পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আলী থানায়ুন আব্দুল ওয়াহাব হামাদাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। তারা বাংলাদেশ ও কুয়েতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ এবং যুদ্ধের প্রারম্ভিক পর্যায়ে কুয়েতের প্রতি সংহতি প্রকাশ করায় কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের অ-হস্তক্ষেপ নীতি এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি কুয়েতে প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশী প্রবাসীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করায় দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন, বিশেষ করে জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং হালাল খাদ্য খাতে। তিনি কুয়েতি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কসমূহে বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে কুয়েতের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের প্রশংসা করেন। প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তায় কুয়েতের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রয়োজনবোধে কুয়েতকে মানবিক সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথা জানান। পাশাপাশি তিনি উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মগুলোর নিয়মিত বৈঠক আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে নতুন সুযোগ চিহ্নিত করে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা যায়। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ এবং কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশ-কুয়েত ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মালদ্বীপকে আরো বাংলাদেশী কর্মী নেওয়ার আহ্বান
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মালদ্বীপকে বাংলাদেশ থেকে আরো দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। যেন দুই দেশের শ্রম সহযোগিতা আরো জোরদার হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ১২ মার্চ থেকে মালদ্বীপের জাতীয় বিমান সংস্থা ‘মালদিভিয়ান’-এর মালে-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়টিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালদ্বীপের অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সার্কের আওতায় আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উভয় পক্ষ বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও শ্রমবাজারে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। মালদ্বীপের হাইকমিশনার তার দেশে বাংলাদেশের কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশী পেশাজীবী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এসময় তিনি প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী প্রশংসা করেন।