ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভার (২০২৫) মাধ্যমে পরবর্তী পূর্ণ মেয়াদের জন্য পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম। এই সময়ে তাদের নেতৃত্বে বর্তমান পূর্ণাঙ্গ কমিটি দায়িত্ব পালন করবেন। ডিইউজের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভার কর্ম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার। এই সেশন তিনি ডিইউজের সদস্যদের কন্ঠ ভোটের মাধ্যমে বর্তমান কমিটিকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জুন বর্তমান কমিটি সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিল।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মত অনুমোদন ক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিটির অন্যান্য পদে আছেন, সহ-সভাপতি রফিক মুহাম্মদ, খন্দকার হাসনাত করিম ও রাশেদুল হক , যুগ্ম সম্পাদক মোঃ দিদারুল আলম দিদার, কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আলমগীর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান, প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক রফিক লিটন, জনকল্যাণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন রাজ্জাক, দফতর সম্পাদক ইকবাল মজুমদার তৌহিদ এবং নির্বাহী সদস্য পদে আমীর হামযা চৌধুরী, মোঃ নিজাম উদ্দিন (দরবেশ নিজাম), রাজু আহমেদ, এম. মোশাররফ হোসাইন, তালুকদার এএইচএম নুরুল মোমেন (তালুকদার রুমী), মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক (গাযী আনোয়ার), মোঃ আবদুল্লাহ মজুমদার এবং ফখরুল ইসলাম।

সভার উদ্ভোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডিইউজে সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং কর্ম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার। ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, বিএফইউজে’র সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজে’র সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, ডিইউজে’র সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই সিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ও দৈনিক কালের কন্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, ডিইউজে’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন।

সভায় বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, মহান বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা পেয়েছে। বিগত সরকার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। যেসব সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন করার দাবি জানান তিনি। গণমাধ্যম থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মাদের অপসারণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে গেলেও তাদের অনেক দোসর এখনো রয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদকে যদি চূড়ান্তভাবে নির্মূল করতে না পারি তাহলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন হবে না। ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আপসের কোনো সুযোগ নেই। ফ্যাসিবাদকে সুযোগ দেওয়া মানে শত শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা। কাদের গণি চৌধুরী বলেন, কারা ফ্যাসিবাদের দালাল, তা আমরা জানি। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে প্রশংসা করত, অথচ কোনো প্রশ্ন করত না। তেল মেরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিত। মনে হতো প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন যেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। তিনি বলেন, আমরা জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ভুলে যাইনি। আন্দোলনে কীভাবে নিরীহ শিক্ষার্থীদের গুলী করে পাখির মতো হত্যা করেছে। যারা ফ্যাসিবাদের দালাল তাদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেছেন, বিগত সময়ে গণমাধ্যমগুলো স্বৈরাচারী শাসকের তেলবাজি করেছে। মূলধারার গণমাধ্যমের একটি অংশ জনগণকে ভুল তথ্য দিয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু গণমাধ্যম তাদের নৈতিকতা বজায় রেখেছে। তবে বড় মিডিয়াগুলোর অধিকাংশ সাংবাদিক ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখার জন্য তোষামোদি করে ভুল সংবাদ প্রকাশ করেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গণমাধ্যমে ভূমিকা অনস্বীকার্য। দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক সাংবাদিক জীবন দিয়েছে। বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, অতীতের সরকারের দুর্নীতির কারণে দেশ তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়েছিল। বিগত পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে এবং গণমাধ্যমকে ধ্বংস করে দিয়েছে। একজন সৎ সাংবাদিক কখনো ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করে না। সাগর-রুনি হত্যার বিচার যেসব বিশ্বাসঘাতকতাদের কারণে এখনো হয়নি তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন-দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা ও প্রথিতযশা সাংবাদিক শফিক রেহমান নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে তৎকালীন সময়ে কোনো মিডিয়া তেমন কোনো ভূমিকা রাখেনি।