ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শনিবারের অঙ্গীকার- বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার শিরোনামে বিশেষ মশকনিধন অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। শনিবার সকালে মিরপুরে চালু হয়েছে এই উদ্যোগ। একযোগে মিরপুরের আদর্শনগর, মিরপুর-১১ নম্বরের ই-ব্লকের লালমাটি এবং সাংবাদিক আবাসিক এলাকায় কাজ শুরু হয়। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে এই অভিযান পরিচালিত হবে বলে ডিএনসিসি সূত্র জানায়। সূত্রমতে, গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় মিরপুর-১১ নম্বরের লালমাটি টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকায় মশকনিধন কর্মীরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে একত্র হন। সকাল ৯টার দিকে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দলীয় ছবি তোলার পর কর্মীরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে অভিযান শুরু করেন। একটি দল আদর্শনগর এলাকায়, আরেকটি মিরপুর-১১ নম্বরের ই-ব্লকের লালমাটি এলাকায় এবং অন্য দলটি সাংবাদিক আবাসিক এলাকায় কাজ করেন। সাংবাদিক আবাসিক এলাকার খালে আগে থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কচুরিপানা পরিষ্কার করছিলেন। পরে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মীরা ম্যালেরিয়া অয়েল-বি ও লার্ভিসাইড ছিটাতে দেখা যায়। আদর্শনগর এলাকায় ফগার যন্ত্রের মাধ্যমে ধোঁয়া দিয়ে উড়ন্ত মশা নিধন করা হয়, পাশাপাশি লার্ভা ধ্বংসের ওষুধ ছিটানো ও আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর ঝুঁকি বিবেচনায় নগরের ২৫টি ওয়ার্ডে এ বিশেষ কার্যক্রম চলছে। অভিযানে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল, যেমন পরিত্যক্ত পাত্র, জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণে নগরবাসীকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী, ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ড এডিস মশার প্রজননের দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রশাসক আসবেন বলে ঝকঝকে ধলপুর : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাপ্তাহিক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার রাজধানীর ধলপুর এলাকায় ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। অন্তত ২০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী সংস্থাটির ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক পরিষ্কার করেন। তবে স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বিশেষ অভিযানে সড়ক ঝকঝকে করা হলেও এ দৃশ্য প্রতিদিনের নয়; অনেক অলিগলি নিয়মিত অপরিচ্ছন্নই থাকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকাল বেলা পৌনে একটার দিকে ধলপুর এলাকায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযানের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টায় এই কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক জাতীয় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার পর ধলপুরে পৌঁছান।

সকাল থেকেই ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে করপোরেশনের কর্মকর্তা–কর্মচারী ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা অপেক্ষা করতে থাকেন। কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মীকেও সেখানে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বেলা সাড়ে ১১টার পর প্রশাসকের আসতে দেরি হবে জানার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই সেখান থেকে চলে যান।

সেখানে অবস্থানরত প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সকাল থেকেই ওই এলাকায় অন্তত ২০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাস্তাঘাট পরিষ্কারের কাজে যুক্ত ছিলেন। প্রশাসকের আগমন মূলত আনুষ্ঠানিকতা। ধলপুরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, রাস্তা অনেকটাই পরিষ্কার করে রাখা হয়েছে। সড়ক পরিষ্কারের কাজ শেষ করে কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে পাশেই বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ সিটির এক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসক হঠাৎ করে আশপাশের কোনো সড়কে ঢুকতে চাইলে যাতে পরিচ্ছন্ন দেখা যায়, সে জন্য কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তাই সড়ক পরিষ্কারের পরও অনেকে স্থান ছাড়েননি। তবে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বিশেষ অভিযানের দিন যেভাবে সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে, সেটি নিয়মিত দৃশ্য নয়। রাজধানীর মূল সড়ক প্রায় প্রতিদিন পরিচ্ছন্ন করা হলেও অলিগলির সড়কে ঝাড়ু দেওয়ার দৃশ্য তাঁরা অনেক দিন পর দেখলেন।

ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের দক্ষিণ পাশের একটি সড়কের দোকানি বলেন, সকালে দোকান খুলে দেখেন দল বেঁধে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঝাড়ু দিচ্ছেন। আগে এই সড়কে সপ্তাহে এক দিনও ঝাড়ু দিতে দেখেননি তিনি। পরে ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশের কয়েকটি সড়ক এবং ধলপুরে দক্ষিণ সিটির যান্ত্রিক ওয়ার্কশপের আশপাশের সড়ক ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সড়কগুলো বেশ পরিষ্কার করে রাখা হয়েছে।

অভিযান উদ্বোধনের সময় ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে উজ্জীবিত হয়ে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে সাপ্তাহিক এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। ডিএসসিসির মাসব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রাম বর্তমানে চলমান রয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা ও সড়কবাতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা কোনো ধরনের ছাড় দেব না। তবে ধলপুরবাসীর প্রশ্ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের এই কড়া নজরদারি কি কেবল বিশেষ দিনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সাধারণ দিনগুলোতেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে এভাবে ঝাড়ু উঠবে? আধুনিক যানবাহন হস্তান্তর : পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে প্রশাসক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও ম্যাকানাইজড পার্কিং স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কেনা নতুন যানবাহন হস্তান্তর করেন। ধলপুরে সংস্থাটির যান্ত্রিক ওয়ার্কশপে এসব যানবাহন হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, নতুন যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ৮ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ৫টি থ্রি-হুইল রোড রোলার, ৩টি টায়ার ডোজার, ১টি লো-বেড ট্রেইলার এবং ৫ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ১০টি পানির গাড়ি। এসব যানবাহন বায়ুদূষণ রোধ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আবদুস সালাম।

ধলপুর এলাকার এই অভিযানে প্রায় দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী অংশ নেন। এসময় ড্রেন ও ফুটপাতের বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি মশার ওষুধ ছিটানো হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন : একই দিনে ডিএসসিসির যান্ত্রিক সার্কেলের উদ্যোগে চালক ও মেকানিকদের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রশাসক। নিজস্ব অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, চালকরা দক্ষ হলে ছোটখাটো যান্ত্রিক সমস্যার সমাধান তাৎক্ষণিক সম্ভব হবে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং যান্ত্রিক সার্কেলের প্রকৌশলীগণ উপস্থিত ছিলেন।