বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে রাজধানীতে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এ উপলক্ষে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। গত রোববার দুপুর থেকে বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফিট সড়কের একটি অংশ নিয়ে শুরু হয় মঞ্চ তৈরির কাজ।
এই নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য কমিটির সদস্যরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। তারা জানান, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের জন্য দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় নেমে বনানী-কাকলী হয়ে ৩০০ ফিটে যাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেখানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেবেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় আসবেন তারেক রহমান। সব ঠিক থাকলে বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজটি ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।
এদিকে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি পেয়েছে দলটি। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর কাছে এসংক্রান্ত অনুমতিপত্র পাঠিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আগামী ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির কার্যালয়ে বিকাল ৩টার দিকে বৈঠকে বসে সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ ও নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির প্রতিনিধি দলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
তারেক রহমান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তবে তিনি এখনো ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি। তফসিল ঘোষণার পর ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে।
এদিকে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, জল্পনাকল্পনা ও নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তার এ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার সামনে নানা চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাদের মতে, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় কোন্দল নিরসন এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যান্য দলের সঙ্গে বিএনপির সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।