জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের উস্কানি ও সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি। সেখানে বিএনপির সন্ত্রাসীরা আগে থেকে জামায়াত ও ১১ দলীয় প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে হত্যার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল। তিনি উদ্বেগের সাথে বলেন, সেখানে কর্তব্যরত ইউএনও এবং পুলিশ প্রশাসন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে নিরবতা পালন করেছে। এতে প্রমাণিত হয় প্রশাসন একদিকে হেলে পড়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু থাকবে না এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখনই সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনার প্রতিবাদে জরুরি সংবাদ সম্মেলন একথা বলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নূরে আলম ও যুব বিষয়ক সম্পাদক আমান সুবহান, খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক আবদুল আজিজ খসরু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এইচ এম জিয়াউল আনোয়ার এবং গণসযোগ ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবলু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির দফতর সম্পাদক শহিদুল আলম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জামায়াত নেতা জনাব জাহিদুর রহমান, বিশিষ্ট সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন। জরুরি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন শেষে এডভোকেট জুবায়ের বলেন, বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের উস্কানি ও সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে আমরা মনে করি। সেখানে বিএনপির সন্ত্রাসীরা আগে থেকে জামায়াত ও ১১ দলীয় প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে হত্যার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।
তিনি উদ্বেগের সাথে বলেন, সেখানে কর্তব্যরত ইউএনও এবং পুলিশ প্রশাসন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে নিরবতা পালন করেছে। এতে প্রমাণিত হয় প্রশাসন একদিকে হেলে পড়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু থাকবে না এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখনই সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আসন্ন এয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। জুলাই বিপ্লবের পরে দেশের রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন সাধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনা সেই উৎসবমুখর পরিবেশকে ম্লান করে দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদী উপজেলা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর একদল উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের অব্যাহত উসকানীর কারণে ১১ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যা করে বিএনপির একদল সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবাহিনী।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবর্দী উপজেলা মিলিয়ে শেরপুর-৩ আসন। গতকাল (বুধবার) দুপুর ২:৩০ টায় শেরপুরের ঝিনাইগাতি স্টেডিয়াম মাঠে শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কমকর্তার উদ্যোগে সকল প্রার্থীর ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠান ছিল। যথারীতি জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নেতাকর্মীদের নিয়ে যথাসময়ে অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হন এবং অনুষ্ঠান স্থলে আসন গ্রহণ করেন। বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সহ তার সমর্থক কর্মীরা অনেক বিলম্বে আসেন। তখন বিএনপি নেতারা ইউএনওকে অর্ধেক অর্ধেক আসন ভাগ করে দিতে বলেন। ইউএনও জামায়াত প্রার্থীকে অনুরোধ করেন কিছু চেয়ার ছেড়ে দিতে। জামায়াত ও ১১ দলীয় প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মাইকে কর্মীদের আসন ছাড়তে বলেন। জামায়াতের কর্মীরা চেয়ার ছেড়ে দেয়ার পরও বিএনপির উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী বাকবিতন্ডা শুরু করে। সেই সাথে ঐ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবুল হক রুবেল, বিএনপি নেতা আব্দুর হান্নানসহ বিএনপির উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী অব্যাহত উসকানি দিতে থাকে। এতে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ অবস্থায় পুলিশ প্রশাসন বিএনপির নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত না করে বরং নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরো বলেন, সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে দক্ষিণে ঝিনাইগাতী বাজারে অবস্থান নেয়। মাঠে অবস্থান করে জামায়াত ও ১১ দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা। এ সময় বিএনপি সমর্থক ফাহমী গোলন্দাজ সোহেল ফেসবুকে ‘জামায়াতের বাদলকে পেলে জবাই করা হবে’ এই ধরনের উসকানীমূলক স্ট্যাটাস দেয়। এ অবস্থায় ঝিনাইগাতি বাজারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এবং জামায়াত ও ১১ দলীয় প্রার্থীকে স্টেডিয়াম থেকে বের হতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয়। সেখানে থাকা বিএনপি নেতাদের পুলিশ প্রশাসন রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা অস্বীকৃতি জানায়। এ অবস্থায় মাইকে বিএনপি নেতাকর্মীরা অব্যাহত উসকানি দিতে থাকে যাতে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা না পেয়ে, সন্ধ্যা পৌণে ছয়টার দিকে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম এলাকায় থাকা জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। তাদের প্রতিরোধ করতে গেলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে জামায়াত নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকের রাস্তা এবং উত্তরে স্টেডিয়ামের দিকে চলে যান। পেছনে পরে যান জামায়াতের শ্রীবর্দী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম। তাঁকে তখন একা পেয়ে কুপিয়ে আহত করে রেখে যায় বিএনপির কর্মীরা। এক পর্যায়ে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেওয়ার পথে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জনকে শেরপুরে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত ৩ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পুরো ঘটনা প্রবাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রথম মারামারির সময় পুলিশ সহযোগিতা করলে ঘটনাপ্রবাহ এতদূর আসত না। সেটা না করে পুলিশ প্রশাসন নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তবে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। এজন্য আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এসময় সেনাবাহিনীর একজন সদস্য আহত হওয়ায় আমরা তার প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি ও তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শেরপুর-৩ আসনে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনা পুলিশ সহ গোটা প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা অবিলম্বে শহীদ রেজাউল করিমের হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফাতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে ঝিনাইগাতি উপজেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে সারা দেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতভাবে জামায়াতের নারী কর্মীদের উপর হামলা ও নিপীড়ন করা হয়েছে। প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা প্রশাসনের এই ধরনের একপাক্ষিক আচরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।