নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠাসহ সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের জন্যই অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। এ গণভোটের মাধ্যমে জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আর জনগণই হলেন রাষ্ট্রের ও প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক। আর এই মালিকদের অভিপ্রায়ই হলো সর্বোচ্চ আইন। এই অভিপ্রায়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন ও বিধান বাতিল বলে গণ্য হবে। রাষ্ট্রের মালিকগণ ‘গণভোট’ এর মাধ্যমে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার বাস্তবায়ন করার জন্য। কিন্তু ইতোমধ্যে ‘গণভোট’ ও ‘গুম কমিশন” অধ্যাদেশসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বিষয়ক ১৬টি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে সরকার। এসব অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের পর বাতিল হয়ে যাবে। যার ফলে উল্লেখযোগ্য সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়ার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে। টিআইবিসহ বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন। এ বিষয়ে সংবিধানের সাত নাম্বার অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে। এখানে জনগণের অভিপ্রায়কেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। জনগণের অভিপ্রায়ের কারণেই সংবিধান সর্বোচ্চ আইন।
সংস্কার বাস্তবায়নের জন্যই গণভোট
সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞগণ জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট হয়েছিল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এর মাধ্যমে। আর নির্বাচনও এই আদেশের মাধ্যমেই হয়েছে। অন্যথায় নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার আইনী ভিত্তি ছিল না। গণভোটের প্রথম কথাটাই ছিল, "আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এবং জুলাই সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন?" মানে গণভোট হয়েছে জুলাই আদেশের ওপর। জনগণ হ্যাঁ ভোট দিয়ে পাস করে দিয়েছেন। জনগণ শুধু রাষ্ট্রর মালিক নয়, সকল ক্ষমতারও মালিক। তাদের অভিপ্রায়ই হল, সংবিধান। গণভোটে রাষ্ট্রের ও ক্ষমতার মালিকরা জানিয়ে দিয়েছে, জুলাই আদেশকে তাঁরা অনুমোদন করেছেন। এটাই জুলাই আদেশের বৈধতা। এর চেয়ে বেশি বৈধ আর কিছুই নয়। রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করতে পারেন কি না? এ নিয়ে বির্তক থাকতে পারে কিন্তু“ গণভোট” এর মাধ্যমে জুলাই সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য জনগণের নির্দেশ উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই। এটি মানতে সবাই বাধ্য। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো জুলাই সনদের আলোকে করা বেশকিছু প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য যেসব অধ্যাদেশ করা হয়েছে তার অধিকাংশই আইনে পরিণত করা হচ্ছে না। যার কারণে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে আশংকা দেখা দিচ্ছে।
গণভোট ও নির্বাচন একই আইনে
জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এর মাধ্যমে গণভোটের পাশাপাশি একই দিনে নির্বাচনও হয়েছে। অন্যথায় নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার আইনি ভিত্তি ছিল না। ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এরকম কোন ডকুমেন্ট কোথাও কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাহলে এই সময় যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, ইলেকশন কমিশন যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলো কোন আইনের ভিত্তিতে? আইনটা কোথায়? কন্সটিউশন স্কিম নাই। কন্সটিউিশন স্কিমের বাইরে তো আগেই চলে যাওয়া হয়েছে। এখানে শুধুমাত্র রুট আছে আদেশের। আদেশ ছাড়া, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ছাড়া অন্য কোন মেকানিজমে কোন লিগ্যাল ডকুমেন্ট নাই। এই আদেশের ধারা ২ এর (ঞ) এতে বলা হয়েছে, “সংসদ নির্বাচন” অর্থ এই আদেশ জারির অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন।” আদেশটা জারি হয়েছে ১৩ই নভেম্বর। অব্যবহিত পরের নির্বাচন হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি।
আর গণভোট কি? গণভোটের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,Ñগণভোট হলো এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন এই আদেশ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠান করা হবে। তাহলে এই আদেশটা জাতীয় নির্বাচনের সোর্স, গণভোটের সোর্স। আদেশটা না মানলে শুধু জাতীয় নির্বাচন কি হবে? জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে এই আদেশ ছাড়া আর আইনগত কোন সোর্স নেই বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এ বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ এডভোকেট শিশির মনির এক সেমিনারে বলেছেন, নির্বাচনের সংজ্ঞার ভিতরে দেখা যাচ্ছে এই আদেশ জারি করার পরে যে সাধারণ নির্বাচন হবে এইটাই হলো সংসদ নির্বাচন। কারণ কি? ১২৩ অনুচ্ছেদ কার্যকর নাই। ১২৩ অনুযায়ী এখানে কোন সমাধান নাই। এই আইনের পাঁচ ধারায় নির্বাচনের সাথে গণভোটকে রিলেট করা হচ্ছে। পাঁচেÑএই আদেশ জারির অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন এই আদেশ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠিত করা হইবে। তাহলে জাতীয় সংসদের সংজ্ঞা আছে দুইয়ের 'এ'-তে, পাঁচে আছে গণভোট কিভাবে ওটার সঙ্গে ট্যাঙ্গেলড হবে। ছয়ে বলা আছে গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা হবে। ওই আইনটা হলো গণভোট আইন।
তিনি বলেন, এখন গণভোট হলো এটার অধীনে, নির্বাচন হলো এটার অধীনে। এই কথা কিন্তু ভুললে চলবে না। নির্বাচন কিন্তু এই আদেশ বাকি রেখে কোন নির্বাচনের কল্পনা করা যাবে না। এই আদেশের বাইরে গিয়া বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনও হয় নাই, গণভোটও হয় নাই। হা-সূচক ভোট হয়েছে অধিকাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত ছিল একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন। এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ ১৮০ দিন কাজ করবে, ১৮০ দিনের পরে অটোমেটিক বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এবং এটার শপথ কি করে হবে? সংসদ সদস্যদের শপথ যেভাবে হয় এভাবেই হবে। ওইটার শপথ যারা দেন এটার শপথ তারাই দিবেন। ওইটার সভা যেভাবে ডাকা হয় এটার সভা এভাবে ডাকা হয়।
তিনি সংস্কার পরিষদের অধিবেশন প্রসঙ্গে বলেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যাডভাইস করেন নাই, তাই রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকেন নাই। তিনি যে অ্যাডভাইসটা করবেন নাÑএই অ্যাডভাইস তাকে কে করেছে? এইটা একটা সাংঘাতিক প্রশ্ন যে তিনি একটার অ্যাডভাইস করেছেন আরেকটার অ্যাডভাইস করেন নাই। এমপিদের কাছে যে চিঠিটা পাঠানো হয়েছে ওই চিঠিতে দুইটা শপথের কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির সদস্যরা শপথ নেননি।
তিনি আরো বলেন, এখন বড় প্রশ্নÑএকটা আইন অপারেটিভ থাকতে কোন ক্ষমতা বলে এ আইনের বিধানকে তারা লঙ্ঘন করতে পারেন? এটাই ফান্ডামেন্টাল প্রশ্ন। এই আইন তো আছে, বাতিল তো হয় নাই। এই আইন তো রাষ্ট্রপতি বাতিল করে নাই, পার্লামেন্ট বাতিল করে নাই, কোন কোর্ট বাতিল করে নাই। কিছুই করে নাই, কোন স্টে অর্ডার নাই। তাহলে যে কারণে তারা এই জিনিস বাতিল করছেন, ইনঅপারেটিভ করে দিচ্ছেনÑআমার মনে হয় এটা শুধুমাত্র অসাংবিধানিক আচরণ করা ছাড়া এই আইনটাকে তারা ভায়োলেট করতে পারেন না। এটা ডেঞ্জারাস মেজরিটির জোরে এইভাবে যদি প্রতিষ্ঠিত আইনকে ভায়োলেট করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে আর কি করবেন আল্লাহ ছাড়া কেউ কইতে পারে না।
রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, ৩০শে মে ১৯৭৭ মার্শাল ল অর্ডার নম্বর ওয়ান জারি করে গণভোটের ঘোষণা দেন। এই মার্শাল ল অর্ডারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের ভিতরে কাটাছেঁড়া করে এইটাকে একেবারে ক্যান্সারের অপারেশন করেছে। 'অ্যাবসলিউট ফেইথ অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন অলমাইটি আল্লাহ' কোথা থেকে আসলো? বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম কোথা থেকে আসলো? মৌলিক নীতিতে পরিবর্তন কোথা থেকে আসলো? এগুলো সব কিন্তু মার্শাল ল অর্ডার দিয়ে করা।
