শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায় দেওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানেন না বলে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
ওই বক্তব্যের জেরে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানিকালে গতকাল রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল এ কথা বলেন। শুনানি শেষে তাকে একাডেমিক ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদসহ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার জন্য তলব করা হয়। আগামী ৮ ডিসেম্বর তাকে সশরীরে হাজির হয়ে আদালত অবমাননার বিষয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এসময় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ ট্রাইব্যুনাল মানি না- এমন বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।’ সেই সঙ্গে তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফজলুর রহমানের ওকালতির লাইসেন্স আছে কি না সে প্রশ্ন তোলেন।
আদালতে গতকাল রোববার শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম ও মো. মিজানুল ইসলাম। পরে সাংবাদিকদের প্রসিকিউটর তামীম বলেন, ‘আইনজীবী ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে শোকজ জারি করা হয়েছে। আগামী ৮ ডিসেম্বর তার একাডেমিক সার্টিফিকেট ও বার কাউন্সিল সার্টিফিকেট সমেত সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর তামীম। অভিযোগে বলা হয়, একটি টকশোতে ফজলুর রহমান বলেন, ‘এই কোর্টের গঠনপ্রক্রিয়া বলে, এই কোর্টে বিচার হইতে পারে না। এই কোর্টে যারা বিচার করছেন, আমার ধারণা এদের মধ্যে ভেতরে একটা কথা আছে।’