রমযান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশকিছু পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। প্রতি পিস লেবু ২ টাকা, তেল প্রতি লিটারে ১ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ১ টাকা, ছোলা ২ টাকা, ট্যাং ২০০ গ্রাম প্যাকেটে ৫ টাকা, মাংস প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও মিনিকেট চালের দাম প্রতি কেজি ১ টাকা কমিয়ে বিক্রির ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল সোমবার কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতির আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন। ব্যবসায়ীদের ওই সংবাদ সম্মেলনে সম্মতি প্রকাশ করে তিনি সেখানে উপস্থিত হন বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন থেকে আমরা ৩০ টাকা কমে ৭৫০ টাকায় প্রতিকেজি মাংস বিক্রি করবো। ছোলার দাম প্রসঙ্গে কুমিল্লা স্টোরের কর্ণধার গোফরান বলেন, এতদিন আমরা ছোলা ৮০ কিনে ৮৫ টাকা বিক্রি করেছি। এখন লাভ ২ টাকা কমে ৮৩ টাকা বিক্রি করবো।
সংবাদ সম্মেলনে কারওয়ান বাজার পাকা মার্কেট আড়তদার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, আমরা শ্রীমঙ্গল থেকে ১১ থেকে ১২ টাকা পিস লেবু কিনি। সেটা কারওয়ান বাজারে এনে ৫ ক্যাটাগরিতে আলাদা করে বিক্রি হয়। কিছু লেবু ৩-৪ টাকা বিক্রি হয়, আবার ভালো বড় লেবু দাম ১৭ টাকাও বিক্রি হয়। আমরা এখন থেকে প্রতি লেবুতে ২ টাকা কমিয়ে দেব। অর্থাৎ যে লেবুর দাম ১৭ টাকা ছিল, সেটা ১৫ টাকায় বিক্রি হবে। সব তেল বিক্রেতাদের পক্ষে আখি ইন্টারপ্রাইজের প্রপাইটার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমরা ৫ লিটার তেল ৯২০ টাকা বিক্রি করি। গায়ের দাম আরও বেশি ৯৫০ টাকা। এখন থেকে প্রতি ৫ লিটারে ৫ টাকা ছাড় দেওয়া হবে।
কিচেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, চিনি প্রতি কেজি প্যাকেটের গায়ের দাম ১০৫ টাকা, যা ১০২ টাকায় আমরা কারওয়ান বাজারে বিক্রি করতাম, এখন থেকে ১০১ টাকা বিক্রি করব। ট্যাংয়ের দাম নিয়ে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে ২ কেজি জার ট্যাং ১৯০০ টাকা এমআরপিতে বিক্রি হয়। আমাদের কারওয়ান বাজারে, বিক্রি হতো ১৫৮০ টাকা। এখন ১৫৬০ টাকা বিক্রি হবে। ছোট পেপার বক্স ৩৮০ টাকা বিক্রি হবে, যা আগে ৩৮৫ টাকা ছিল। চাল ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ২ টাকা লাভ করতাম, এখন ১ টাকা লাভে বিক্রি করবো। ৮১ টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ টাকা এখন থেকে মিনিকেট চাল বিক্রি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন। তিনি বলেন, আমরা সব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ দাম কমিয়েছি। কারও উপর চাপিয়ে দিতে চাইনি। রমযানের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা থেকে লাভের আংশ থেকে তারা এ ছাড় দিয়েছে।