সচিবালয় ভাতা দাবিতে সরকারি আচরণবিধি অমান্য করে মিছিল, মিটিং ও আন্দোলন করার পাশাপাশি অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগে ১৪ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ডিএমপি শাহবাগ থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার আসামীরা হলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোমান গাজী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পার্সোনাল অফিসার ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদীউল কবির, স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংযুক্ত পরিষদের সহ-সভাপতি শাহীন গোলাম রব্বানী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক ও সংযুক্ত পরিষদের প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন।
এছাড়া মামলায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আবু বেলাল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক মোঃ কামাল হোসেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক বিপুল রানা বিপ্লব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আলিমুজ্জামান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র রায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ইসলামুল হক, মহসীন আলী, তায়েফুল ইসলাম এবং মন্ত্রী-পরিষদ বিভাগের অফিস সহায়ক মোঃ নাসিরুল হক নাসির।
এর আগে গত বুধবার সচিবালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতা দাবিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে ছয় ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রাখেন। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় দাবি মেনে জিও (সরকারি আদেশ) জারি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর সচিবালয়ের বাদামতলায় আন্দোলন পরিচালনা করা হয়। এই সময় সরকারি আচরণবিধি অমান্য করায় অন্তত চারজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
ডিএমপির ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের যুগ্ম কমিশনার সানা শামীনুর রহমান বলেন, রোববার থেকে সচিবালয় বন্ধের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। যেসব কর্মচারী আইন ভঙ্গ করবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। বৃহস্পতিবারের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা দায়িত্ব অনুযায়ী চারজনকে অন দ্য স্পট গ্রেফতার করেছি। পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় সচিবালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় এলাকায় পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা চালুর ঘোষণা দেওয়ার পরও তা কার্যকর হয়নি। নতুন বেতন কমিশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, বেতন কমিশন বাস্তবায়ন করবে নির্বাচিত সরকার। এর আগে ২২ জুনও সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে অর্থ বিভাগের সামনে কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেছিলেন। সরকার সচিবালয়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে নিয়মিত আদেশ জারি করলেও, কর্মচারীরা বারবার তা অমান্য করে বিভিন্ন দাবিতে সমাবেশ ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।