ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ৬০ ফিট সংলগ্ন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (বালক শাখা) তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন গতকাল সকালে। এসময় তিনি ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। ঢাকা-১৫ আসনের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের একটি কেন্দ্রে ভোট শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় প্রায় ১০ শতাংশ ভোট পড়ে। পুরুষ ভোটারদের এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৪১৮ জন। এর মধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩৩ জন ভোট দেন। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দৈনিক সংগ্রামকে এ তথ্য জানান। উল্লেখ্য যে, ঢাকা-১৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন। এ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের চারজন ভোটার আছেন। আটজন প্রার্থী এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁরা হলেন শফিকুল ইসলাম খান (ধানের শীষ), শফিকুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), সামসুল হক (লাঙ্গল), আহাম্মদ সাজেদুল হক (কাস্তে), খান শোয়েব আমান উল্লাহ (কলম), মোবারক হোসেন (একতারা), আশফাকুর রহমান (মোটরগাড়ি) ও নিলাভ পারভেজ (প্রজাপতি)।
কেন্দ্রটি থেকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে সকাল ৯টার দিকে শামসুল ইসলাম নামের এক ভোটার বললেন, ‘ভোট দিতে দু-তিন মিনিট সময় লাগছে। শামসুল ইসলাম ছয় বছর আগে ভোটার হয়েছেন। তবে তিনি এবারই প্রথম ভোট দিলেন। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে কেন্দ্রে এসে দেখেছিলাম, আমার ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। এবার কোনো সমস্যা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছি।
সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। ভোটার, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক বাদে কাউকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রের সামনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীদের লোকজন আছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আরেকটি পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাকির হোসাইন। সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় তাঁর কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২০৪টি। তাঁর কেন্দ্রের মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৭১ জন। সব প্রার্থীর এজেন্টরা এসেছেন কি না এমন প্রশ্নে জাকির হোসাইন বলেন, দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের সব এজেন্ট এসেছেন। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভোট শুরুর পরপর ভোটারদের চাপ ছিল বলে জানান জাকির হোসাইন। তিনি বলেন, এখন চাপ একটু কমে এসেছে।
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে দুটি নারী ভোটকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, তাঁর কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ১৫৫ জন। সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ১৫০ জন। তাঁর কেন্দ্রে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার এজেন্টরা আছেন। অন্য দলের এজেন্টরা আসেননি। নারীদের আরেকটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, তাঁর কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ১৮২ জন। প্রথম দেড় ঘণ্টায় ভোট দিয়েছেন ১২৭ জন। তাঁর কেন্দ্রে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও প্রজাপতি প্রতীকের এজেন্ট আছেন।
ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত ১০টি কেন্দ্রে সকাল ১০টা পর্যন্ত ২ হাজার ৯৭৫টি ভোট পড়েছে। এই ১০ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২৪ হাজার ৩৭৭ জন। বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-১৫ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ওমর ফারুক এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকে বিদ্যালয়টির ১০টি কেন্দ্রে ভোটাররা লাইন ধরে ভোট দিতে থাকেন। ১০টা পর্যন্ত এখানে মোট ১২ শতাংশ ভোট পড়েছে।
এ ছাড়া তাকওয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৫৬ নম্বর কেন্দ্রে ২ হাজার ২০৭ ভোটারের মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ১০ দশমিক ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নাহিদ হোসাইন। কেন্দ্রে শুধু ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও প্রজাপতির এজেন্ট রয়েছেন। এ ছাড়া ৫৭ নম্বর কেন্দ্রে সকাল ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। ২২১৩ ভোটের মধ্যে ২১৬ ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জানিয়েছেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্বাস আলী।
ঢাকা-১৫ আসনে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৩৪ শতাংশ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ঢাকা-১৫ আসনে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ঢাকা-১৫ আসনের কেন্দ্রগুলো ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
মনিপুর স্কুলের প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো কেন্দ্রে ৩৫ শতাংশ, কোনোটায় ৫০ শতাংশ, কোনোটায় ২৫ শতাংশ আবার কোনোটায় ৩২ শতাংশ এমন করে ভোট পড়েছে। আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার আলতাফ হোসেন বলেন, একটি কেন্দ্রের ছয়টি বুথে ২৩৬১ ভোটারের মধ্যে দুপুর দেড়টার মধ্যে ৫৬৪ ভোট পড়েছে, যা ২৩.৯১ শতাংশ।
সেন্টারের আরেক প্রিজাইডিং অফিসার হুমায়ূন আজাদ জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৩৫৪ ভোটারের মধ্যে, ভোট পড়েছে ৭৪৯টি, যা ৩১.৮১ শতাংশ। আলীম উদ্দিন স্কুলের প্রিজাইডিং অফিসার রাশেদুল ইসলাম এবং অন্যরা জানান, দুপুর পর্যন্ত ১০ হাজার ভোটারের মধ্যে ৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
উত্তর কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানের ৬টা কেন্দ্রের কোনো আসনে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ, কোনোটায় ৩৬.৭২ শতাংশ আবার কোনোটায় ৫০ শতাংশের অধিক ভোট পড়েছে। আর এ রকমই অন্যান্য কেন্দ্রেও ভোট পড়েছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ভোটারদের উপস্থিতি। উল্লেখ্য, ঢাকা ১৫ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার হলো এক লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন এবং নারী ভোটার হলো এক লাখ ৬৫ হাজার ৩৩৮ জন।