যায়ে মোহাম্মদ জুমা গ্রামের আশিক ও অনিক নামের দুই বিএনপি নেতা তাকে মারধর করে। জামায়াতের শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ চলাকালে কক্সবাজারের হারবাংয়ে যুবদল নেতা সাহেদের নেতৃত্বে হামলা হয়। নোয়াখালীতে নার ীহেনস্তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। উক্ত নারী জামায়াতে ইসলামীর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কর্মী। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি আমির হামজার মাকে ভোট চাইতে যাওয়ার সময় অপমান ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠে। চট্টগ্রাম ১৪ আসনের প্রার্থী জসিম উদ্দিন প্রকাশ্যে ভিডিও করে ৫ লাখ টাকা একটি প্রতিষ্ঠানে দেয়ার প্রচারণা করছেন। অন্যদিকে সম্প্রতি আলী হাসান ওসামা অভিযোগ করেন, তাকে সহ ইমাম খতিবদের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে আর্থিক উপঢৌকন প্রদান করা হয়।
এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, আমরা দেশবাসীকে জানাতে চাই, আগামীর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের ঠাঁই হবে না, স্বৈরশাসকের ঠাঁই হবে না। যারা নারীকে হেনস্তা করেন, যারা চাঁদাবাজি করেন, বিভিন্ন ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন তাদেরকে আমরা জনগণের সামনেই তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই।