বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলনে গুণিজনদের এ্যাওয়ার্ড দিলো বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি। গতকাল শুক্রবার বিয়াম অডিটরিয়ামে বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলন ও এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিম এবং অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটির সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান এবং সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি আরশাদ মঞ্জুর চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন মেজর জেনারেল মাহবুব উল আলম (অব.)। বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে প্রফেসর মাহবুব আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আব্দুল হাকিম আজিজ (অব.) ও প্রফেসর ড. শামীমা তাসনিম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুরআনের আলো বিস্তার, আলোকিত সমাজ গড়া, সমাজ সেবা ও শিক্ষা বিস্তারে অবদানের জন্যে বিভিন্ন সময় বিদগ্ধ মনীষীদের এ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোসাইটি এ বছর ৯জন মনীষীকে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি এ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদানের জন্যে মনোনীত করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি এ্যাওয়ার্ড-২০২৬ ও সম্মাননা পত্র প্রদান করা হয় ।
তারা হলেন ইসলামি শিক্ষা ও উলামা ঐক্যে- মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সেবায়- প্রফেসর মাহবুব আহমদ, মানব কল্যাণে অনন্য অবদান- অধ্যাপক আবু নাছের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের, মহিলাদের মাঝে দীনি দাওয়াত বিস্তারে- প্রফেসর ড. শামীমা তাসনিম, জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এ অবদান- জনাব নাহিদ ইসলাম এমপি, আদর্শ প্রশাসক হিসেবে- শাহ আবদুল হান্নান (মরনোত্তর) -আদর্শ প্রশাসক হিসেবে- এ জেড এম শামসুল আলম (মরণোত্তর), কুরআন ও দীন প্রচারে- জনাব মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম (মরণোত্তর), কুরআনের বৈজ্ঞানিক গবেষণায়-এয়ার কমোডর ড. সৈয়দ জিলানী মাহবুবুর রহমান(মরণোত্তর) অবদানের জন্যে এ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে।
মেজর জেনারেল মাহবুব উল আলম (অব.) বলেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি শুধু অর্থনৈতিক বা সামরিক সক্ষমতায় নয়Ñবরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শিক ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল। কুরআনের শিক্ষা মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সততা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা শেখায়, যা একটি সুশাসিত সমাজ গঠনের মূল উপাদান। তিনি সংগঠনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ঘরে ঘরে কুরআন শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত ও সৎ নেতৃত্বে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, বর্তমান মুসলিম উম্মাহ যে নানাবিধ সংকট ও সমস্যার সম্মুখীনÑতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনৈক্য ও বিভক্তি। তিনি পবিত্র কুরআনের আলোকে উল্লেখ করেন যে, মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘আল্লাহর রজ্জু’ দৃঢ়ভাবে ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনার মধ্যেই মুসলিম সমাজের শক্তি, স্থিতিশীলতা ও সফলতার মূল নিহিত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মাওলানা মামুনুল হক আরও বলেন, ভিন্ন ভিন্ন দল বা সংগঠনের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক; তবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা, কুরআনের শিক্ষা প্রসার এবং উম্মাহর কল্যাণের প্রশ্নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ভবিষ্যতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আব্দুল হাকিম আজিজ (অব.) বলেন, একটি শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দেশপ্রেমিক জাতি গঠনে কুরআনের শিক্ষা অপরিহার্য। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কুরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করলে নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব। তিনি তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষায় সুদৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কুরআন শিক্ষা সোসাইটির কার্যক্রম দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রতি তিনি ঐক্য, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রফেসর ড. শামীমা তাসনিম বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি কে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে আরবি ভাষার পাশাপাশি মাতৃভাষায় কুরআন অনুধাবন করতে শিখিয়েছে। ফলে আমরা কুরআনের সাথে পথচলা শিখছি এবং একইভাবে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রকেও কুরআন অনুসরণে পথ চলতে হবে। অনুষ্ঠানে ৫০জন ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি বাবদ নগদ টাকা ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।