যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, এই অঞ্চলে সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যুদ্ধ বন্ধে রূপরেখা দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ভবিষ্যতে আগ্রাসন বন্ধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তাই এই সংঘাত থামানোর একমাত্র পথ। এছাড়া ইসরাইলী গোয়েন্দা সদর দফতরে ইরান হামলা চালিয়ে। ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইতালীর ঘাঁটিতে ক্ষেপণঅস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আল-জাজিরা, আআিরএনএ, এপি, এএফপি, রয়টার্স।

প্রথম বক্তৃতায় যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের নতুন নেতার

যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বিবৃতি তিনি বলেন, এই অঞ্চলে সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে হামলা করা হবে।

মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাস করে। কিন্তু এই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাবে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। প্রথম দিনের হামলাতেই নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ৮ মার্চ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এরপর এই প্রথম বক্তব্য দিলেন মোজতবা খামেনি। তাঁর রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের রূপরেখা দিলেন ইরানী প্রেসিডেন্ট

ইরানের ওপর চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি জানান, তেহরানের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন বন্ধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তাই এই সংঘাত থামানোর একমাত্র পথ।

ইসরাইলী গোয়েন্দা সদর দপ্তরে হামলা

ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সদর দপ্তর ও দুটি বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম । ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল তেল আবিবে অবস্থিত শিন বেতের প্রধান কার্যালয় এবং দুটি সামরিক বিমান ঘাঁটি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক (আইআরএনএ) জানিয়েছে, হামলাগুলো চালানো হয়েছে ‘পালমাচিম’ ও ‘ওভদা’ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে। এর মধ্যে ‘পালমাচিম’ বিমান ঘাঁটি ভূমধ্যসাগর উপকূলের কাছে ইয়াভনে শহরের পশ্চিমে অবস্থিত, আর ‘ওভদা’ বিমান ঘাঁটি ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। তবে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইল কোনো মন্তব্য করেনি।

যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ১১৩০ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের হিসাবমতে, চলমান যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই দেশটির খরচ হয়েছে ১ হাজার ১৩০ কোটি (১১.৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সামরিক কর্মকর্তারা এই ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আনুমানিক হিসাবের মধ্যে সংঘাত সংশ্লিষ্ট আরও কিছু ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিশেষ করে প্রথম হামলার আগে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও জনবল মোতায়েনের পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা এখানে যুক্ত নেই। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ এই হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে আরও ৬ জাহাজে হামলা

ইরাকের জলসীমায় তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরকবোঝাই ইরানি বোটের হামলায় গতকাল বুধবার এক ক্রু সদস্য নিহত ও দুটি জাহাজ ভস্মীভূত হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে আরও চারটি জাহাজে প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা) হামলার পরপরই এ ঘটনা ঘটল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর সাম্প্রতিকতম এই হামলা ইরান যুদ্ধের এক বড় ধরনের বিস্তার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্য) হামলার শিকার হওয়া জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৬টিতে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল বা তাদের মিত্রদের জন্য ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি তেল রপ্তানি বন্ধের চেষ্টা করে, তবে ওয়াশিংটন আরও কঠোরভাবে দেশটিতে আঘাত হানবে। তিনি তেল কোম্পানিগুলোকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে দাবি করেন, ‘ইরানের নৌবাহিনীর প্রায় সবটাই এখন ধ্বংস হয়ে গেছে।’ইরাকি বন্দর কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, গতকাল গভীর রাতে হামলার শিকার হওয়া জাহাজ দুটি হলো মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘সেফ সি বিষ্ণু’ ও মাল্টার পতাকাবাহী ‘জেফিরোস’। জাহাজ দুটি ইরাক থেকে জ্বালানি পণ্য বোঝাই করেছিল। ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা সোমো জানিয়েছে, ‘সেফ সি বিষ্ণু’ জাহাজটি তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ একটি ইরাকি কোম্পানি ভাড়া করেছিল। আর ‘জেফিরোস’ জাহাজ বসরা গ্যাস কোম্পানির জ্বালানি পণ্য নিয়ে যাচ্ছিল। সোমো আরও জানিয়েছে, ইরাকি জলসীমার ভেতর এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের সময় দুটি জাহাজই আক্রান্ত হয়।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইতালির ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, ইরাকের আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের ইরবিল শহরে ইতালীয় একটি ঘাঁটিতে গতরাতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই হামলার পেছনে কারা থাকতে পারে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি তারা। কুর্দি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ইরবিলে ইতালির প্রায় তিনশো সেনাসদস্য রয়েছে। ইরবিলে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই এই ঘাঁটিটি ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা ও ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

