ইরানের উপর আমেরিকা ও ইসরাইলের দ্রুত হামলার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তারা আহ্বান জানিয়েছে।

গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ইরান একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেশ। সেই দেশের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনিকে নিজ বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে হত্যা করা প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যবস্থার প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, মার্কিন-ইজরাইলী এই বর্বরতা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভে পরিণত করবে এবং এর অভিঘাত বিশ্বের সকলকেই স্পর্শ করবে। তাই এই সংঘাত বন্ধ করতেই হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই শোকাহত ইরানী জনতার প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।

ইরানের উপর আমেরিকা ও ইসরাইলের দ্রুত হামলার তীব্র নিন্দা. প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়ে আন্দোলন প্রধান আমিরে শরীয়ত আল্লামা আবু জাফর কাসেমী মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মোঃ সাল আকন্দ এক বিবৃতিতে বলেছেন আমেরিকা ও ইসরাইল সারাবিশ্বে যুদ্ধ বাধানোর গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মাহে রমযানের পবিত্র সময়ে যেখানে বিশ্ব মুসলিম পবিত্র রমযানের রোজা রাখা ও ইবাদতে লিপ্ত সেই সময়েই তারা ইরানের উপর হামরা চালিয়েছে। ইরানের স্কুলে হামলা চালিয়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করেছে যা বিশ্বের কোন বিবেকবান মানুষ সমর্থন করতে পারে না। সারা বিশ্ব মুসলিমের উচিত এ সময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাগো চুক্তির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া। ওরা শুধু ইরানকেই নয় একে একে সকল মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে তাদের এই চক্রান্ত কোনভাবেই সফল হতে দেয়া যাবে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন আমেরিকা ইসরাইলকে সহযোগিতা করে নিজেদেরই বিপদ ডেকে এনেছে তারা মুসলিম দেশগুলোতে তাদের যে ঘাঁটিগুলো তৈরি করেছিল সেগুলোর তো ক্ষতি করলোই সাথে সাথে মুসলিম দেশগুলোর সাথে ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দিল।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ইরানের উপর আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলা পবিত্র রমযান মাসে মুসলিম নিধনের গভীর চক্রান্ত। সারা বিশ্ব মুসলিমের উচিত আমেরিকা ও ইসরাইলের এই সকল চক্রান্তের সমুচিত জবাব দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানো।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খোমেনী হত্যা ও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার বাদ আছর রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, মাওলানা আব্দুর রশিদ ফরিদী, হাফেজ আল আমিন প্রমুখ।

মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, পবিত্র মাহে রমযানে যখন বিশ্ব মুসলিম সিয়াম সাধনা ও এবাদতে লিপ্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে ইরানের উপর মার্কিন- ইসরাইলি সামরিক হামলা গোটা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। এ সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বর্বর আক্রমণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়তে পারে। আফগানিস্তানসহ মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংস বা দুর্বল করে এককভাবে বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করাই মার্কিন-ইজরায়েলের মূল লক্ষ্য। অবিলম্বে ইরান এবং আফগানিস্তানের উপর বর্বরোচিত হামলা বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।

মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, মুসলমানরা কখনো অযথা গায়ে পড়ে যুদ্ধে জড়ায় না। যুদ্ধ কখনো শান্তি বয়ে আনে না। কিন্তু আক্রান্ত হলে মুসলমানরা উচিত জবাব দিতে জানে। মক্কার কাফের কর্তৃক মদিনার মুসলমানরা আক্রান্ত হলে রমযান মাসেই বদর যুদ্ধে কাফেরদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছিল। আবু জাহেলদের প্রেতাত্মারা এখনো বিশ্বে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। বিশ্বে শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে আগ্রাসী ও আধিপত্যবাদী মার্কিন ও ইসরাইল সংযমী না হলে বদরের চেতনায় মুসলমানরা আবার গর্জে উঠবে।

মুফতী সুলতান মহিউদ্দিন বলেন, এ ধরনের অন্যায় আক্রমণ অব্যাহত থাকলে সারা বিশ্বে অশান্তি ছড়িয়ে পড়বে এবং কোটি কোটি অভিবাসী নারী পুরুষ ও কর্মীরা কর্ম হারিয়ে বিপাকে পড়বে এবং লাখ লাখ মানুষের প্রাণনাশের কারণ হবে। অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সংকট নিরসনের আহ্বান জানান তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। এক শোকবার্তায় দলটি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে।

দলের চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ ও মহাসচিব মোহাম্মদ আবু হানিফ স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়, যাতে চলমান সহিংসতা বন্ধ হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

নেতৃদ্বয় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই চরম অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। এই সংকট আরও গভীর হলে তার প্রভাব শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো অঞ্চল ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে। বিশেষ করে পবিত্র রমযান মাসে এ ধরনের হামলা বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর মনে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।