ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর অপহরণ এবং নাটকীয়ভাবে ক্ষমতা থেকে অপসারণের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। এছাড়া সহযোগিতা না করলে ভেনিজুয়েলায় আবারও দ্বিতীয় দফায় সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এদিকে অপর এক খবরে বলা হয়, মাদুরোকে পৃথিবীর নরক বলে খ্যাত ব্রুকলিন জেলে রাখা হয়েছে। আল-জাজিরা, জেরুসালেম পোস্ট, এপি, রয়টার্স।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর ‘অপহরণ’ এবং নাটকীয়ভাবে ক্ষমতা থেকে অপসারণের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তজনা ছড়িয়ে পড়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। খোদ ইসরাইলী রাজনীতিবিদেরা ইরানকে সতর্ক করে বলছেন, ভেনিজুয়েলার পরিণতি থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলায় এই অভিযান পরিচালিত হলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাদুরোর অপসারণ কেবল ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের পূর্বপ্রস্তুতি।
মাদুরোকে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইলী রাজনীতিবিদ ইয়াইর লাপিদ তেহরানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ভেনিজুয়েলায় যা ঘটছে, ইরানের শাসকদের সেদিকে নিবিড় নজর দেওয়া উচিত। এর আগে গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুণর্ন্মািণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সেখানে হামলা চালাবে।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) প্রেসিডেন্ট জামাল আবদি বলেন, এই নতুন অরাজকতা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। মাদুরোর অপহরণ ইরানকে এমন কিছু করতে প্ররোচিত করতে পারে যা সরাসরি সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাবে।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি-এর সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি বলছেন, ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমালিস্ট’ লক্ষ্য কূটনীতির সম্ভাবনাকে ম্লান করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, তেহরান থেকে যা শুনছি তা হলো, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এমনভাবে আলোচনা করতে আগ্রহী নয় যেখানে যুক্তরাষ্ট্র শুধু ‘আত্মসমর্পণ’ চায়। বর্তমানে ইসরাইল, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সংঘাতের পথে রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, মাদুরোর সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং হিজবুল্লাহকে লাতিন আমেরিকায় জায়গা করে দেওয়ার অভিযোগই এই পদক্ষেপের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ট্রাম্প যখন বলেন তিনি কিছু করবেন, তখন তিনি সত্যিই তা বোঝান।
মাদুরোকে অপহরণের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আমরা শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করব না। আমরা শত্রুকে নতজানু করিয়ে ছাড়ব। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর ‘অবৈধ আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান মার্জরি টেইলর গ্রিন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভেনিজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সামাল দেওয়া সহজ হবে। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা যুদ্ধের সময় ইরান বন্ধ করে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভেনিজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘কুশন’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে বিশ্লেষক মোর্তাজাভি মনে করেন, ভেনিজুয়েলায় ট্রাম্পের এই অভিযান হয়তো সহজ হবে না। যদিও ট্রাম্প ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ পছন্দ করেন না, তবে তিনি ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সেনা মোতায়েনের শঙ্কা উড়িয়ে দেননি।
বর্তমানে ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই অপহরণের পেছনে ‘জায়নবাদী’ হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্প তাকেও সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন দাবি না মানলে তাকে মাদুরোর চেয়েও ‘বড় মূল্য’ দিতে হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পরও যদি দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা তার পরিকল্পনার সঙ্গে সহযোগিতা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার ওপর দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলা চালাতে পারে। গত রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ হুমকি দেন তিনি। তার এই মন্তব্য লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের আবারও সামরিক হস্তক্ষেপের শঙ্কা উসকে দিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক প্রবাহ কমাতে ব্যর্থ হলে কলম্বিয়া ও মেক্সিকোও সামরিক চাপের মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেছেন, অপারেশন কলম্বিয়া, শুনতে আমার কাছে বেশ ভালোই লাগছে। এছাড়া ভেনিজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সামরিক পদক্ষেপ ছাড়াই নিজে নিজেই ভেঙে পড়তে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ভেনিজুয়েলায় মাদুরোর ঘনিষ্ঠ শীর্ষ কর্মকর্তারাই এখনও রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছেন। তারা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করাকে অপহরণ বলে উল্লেখ করেছেন। ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দল পিএসইউভি প্রকাশিত এক অডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বলেন, এখানে বিপ্লবী শক্তির ঐক্য প্রশ্নাতীত। এখানে একমাত্র একজনই প্রেসিডেন্ট, তার নাম নিকোলাস মাদুরো মোরোস। শত্রুর উসকানিতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেলমন্ত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মাদুরোই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, ৩ জানুয়ারি ভোরে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানের আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
মাদুরোর পাশে থাকার ঘোষণা ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পরও ভেনিজুুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার তাকে নেতা মেনে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছে। গত রোববার এমন দাবি করেছেন দেশটির শীর্ষ এক কর্মকর্তা। মার্কিন অভিযানে মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভেনিজুয়েলায় মাদুরোর ঘনিষ্ঠ শীর্ষ কর্মকর্তারাই এখনও রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছেন। তারা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করাকে অপহরণ বলে উল্লেখ করেছেন। ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দল পিএসইউভি প্রকাশিত এক অডিও বার্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো বলেন, এখানে বিপ্লবী শক্তির ঐক্য প্রশ্নাতীত। এখানে একমাত্র একজনই প্রেসিডেন্ট, তার নাম নিকোলাস মাদুরো মোরোস। শত্রুর উসকানিতে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।
মাদুরো নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে সোমবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা। শনিবার চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরানো অবস্থায় ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোর ছবি প্রকাশিত হয়।রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩৭ বছরে পানামা আক্রমণের পর লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিতর্কিত হস্তক্ষেপ এই ঘটনা।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ভ্লাদিমির পাদ্রিনো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেনাসদস্য, বেসামরিক নাগরিক এবং মাদুরোর নিরাপত্তা বহরের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব হত্যাকাণ্ড ঠান্ডা মাথায় করা হয়েছে। দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেলমন্ত্রী ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মাদুরোই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের এমন দাবি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন। অন্য দিকে, ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রদ্রিগেজ সঠিক কাজ না করলে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ভেনিজুয়েলার পরবর্তী নেতৃত্বকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে তেল শিল্পকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাত থেকে দূরে রাখা এবং মাদক পাচার বন্ধ করা। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী ট্যাংকার আটকে রেখে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভেনিজুয়েলা সরকার অভিযোগ করছে যুক্তরাষ্ট্রের আসল লক্ষ্য তাদের তেল সম্পদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলো বলেন, সবকিছু এখন স্পষ্ট তারা শুধু আমাদের তেলই চায়।
এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল সোমবার এই পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল। রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলা আক্রমণের কঠোর সমালোচনা করেছে।
