ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে যক্ষ্মা ও ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা (DR-TB) নির্মূলে অত্যাধুনিক ও স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসা পদ্ধতি BPaL/M এর সফল প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক উচ্চপর্যায়ের স্টেকহোল্ডার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে এবং নারী মৈত্রী ও TB Alliance-এর ‘Fast Track the Cure’ উদ্যোগের কারিগরি সহযোগিতায় এই সভাটি সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান এনডিসি। সভাটি সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম। এবারের সভায় বিশেষ মাত্রা যোগ করে TB Alliance- এর আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি তথ্য উপস্থাপন করেন TB Alliance-এর মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স-এর সিনিয়র ডিরেক্টর সালাহ ফরাইদা (Salah Foraida)। তিনি BPaL/M পদ্ধতির বৈশ্বিক সাফল্য তুলে ধরে বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশে এই ৬ মাসের ইনজেকশনমুক্ত কোর্সটি যক্ষ্মা চিকিৎসায় বিপ্লব ঘটিয়েছে। বাংলাদেশেও এর সঠিক প্রয়োগ রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি কমাতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।” ভার্চুয়ালি আরও যুক্ত ছিলেন TB Alliance- এর মার্কেট এক্সেস ম্যানেজার অক্ষয় পাতিল (Akshaya Patil)। তিনি বিপিএএল/এম (BPaL/M) রেজিমেনকে আরও সহজলভ্য করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই ওষুধের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “স্মার্ট ঢাকা বিনির্মাণের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। যক্ষ্মা একটি সামাজিক সমস্যা এবং এটি নির্মূলে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি BPaL/M- কে ওয়ার্ড পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সব ধরণের প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে।”
নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার চৌধুরী (ডলি) তার উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন যে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যক্ষ্মা শনাক্তকরণে সিটি কর্পোরেশন এবং ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানান, TB Alliance এবং নারী মৈত্রী জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে (NTP) কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই আধুনিক চিকিৎসাকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। সভায় ডিএসসিসি-র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, (CSO) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে যক্ষ্মা শনাক্তকরণে বিদ্যমান সামাজিক কুসংস্কার ও বাধাগুলো দূর করতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিশেষে, সভায় উপস্থিত সকল অংশীদার যক্ষ্মামুক্ত ঢাকা গড়ার লক্ষে একটি যৌথ অঙ্গীকার করেন।