বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতের দিল্লির পাশাপাশি কুয়ালালামপুর, হ্যানয় এবং ব্যাংককে অবস্থিত রোমানিয়ার কূটনৈতিক মিশনে ভিসা আবেদন করতে পারবেন। গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে ঢাকায় অফিস না থাকায় হাজার হাজার ভিসাকাক্সক্ষী রোমানিয়াগামী কর্মীকে আর শুধুমাত্র দিল্লিতে ভিসার জন্য ছুটতে হবে না। কমবে দুর্ভোগও সাশ্রয় হবে অভিবাসনে টাকা ও সময়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিকগণ শিক্ষা ভিসা এবং পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসার আবেদন সাধারণত নয়াদিল্লিতে রোমানিয়া দূতাবাসে জমা দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি নয়াদিল্লির রোমানিয়া দূতাবাস কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশি নাগরিকরা শিক্ষা ভিসা এবং পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসার আবেদন এখন থেকে নয়াদিল্লিতে রোমানিয়া দূতাবাসের পাশাপাশি কুয়ালালামপুর, হ্যানয় এবং ব্যাংককে অবস্থিত রোমানিয়ার কূটনৈতিক মিশনেও জমা দিতে পারবেন। গত বছর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সাবেক একজন মহাপরিচালকসহ একাধিক কর্মকর্তার অনৈতিক প্রস্তাবের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে রোমানিয়া সরকারের নির্দেশে ৬ সদস্যের অস্থায়ী ভিসা মিশন অফিস গুটিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

রোমানিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ কমিউনিটি সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব ইউরোপের দেশ রোমানিয়ার শ্রমবাজারে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করার সুযোগ পায়। এখন নানা কারণে বাংলাদেশীদের অবস্থান তিন নম্বরে আছে। যদিও রোমানিয়া সরকার বাংলাদেশী কর্মীদের ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম আরও সহজ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ৬ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী ভিসা অফিস খুলেছিল কাকরাইলের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে। ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে ভিসা দেওয়া শুরুর এক পর্যায়ে অস্থায়ী ভিসা ইস্যু অফিস বন্ধ করে তারা দিল্লিতে চলে যান। এরপর শুরু হয় শ্রমিকদের ভোগান্তি। ভিসা না পাওয়া কর্মীদের লাখ লাখ টাকা এজেন্সি মালিকদের পকেটে আটকে যায়। বেশিরভাগ শ্রমিক এখনো তাদের জমা দেওয়া টাকা তুলতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিন পর রোমানিয়া সরকার তাদের শ্রমিক ঘাটতি অনুভব করতে পেরে আবারও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যে ভিসা অফিস স্থাপনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রোমানিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে রোমানিয়াগামী বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম চালু রাখতে এবং নিয়োগকর্তাদের চাহিদার বিপরীতে রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভিসা জমা দেয়া যাবে কুয়ালালামপুর হ্যানয় ব্যাংককে অবস্থিত রোমানিয়ার কূটনৈতিক মিশনে। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য এটি আবারও একটি সুযোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ প্রায় ২০ হাজারের মতো বাংলাদেশি কর্মী আবেদন করার পরও ভিসা পাননি। অনেকে টাকা দিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষায় থেকেও রোমানিয়ায় যেতে পারেননি। এবার তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের সুযোগ এসেছে। তবে সবাইকে এবার সতর্ক থাকতে হবে।

রোমানিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহনাজ গাজীর সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি, তবে দূতাবাসে একজন কর্মকর্তা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দেশের সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় রোমানিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের আসার সুযোগ তৈরি করে দিতে কাজ করছি।

রোমানিয়া দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘আমরা যতটুকু খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, বাংলাদেশি শ্রমিকদের দিল্লিতে গিয়ে ভিসা পেতে সমস্যা হচ্ছে। এটি রোমানিয়া সরকার জানে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় আন্তর্জাতিক কোনো একটি ভিসা সেন্টারের সহযোগিতায় রোমানিয়া ও বুলগেরিয়াগামী কর্মীদের ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম শুরু করবে। সেই লক্ষ্যে ভিসা জমা দেয়া যাবে কুয়ালালামপুর হ্যানয় ব্যাংককে অবস্থিত রোমানিয়ার কূটনৈতিক মিশনে।

এক প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা বলেন, রোমানিয়া সরকার সিদ্ধান্ত নিলেও তাদের পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত বিল পাস না হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢাকায় ভিসা অফিস খোলার সুযোগ নেই। তাই পার্লামেন্টে অফিস খোলার বিলটি পাস হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।