শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রোববারও করেছে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ চন্দ্রিমা উদ্যানে অবস্থিত দেশের দুই মহান নেতার কবর জিয়ারত করতে যান। গতকাল রোববার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন (ঢাবি) সাদা দল গতকাল সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় দোয়া পরিচালনা করেন ঢাবি আরবি বিভাগের অধ্যাপক এবিএম সিদ্দিকুর রহমান নিজামী।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের অভিভাবকহীন করে চলে গেছেন। আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুক। বিএনপির আগামী নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ ছিল না। কোনোদিন কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করেননি। ঠিক তেমনি তারেক রহমানও সবার সঙ্গে আলোচনায় বসছেন। সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনার কথা ভাবছেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাবি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, মো. আবুল কালাম সরকার, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেি ভিসি অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ঢাবি কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান, সাদা দলের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আল-আমিন প্রমুখ।

এদিকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা চ্যান্সেলর বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বাউবির কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন কবর জিয়ারতের সময়ে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। পরে অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এক অবিচল অভিভাবক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার দৃঢ় নেতৃত্ব ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান জাতির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের অনগ্রসর, কর্মজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করে গেছেন, যা রাষ্ট্র গঠনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।