যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ
আজ থেকে ৪ দিন বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা
দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার ও পরিস্থিতির প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ
কোথাও উৎসব, কোথাও সহিংসতা। মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা। লিফলেট বিতরণ, মিছিল, সমাবেশের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার সমাপ্তি হচ্ছে আজ। এ দীর্ঘ প্রচারণায় সারাদেশে ভোট উৎসবে মেতে উঠেছিল জনগণ। কিন্তু কোথাও কোথাও প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, মারামারি ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। বেশকিছু এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভোটের দিন নিরাপদে ভোট গ্রহণের বিষয়েও বিভিন্ন এলাকায় শঙ্কা রয়েছে। প্রচারণাকালে আচরণবিধি লংঘনসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও আস্থা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনে কাক্সিক্ষত লেভেল প্লেইং তৈরী হয়নি। একদিকে প্রশাসন হেলে পড়ারও অভিযোগ রয়েছে ইসির বিরুদ্ধে। শেষ মুহূর্তেও ইসি “কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার’ মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অবশেষে রাজনৈতিক দলসহ সর্বমহলের প্রতিবাদের মুখে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। আর মাত্র একদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঠিক এ সময়ে ইসির পক্ষ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ইসির প্রতি আস্থাহীনতা তৈরী হয়েছে। ভোট গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে ইসির অদূরদর্শী কোন সিদ্ধান্ত বড় ধরনের বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ রাখার আইনগত বিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি জানান, নির্ধারিত সময়ের পর রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কোনো ধরনের সভা, মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ বা গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের আগে এবং পরে ৯৬ ঘণ্টার জন্য সকল ধরনের মিছিল, জনসভা বা শোভাযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গতকাল সোমবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনো জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল হওয়ায় এবার ৩০০ আসনের পরিবর্তে ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বাধিক ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। সব মিলিয়ে প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্রপ্রার্থী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ১৯৮ জন প্রার্থী। অপর দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইসির সিনিয়র সচিব আরও জানান, সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আস্থা অর্জন করতে পারেনি ইসি
প্রচারণার শেষ দিনের কাক্সিক্ষত লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করতে পরেনি নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দলের প্রতি আস্থা অর্জন করতে পারেনি ইসি। নানা অভিযোগের সুরাহা করলেও বিভিন্ন কার্যক্রমে বির্তক পিছু ছাড়ছে না। গতকাল কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বড় ধরনের বির্তকের মুখে পড়ে। অবশেষে সব মহল থেকে প্রতিবাদ আসতে থাকায় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত রোববার দলটির পক্ষ থেকে ইসিতে গিয়ে অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ বর্তমানে একপেশে হয়ে পড়েছে এবং প্রশাসন সরকারি দল বা বিশেষগোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। দেশব্যাপী হামলা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন অফিসে পুলিশ রেড দিচ্ছে। ঢাকা-১৫ আসনে নারীদের উপর হামলা হচ্ছে বারবার। আমরা আগেই নির্বাচন কমিশনকে এব্যাপারে ব্যববস্থা নিতে বলেছিলাম কিন্তু আমরা দৃশ্যমানা কোনো উন্নতি দেখতে পাচ্ছি না। প্রচারণা সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ করা হয়েছে এসবের কোন প্রতিকার হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল সোমবার তিনি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আবারো অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হঠাৎ সিদ্ধান্ত ও অস্পষ্ট নির্দেশনার কারণে রাজনৈতিক দলগুলোকে বারবার কমিশনে আসতে বাধ্য করা হলে তা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহারের নির্দেশনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দলটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসির স্পষ্ট ও সমন্বিত ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছে।
ভোটের দিন বন্ধ থাকবে সব গাড়ি, তবে চলবে দূরপাল্লার বাস
নির্বাচনকালীন সময়ে ইসির নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দূরপাল্লার রুট, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগরে বাস চলাচল করতে পারবে। এছাড়া দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যেকোনো যানবাহনে যাতায়াত করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে যাত্রীকে দূরপাল্লার যানবাহনের টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ সঙ্গে রাখতে হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশজুড়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি দিনভর নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে এবং মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর তিন দিনের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
গত ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন থেকে জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২:০০টা হতে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২:০০টা পর্যন্ত অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা সারাদেশে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। অন্যদিকে, মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২:০০টা হতে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২:০০টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।
তবে নির্বাচনকালীন সময়ে এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দূরপাল্লার রুট, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগরে বাস চলাচল করতে পারবে। এছাড়া দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যেকোনো যানবাহনে যাতায়াত করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে যাত্রীকে দূরপাল্লার যানবাহনের টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ সঙ্গে রাখতে হবে।