ইরানের একাধিক ড্রোনে কাঁপালো কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একাধিক ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চালানো এই হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোর কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুয়েতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, কয়েকটি ড্রোন দিয়ে বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে কেবল অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে; কোনো হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েত ডিরেক্টরেটের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজহির বরাতে জানিয়েছে, জরুরি পরিকল্পনা অনুযায়ী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সমন্বয়ে ঘটনাটি মোকাবিলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি কুয়েত রাষ্ট্র, এর আমির, জনগণ ও সরকারকে সব ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রার্থনাও করেন।ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকেই কুয়েত বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে। দেশটিতে বহু মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে।

গত রোববারও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় কুয়েতে প্রবেশ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করে নিরাপত্তা বাহিনী। কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। এর আগে কুয়েতের পাবলিক ইনস্টিটিউশন ফর সোশ্যাল সিকিউরিটির সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা হয়। এতে সেখানে বড় ধরনের আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আল-আকসা মসজিদ বন্ধের পদক্ষেপে ৮ মুসলিম দেশের তীব্র নিন্দা

পবিত্র রমযান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখায় ইসরাইলের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বের আট দেশ। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও। প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও সেখানে অবস্থিত উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরাইলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং ধর্মীয় স্থানে অবাধ প্রবেশাধিকারের নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিবৃতিতে বলা হয়, আল-আকসা মসজিদ বা আল-হারাম আল-শরিফ এলাকায় ইসরাইলের এই পদক্ষেপ অবৈধ ও অযৌক্তিক। মন্ত্রীরা এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানান।

তারা আরও বলেন, দখলকৃত জেরুজালেম কিংবা সেখানকার ইসলামিক ও খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানের ওপর ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা শুধু মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত। জর্ডানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জেরুজালেম ওয়াকফ ও আল-আকসাবিষয়ক দপ্তরই এ স্থানের বৈধ ও একমাত্র প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরাইলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক বন্ধ রাখা বন্ধ করার, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এবং মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের চলমান লঙ্ঘন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান করা হয়। এদিকে ইসরাইলী বাহিনী বলছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পুরোনো শহরে প্রবেশ ও ইবাদতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা ফিলিস্তিনিদের অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য জানায়। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি ইতিহাসে একটি বিপজ্জনক নজির এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার স্পষ্ট লঙ্ঘন।

পারস্য উপসাগরে আগ্রাসীদের রক্ত বইবে হুঁশিয়ারি ইরানী স্পিকারের

ইরানের কোনও দ্বীপে আক্রমণ করা হলে পারস্য উপসাগরে আগ্রাসীদের রক্ত বইবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ। বৃহস্পতিবার তিনি এই মন্তব্য করেন। চলমান ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে কালিবাফের এই মন্তব্য নতুন করে বাগযুদ্ধ উসকে দিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই মুহূর্তে এমন মন্তব্য করেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কালিবাফ লিখেন, মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু। তিনি আরও বলেন, ইরানি দ্বীপপুঞ্জে যেকোনও ধরনের আগ্রাসন সব ধরনের সংযমকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবে। আমরা সব ধৈর্য পরিহার করব এবং পারস্য উপসাগরকে আগ্রাসীদের রক্তে ভাসিয়ে দেব। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপ। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এমন জল্পনার মধ্যেই স্পিকারের এই কঠোর বার্তা এলো।

যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করে কালিবাফ বলেন, মার্কিন সেনাদের রক্তপাতের জন্য ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।