আদেশ বাস্তবায়নে আইনগত পদক্ষেপ
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এডভোকেট শিশির মনির। তিনি বলেন, একটা নোটিস পাঠাবো, উই আর প্রিপেয়ারিং টু সেন্ড নোটিস টু দি গভর্নমেন্ট যেÑএই আদেশ আইন জীবিত থাকা অবস্থায় এই আইনের এটাতে এটাতে করণীয় বলা আছে। এই করণীয় কাজ না করাটা কেন অবৈধ নয়? আমরা তাদেরকে রিকোয়েস্ট করবো টু কমপ্লাই উইথ দি অর্ডার। দি অর্ডার ইজ স্টিল অপারেটিভ।"
আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র, সক্রিয় ও কার্যকর। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে সংসদ। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোট বাতিল হওয়া কিংবা না হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সেটা সনদের মধ্যেই বলে দেওয়া আছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। বিএনপি মনেপ্রাণে জুলাইকে ধারণ করে।’
জনগণের রায়কে অস্বীকার করাই ফ্যাসিবাদের সূচনা -বিরোধী দলীয় নেতা
গণভোট সংবিধানের চেয়েও সুপ্রিম অবস্থানে থাকে উল্লেখ করে সম্প্রতি বলেছেন গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণকে দেওয়া কথা লঙ্ঘন করেছে। তারা বলছে সংবিধানে গণভোট নেই। আমার প্রশ্ন বাংলাদেশে প্রথম কে গণভোট আয়োজন করেছিল? তখন কি সংবিধানে এটা ছিল? প্রকৃত বিষয় হলো গণভোট হচ্ছে সংবিধানের চেয়েও সুপ্রিম অবস্থানে। জনগণের রায়কে অস্বীকার করাই ফ্যাসিবাদের সূচনা। জুলাইয়ে যেমন নেমেছি তেমন আবার নামবো। জনগণের দাবি আদায় করে ছাড়ব।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত গণভোটের পক্ষে ছিলেন। যখন দেখলেন, দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জিতছেন তখন ঘুরে গেলেন। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে আসুন, সবাই গণভোটে এক হই।
গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায় সরকার-নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করতে চায় সরকার। তারা গুম ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসার পর তাদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে। অথচ বিগত দিনে ইলিয়াস আলীসহ তাদের অনেক নেতাকর্মীই গুম হয়েছে। আমরা মনে করি, বিচারপতি নিয়োগসহ সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল।
টিআইবির ক্ষোভ
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয়-সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের নামে স্থগিত রাখার সুপারিশে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কয়েকটি দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচার বিভাগ যে ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান সিদ্ধান্তে সেই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একইভাবে একটি কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠন হওয়ার যে সমূহ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, অধ্যাদেশটি স্থগিত হওয়ার ফলে উদ্বেগজনক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল। মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা এবং গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধানের অভাবে মানুষের জীবন কতটা দুর্বিসহ হয়ে উঠতে পারে, তা ক্ষমতাসীন দলের প্রধানসহ কর্তাব্যক্তিদের বিস্মৃত হওয়ার কথা নয়! একই সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের জন্য এ অবস্থান আত্মঘাতীমূলক। কারণ তারা প্রায় সবাই ওই ক্ষেত্রগুলোতে আইনগত দুর্বলতা, বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশনের মতো সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকরতার ফলে বহুমাত্রিক অধিকার হরণের ভুক্তভোগী। যদি তারা কর্তৃত্ববাদ ও রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন, তবে অধ্যাদেশগুলো হুবহু বিল আকারে অবিলম্বে সংসদে অনুমোদনের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দেশবাসীকে তার প্রমাণ দেওয়া উচিত।