বিদেশে গমনকারী বা বিদেশ হতে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজনের বিমানবন্দরে যাওয়া বা সেখান হতে ফিরে আসার জন্য যানবাহন ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রেও টিকিট বা যথাযথ প্রমাণপত্র প্রদর্শন করতে হবে।
ভোটের দিন প্রার্থী ও নির্বাচনি এজেন্টরা যানবাহন ব্যবহার কীভাবে করবেন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টের চলাচলের জন্য বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহারে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রার্থী ও তার নির্বাচনি এজেন্ট প্রত্যেকে একটি করে ছোট আকৃতির যানবাহন জিপ, কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি বা অটোরিক্সা ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি গাড়িতে চালকসহ (বৈধ লাইসেন্সধারী) সর্বোচ্চ পাঁচজন অবস্থান করতে পারবেন। প্রার্থীর নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত গানম্যান থাকলে তাকেও এ পাঁচজনের মধ্যে গণ্য করা হবে।
যেসব এলাকায় মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনও যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়, সেখানে প্রার্থী ও তার নির্বাচনি এজেন্ট প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুইটি করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি মোটরসাইকেলে চালকসহ (বৈধ লাইসেন্সধারী) অনধিক দুইজন অবস্থান করতে পারবেন। নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রার্থী ও তার নির্বাচনি এজেন্ট প্রত্যেকে নৌযান চালকসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন করে চলাচল করতে পারবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, যানবাহনে অবস্থানকারী ব্যক্তির প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট ও গানম্যান ব্যতীত অন্যদের জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট আবেদন করে পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের প্রদত্ত স্টিকার সংশ্লিষ্ট যানবাহনে প্রদর্শন করতে হবে।
এ ছাড়া প্রার্থী ও নির্বাচনি এজেন্ট ব্যতীত তাদের সঙ্গে থাকা অন্য কেউ ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার ও পরিস্থিতির প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর ভোট দেওয়ার হার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টায় থেকে শুরু করে বেসরকারি ফল না পাওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ইসি জানায়, রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ভোটগ্রহণ চলাকালে নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর অন্তর ভোট দেওয়ার হার, ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসার থেকে প্রাপ্ত ভোট গণনার বিবরণী পাঠাতে হবে। এবারের নির্বাচনে ফল দ্রুত ও নির্ভুলভাবে আদান-প্রদানের জন্য ঊগঝ (ঊষবপঃরড়হ গধহধমবসবহঃ ঝুংঃবস) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে। সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা তাদের নির্ধারিত কেন্দ্রের ফল এন্ট্রির জন্য দুইজন করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করবেন। এই অপারেটররা কেন্দ্রভিত্তিক ফল (ফরম-১৬) স্ক্যান ও আপলোড করবেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যদি কোনো পোস্টাল ভোট না-ও পান, তবুও ফলাফলে তা 'শূন্য' (০) লিখে এন্ট্রি করতে হবে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় পোস্টাল ভোটের হিসাব পদ্ধতিগতভাবে একীভূত করে ফরম-১৮ তে সন্নিবেশ করতে হবে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ফলাফল গেজেটে প্রকাশের সুবিধার্থে একীভূত ফলাফল বিবরণী (ফরম-১৮) ও নির্বাচনের রিটার্ন (ফরম-১৯)-সহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনে হার্ড কপি ও সফট কপি আকারে পাঠাতে হবে।
উল্লেখ্য, চূড়ান্ত বার্তা শিটে অবশ্যই রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষর থাকতে হবে এবং তা জগঝ (জবংঁষঃ গধহধমবসবহঃ ঝুংঃবস)-এ আপলোড করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে রিটার্নিং অফিসারের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আংশিক ফলাফলে স্বাক্ষর করতে পারবেন, তবে তাদের নমুনা স্বাক্ষর আগেভাগেই ইসিতে জমা দিতে হবে।
আজ থেকে ৪ দিন নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচন ও গণভোট প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবে না।
গতকাল সোমবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়, নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ও নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কেউ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না।
আচরণবিধি লঙ্ঘন : ২৫৯ মামলায় ৩২ লাখ টাকা জরিমানা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে বইছে ভোটের হাওয়া। তবে প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমে আইন মানার ক্ষেত্রে শৈথিল্য দেখাচ্ছেন অনেক প্রার্থী ও সমর্থক। গত এক মাসে সারাদেশে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ২৫৯টি মামলা দায়ের করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব মামলায় জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে মোট ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা।
গতকাল সোমবার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
মাসব্যাপী অভিযানের চিত্র প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাসব্যাপী অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ৪৬১টি ঘটনা চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে ২৫৯টি ঘটনায় সরাসরি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এক দিনে সর্বোচ্চ জরিমানা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ ৩৩টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ১৩টি মামলার বিপরীতে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
সর্বশেষ তিন দিনের হিসাব নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সবশেষ তিন দিনেও ছিল কড়া নজরদারি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২৮টি আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় ১২টি মামলা এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি ২৮টি ঘটনায় ৮টি মামলা এবং ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ২২টি ঘটনায় ১০টি মামলা এবং ৮৭ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে সারাদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রার্থী বা দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।