# আকাশপথে দীর্ঘ ভ্রমণের সক্ষমতা এখনো হয়নি
# চিকিৎসকদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার
# ১০ ডিসেম্বর লন্ডন যাওয়ার প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারণ
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি এখনো স্থির হয়নি। তার শারীরিক অবস্থার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে মেডিকেল বোর্ড এবং বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তখনই নেওয়া হবে যখন চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করবেন যে, তাকে নিরাপদে স্থানান্তর করা যাবে। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, দেশনেত্রীর চিকিৎসায় কোনো কমতি রাখা হবে না। তিনি বলেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত আছে। তবে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ডা. জাহিদ বলেন, গত ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু হলেও কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে।
বিলম্বের মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কাতারের আমিরের উদ্যোগে পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কারিগরি ত্রুটি, যা সময়মতো আসেনি। এ ছাড়া মেডিকেল বোর্ড জরুরি সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে উনাকে ফ্লাই করানো ওই মুহূর্তে নিরাপদ নয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য জানান, বিদেশে নেওয়ার সময় নির্ধারণ ভবিষ্যতে তার শারীরিক অবস্থাই জানাবে। চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রাধান্য ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে বহু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োজিত আছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্ত রয়েছেন লন্ডনের জন পেট্রিক কেনেডি, জেনিফার ক্রস, প্রফেসর গোলস্টন, প্রফেসর ডক্টর রিচার্ড, শাকিল ফরিদ ও প্রফেসর গার্বি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রফেসর হাবিবুর রহমান লুলু, প্রফেসর ডক্টর জন হ্যাবিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদরাও, প্রফেসর ডক্টর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর ডক্টর জর্জিস। ডা. জাহিদ অনুরোধ করেন, দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন। শুধু সঠিক তথ্যই প্রচার করা উচিত।
তিনি জানান, কাতার সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। তবে দেশের বাইরে নেওয়ার আগে চিকিৎসকরা শারীরিকভাবে নিরাপদ স্থানান্তর নিশ্চিত করবে, কারণ ১২-১৪ ঘণ্টার এয়ারফ্লাইটের সময় অসুস্থ ব্যক্তির জন্য উচ্চতার প্রভাব সবসময় সহ্য করা সম্ভব নয়। আশা প্রকাশ করে ডা. জাহিদ বলেন, আল্লাহর রহমত ও সকলের দোয়ায় বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হবেন।
মেডিকেল বোর্ডের বরাত দিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়া বিমান ভ্রমণে শারীরিকভাবে সক্ষম না হওয়ার কারণেই তার লন্ডন যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কারিগরি ত্রুটির কারণে আসতে পারেনি এটাও যেমন সত্য কথা। ওই সময়ে জরুরিভাবে মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো যে, ওই মুহূর্তে উনার ফ্লাই করা সঠিক হবে না। সেজন্য উনাকে বিদেশ নেওয়ার বিষয়টি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হয়ত শারীরিক অবস্থাই বলে দেবে উনাকে(খালেদা জিয়া) কখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া যাবে।
অধ্যাপক জাহিদ বলেন, আমরা মনে করি, দেশের সকল মানুষ উনার সুস্থতা চায়, চিকিৎসকরা চায়, দেশের আবাল- বৃদ্ধ-বনিতা, ধর্মীয়, রাজনৈতিক সকল মতাদর্শের মানুষ সবাই চায়। যেহেতু উনার স্বাস্থ্য আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার সেজন্য আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান তারেক রহমান এটি যেমন তদারিকও করছেন এবং এই ব্যাপারে উনি চিকিৎসকদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দলও সেই অনুযায়ী অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারণ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বিগত ৬ বছর যাবত উনাকে বিভিন্ন সময়ে সেবা দিয়ে আসছেন। প্রতিকুল পরিস্থিতিও আজকে হয়তো কিছু বদলেছে। আপনারা সবাই সাক্ষী কী অবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে বিগত ৬টি বছর পার করতে হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এবং অত্যন্ত প্রফেশনালি দেয়ার হ্যান্ডিলিং দ্যা মেটার।
জনাব জাহিদ বলেন, দেশনেত্রীর জন্য চিকিৎসার জন্যই এভারকেয়ার হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ এবং সেই সাথে কর্মরত সকল পর্যায়ের স্টাফ, যারা উনার চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত তারা চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত নয় সবাই সহযোগিতা করছে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত অনেক রোগী এবং রোগীর আত্মীয়স্বজন আমাদের অনেক আবেগপ্রবণ সহকর্মীদের কারণে হয়তো অনেকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। সেজন্য আমরা আপনাদের কাছে যারা একটু মনে কষ্ট পাচ্ছেন তাদের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের সহযোগিতা চাই এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা সত্যিকার অর্থে উনার চিকিৎসা অব্যাহত রাখা কষ্ট হবে।
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞগণ এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান স্বশরীরে ঢাকায় এসে বিএনপি চেয়ারপার্সনের চিকিৎসা কাজ সার্বক্ষনিকভাবে করে যাচ্ছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ।
উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ম্যাডামের মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমেই কাতারের অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে আসবে। তারা সেভাবেই প্রস্তুত রয়েছে। মেডিকেল বোর্ড যখনই সিদ্ধান্ত জানাবে, তখনই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছাবে এবং ম্যাডামকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হবে। পুরো প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা করছে কাতার কর্তৃপক্ষ।
জার্মানি থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, জার্মানি থেকে অ্যাম্বুলেন্স আসছে বিষয়টি ঠিক আছে। তবে এটি আমরা ভাড়া করছি না। কাতার কর্তৃপক্ষই তাদের তত্ত্বাবধানে জার্মানি থেকে একটি অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা (অ্যারেঞ্জমেন্ট) করে দিচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য কাতারের রয়েল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই সবকিছু হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। তিনি বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন এখনো আকাশপথে দীর্ঘ ভ্রমণের মতো শারীরিক সক্ষমতা বা ‘ফ্লাইং ফিটনেস’ অর্জন করেননি। মূলত এ কারণেই তার লন্ডন যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানান, গত দুই দিনে মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছে। শুক্রবার দুই দফায় মেডিকেল বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এবি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, ম্যাডামের লন্ডন যাত্রা পিছিয়েছে। এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো তারিখ বলতে পারছি না। এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার পর যেকোনো দিন উনাকে নেওয়া হবে।
বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে কাতারের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার কথা, সেটি ৬ ডিসেম্বর ঢাকায় অবতরণের কথা থাকলেও সময়সূচি পুনর্র্নিধারণ করে ৯ ডিসেম্বর করা হয়েছে। সেটি ঢাকা থেকে ১০ ডিসেম্বর ছেড়ে যাওয়ার প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকবেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. নূরউদ্দিন আহমদ, ডা. জাফর ইকবাল ও ডা. মোহাম্মদ আল মামুন। পাশাপাশি থাকবেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি, সহকারী আব্দুল হাই মল্লিক, একান্ত সচিব মো. মাসুদুর রহমান, গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম ও রুপা শিকদার এবং এসএসএফের দুজন সদস্য।
টানা ১৪ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা ঘিরে প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে আসছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষও। গতকাল শনিবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। এদিন সকাল থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতা তেমন দেখা না গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। তবে বরাবরের মতোই কঠোর নিরাপত্তা ছিল হাসপাতাল এলাকায়। মূল ফটকের সামনের সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখেছেন পুলিশ-বিজিবি সদস্যরা। রয়েছেন এসএসএফ সদস্যরাও। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খালেদা জিয়াকে একনজর দেখার আশায় হাসপাতাল এলাকায় অপেক্ষা করছেন অনেকেই। বাগেরহাটের মোংলা থেকে এসেছেন আবদুস সাত্তার ব্যাপারী। গত কয়েকদিন ধরে তিনি হাসপাতালের সামনে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর খোঁজখবর নিতে। এমনকি খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া অব্যাহত রেখেছেন বলেও জানিয়েছেন এই বৃদ্ধ।
এদিকে শাশুড়ি খালেদা জিয়াকে দেখতে আবারও এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন তার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান। শনিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালের ফটক দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমানের গাড়ি প্রবেশ করতে দেখা যায়। এর আগে শুক্রবার লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছেই শাশুড়ির খোঁজ নিতে সরাসরি হাসপাতালে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর দুপুর ১২টার দিকে তিনি এভারকেয়ারে যান। সেখানে আড়াই ঘণ্টার বেশি অবস্থান করেন। বেলা আড়াইটার দিকে ধানমন্ডির পৈতৃক বাসায় গেলেও রাতে আবার হাসপাতালে ফিরে আসেন তিনি।
গতকাল বিকেলে তিনি হাসপাতালে আসেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ভাবী বিকাল তিনটা ৩৮ মিনিটে এভার কেয়ার হাসপাতালে আসেন। তিনি সিসিইউতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শয্যার পাশে বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন। রুমন জানান, সার্বক্ষনিক জুবাইদা রহমান শাশুড়ি বিএনপি চেয়ারপার্সনের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে দেখভাল করছেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার শয্যার পাশে থাকছেন। ধানমন্ডির বাসায় আসলেও টেলিফোনে টাইম টু টাইম তার শাশুড়ির স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর রেখেছেন।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন খালেদা জিয়া। ২৭ নভেম্বর তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নিয়ে নিবিড় চিকিৎসা দিচ্ছে মেডিকেল বোর্ড। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর দেশের চিকিৎসক টিমের সাথে যুক্ত হন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসরা। ৮১ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, কিডনি, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের মতো নানা জটিলতায় ভুগছেন।