মার্কিন বিনিয়োগের বড় ধরনের আশ্বাস সত্ত্বেও ভেনিজুয়েলায় তেল উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা। কারণ গভীর কাঠামোগত ক্ষতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে নিরুৎসাহিত করছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ক্রিসওয়েল কনসালটিংয়ের ডিরেক্টর অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মার্ক ক্রিশ্চিয়ান বলেন, “মার্কিন কোম্পানিগুলো মুনাফা এবং ন্যুনতম নিরাপত্তার আশ্বাস না পেলে ভেনিজুয়েলার তেলের খনিগুলোতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে না।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে ভেনিজুয়েলার আইন সংস্কারের অপেক্ষা করবে।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে রাখা হয়েছে নিউইয়র্কের সমস্যা জর্জরিত ব্রুকলিস কারাগারে। এখানে অতীতে সংগীতশিল্পী আর. কেলি এবং শন ‘ডিডি’ কম্বসের মতো আলোচিত বন্দিরাও এক সময় বন্দি ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে চালু হওয়া মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি ব্রুকলিন)-এ বর্তমানে প্রায় ১৩০০ বন্দি রয়েছেন। ম্যানহাটান ও ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন আসামিদের জন্য এটি মূলত অস্থায়ী আটকের জায়গা। সেখানে গ্যাং সদস্য, মাদক পাচারকারী থেকে শুরু করে হোয়াইট-কলার অপরাধে অভিযুক্তদেরও রাখা হয়। শনিবার রাতে অসংখ্য ভেনিজুয়েলান প্রবাসীর অনেকেই জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে জেলখানার বাইরে ফুটপাথে জড়ো হয়ে মাদুরোর গ্রেপ্তার উদযাপন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কনভয়টি ক্ষমতাচ্যুত নেতা ও তার স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছালে তারা উল্লাস করেন।
এই কারাগারে বন্দি হওয়া প্রথম প্রেসিডেন্ট নন নিকোলাস মাদুরো। এর আগে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজও যুক্তরাষ্ট্রে শত শত টন কোকেন পাচারের অভিযোগে বিচার চলাকালে এমডিসি ব্রুকলিনে আটক ছিলেন। তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড পেলেও ডিসেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমায় মুক্তি পান। বর্তমান বন্দিদের মধ্যে রয়েছেন মেক্সিকোর সিনালোয়া মাদক কার্টেলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইসমাইল ‘এল মায়ো’ সামবাদা গার্সিয়া এবং লুইজি মানিওনে- যিনি ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের সিইও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত। অতীতের বন্দিদের মধ্যে ছিলেন ক্রিপ্টো ব্যবসায়ী স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড এবং জেফ্রি এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল।
পাশেই উপত্যকা সমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চলে, একটি শপিং মলের পাশে এবং স্ট্যাচু অব লিবার্টির সামনাসামনি অবস্থিত এই কারাগারটিকে সবচেয়ে খারাপ সময়ে ‘পৃথিবীর নরক’ এবং ‘চলমান ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বন্দি ও তাদের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ করে আসছেন। ২০২৪ সালে দুই বন্দি অন্য বন্দিদের হাতে নিহত হন এবং কয়েকজন জেলকর্মী ঘুষ গ্রহণ ও চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ২০১৯ সালের শীতে এক সপ্তাহের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কারাগারটি অন্ধকার ও প্রচণ্ড ঠান্ডায় আচ্ছন্ন হয়। তবে সম্প্রতি ফেডারেল কারাগার ব্যুরো জানিয়েছে, পরিস্থিতি উন্নত করতে তারা কাজ করছে। এমডিসিতে অতিরিক্ত কারা ও চিকিৎসা কর্মী যোগ করা হয়েছে। সাত শতাধিক অমীমাংসিত রক্ষণাবেক্ষণ ত্রুটি সমাধান করা হয়েছে এবং বিচারকদের উদ্বেগেরও জবাব দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, খাবার পরিবেশন, গরম ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায়ও উন্নয়ন আনা হয়েছে।
কারাগারের ভেতরের অপরাধ দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে। গত মার্চে ২৩ বন্দিকে অভিযুক্ত করা হয়। কারও বিরুদ্ধে ডরিটোস চিপসের প্যাকেটে অস্ত্র চোরাচালান, আবার কারও বিরুদ্ধে এক খুনের আসামীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ছিল। সেপ্টেম্বরে কারাগার ব্যুরো জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যেখানে বন্দির সংখ্যা ছিল ১৫৮০, তা কমে গিয়ে অপরাধ ও চোরাচালান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সেখানে থাকাকালে যদি প্রাথমিকভাবে কক্ষের বাইরে বের হতে দেয়া হয়, তবে মাদুরো সম্ভবত কিছু পরিচিত মুখও দেখতে পাবেন। তাদের একজন তার সহ-আসামী
, ভেনিজুয়েলান সাবেক গুপ্তচর প্রধান হুগো কারভাখাল। তিনি ২০১৯ সালে মাদুরোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতার ইঙ্গিত দেন। আরও আছেন অ্যান্ডারসন জ্যামব্রানো-পাচেকো। তিনি কথিত ভেনিজুয়েলার ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্য। তাকে গত বছর নিউইয়র্কে অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ডেনভারের এক উপশহরের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা ফুটেজে ধরা পড়েন। এ ঘটনাটি ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারে তুলে ধরেন।
২০২১ সালের পর থেকে এমডিসি আরও বেশি নজরদারির মুখে পড়ে যখন জেফ্রি এপস্টেইনের আত্মহত্যার পর নিরাপত্তা ঘাটতি ও নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে নিউইয়র্কের আরেক ফেডারেল কারাগার, মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টার, বন্ধ করে দেয়া হয়।