বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এছাড়া দলের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার আগমন ঘিরে জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে বিএনপির পক্ষ থেকে কয়েক লাখ মানুষ জমায়েতের প্রস্তুতি চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এরইমধ্যে ঢাকায় এসে জড়ো হয়েছেন।

সূত্র জানায়, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট-এই তিন জোনে ভাগ করে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তার ছক। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)। বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওইদিন তার নিরাপত্তা উপলক্ষে মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তার বাসা ও অফিস ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে পুলিশ।

জানা গেছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তার জন্য বুলেটপ্রুফ গাড়ি কিনেছে বিএনপি, যা এরইমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। এছাড়াও টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার প্রাডো এলসি ২৫০ মডেল গাড়ি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে নিবন্ধিত হয়েছে। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দর্শনার্থীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। কেবল যাত্রীরাই এই সময়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

পুলিশ বলছে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সময় পাবেন পুলিশ প্রটেকশনসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এছাড়া তারেক রহমানের বাসভবন ও অফিসেও থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া কাউকে তার ধারেকাছে ভিড়তে দেবে না পুলিশ। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও ছদ্মবেশে গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করবেন। গত ২২ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৮তম সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমানের দেশে নিরাপদ আগমন নিশ্চিত করার জন্য ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমান দেশে যে কোনো স্থানে গমনাগমনের সময় পুলিশ প্রটেকশনসহ পাবেন বিশেষ নিরাপত্তা। তার বাসভবন, অফিসেও থাকবে সার্বক্ষণিক কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দারা তৎপর থাকবেন। তাকে বহনকারী গাড়ির প্রটেকশন দেবে ডিএমপি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে তার নিরাপত্তার দায়িত্বরতদের তালিকা। দেশে ফেরার পর যেকোনো সময় তিনি তার বাবা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে যাবেন। সেদিক বিবেচনায় সেখানেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওইদিন তার নিরাপত্তা উপলক্ষে মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। হাসপাতাল ও বাসা দুটি রুট ঘিরেই নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। দেশে ফেরার আগের রাতেই এই দুই রুট ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, বিমানবন্দর থেকেই তারেক রহমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সূচনা হবে। পুলিশ প্রটেকশনসহ থাকবে নানামুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে তারেক রহমানের আগমনের দিন ঢাকায় ব্যাপক লোকসমাগমের বিষয়টি মাথায় রেখে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রওনক আলম বলেন, আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও একটা নিরাপত্তা নির্দেশিকা দেওয়া হবে। ডিএমপি সদর দপ্তরের সেন্ট্রালি একটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শাহরিয়ার আলী বলেন, ডিএমপির পক্ষ থেকে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে, সে হিসাবে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নিরাপত্তায় পর্যাপ্তসংখ্যক গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।