ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর চলমান সংকট নিরসনে স্থগিত নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করে একটি সর্বজনীন ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এফডিইবি)।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী মো. আবু ছাত্তার শাহ ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জয়নুল আবেদীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইডিইবি একটি অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও আইডিইবির কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল না বলে দাবি করা হয়।

তবে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন নেতৃত্ব আইডিইবিকে রাজনৈতিকীকরণ করে সংগঠনটির মৌলিক চরিত্র থেকে বিচ্যুত করেছে বলে অভিযোগ করেছে এফডিইবি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর আইডিইবির তৎকালীন নেতৃবৃন্দ আত্মগোপনে চলে গেলে সংগঠন পরিচালনায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এগিয়ে আসেন। পরে জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সহযোগিতায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

এফডিইবির দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির প্রায় ২১ মাসের দায়িত্বকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের স্বার্থ ও মর্যাদার ওপর বিভিন্ন মহল থেকে বড় ধরনের আঘাত আসে। এ সময় সংগঠনটির নেতারা সদস্য প্রকৌশলী, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের উদ্যোগ নিলেও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন মহলের তৎপরতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

পরে আইডিইবির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা কাউন্সিল অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুপারিশ করা হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করা হলেও প্রথমে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দিয়ে নবায়ন করা হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে এবং কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কার্যক্রম শুরু করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২০ জুন নির্বাচন কমিশন বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করলে একটি প্যানেলের কয়েকজন প্রার্থীকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি ওঠে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এফডিইবির অভিযোগ, সরকারপন্থি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা ঐক্যবদ্ধ প্যানেল গঠনের পরিবর্তে তিনটি প্যানেলে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ জুন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিন দুপুরে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন স্থগিত করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর গত ২৯ জুন এক আদেশে অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি করলেও ২ জুলাই সেই আদেশ বাতিল করা হয়।

এফডিইবি মনে করছে, সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহে ঐতিহ্যবাহী ও সর্বজনীন এই পেশাজীবী সংগঠনটি বর্তমানে গভীর সংকটে পড়েছে।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, বর্তমান সংকটকালে আইডিইবির গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে স্থগিত নির্বাচন সম্পন্ন করা অথবা সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে আরেকটি অনির্বাচিত ও দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি শিক্ষার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র এখনো চলমান রয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে আইডিইবির কেন্দ্রীয় নির্বাচন সম্পন্ন করে একটি সর্বজনীন, নির্বাচিত ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন এবং সংগঠনে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।