বাংলাদেশ কওমী ছাত্রপরিষদের উদ্যোগে ১ম জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৫ -এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক মাওলানা আব্দুর রহিম ও সদস্য সচিব হাফেজ হেলাল উদ্দীনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা পেশ করেন পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু তাহের জিহাদী (হাফি.)। মুহতামিম, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম দেওভোগ মাদরাসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শায়খ আবু নোমান মাদানী (হাফি.)। বিভাগীয় প্রধান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া (বড় মাদরাসা) যাত্রাবাড়ী। মুফতি মিঞা মু. উমর কাজী (হাফি.)। সাবেক কেন্দ্রীয় আহবায়ক, বাংলাদেশ কওমী ছাত্রপরিষদ।
মুফতি আ.স.ম আল আমিন (হাফি.)। সাবেক কেন্দ্রীয় আহবায়ক, বাংলাদেশ কওমী ছাত্রপরিষদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মোকাররম হোসেন শামিম, মো: জাফর উল্লাহ ও অন্যান্য দায়িত্বশীলবৃন্দ।
প্রধান অতিথি তার আলোচনায় বলেন, আমি সত্যিই অভিভূত হিফজুল কুরআনের এরকম একটি সুন্দর উদ্যোগ বাংলাদেশ কওমী ছাত্রপরিষদ গ্রহণ করেছেন এবং আমাদের ছাত্ররা অংশগ্রহণ করে জাতীয় পর্যায়ে এসেছেন। এসময় তিনি ইলম অর্জনের গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেন, আমরা রাসূল সা. থেকে ওয়ারিস সূত্রে ইলম পেয়েছি, আজকে যারা কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করছে তারাই রাসূল সা. এর প্রকৃত উত্তরাধিকারী। তিনি বলেন ইলমই একমাত্র সম্পদ, যা মানুষের মৃত্যুর পরেও তার সঙ্গে থাকে, তার কবরকে আলোকিত করে এবং আখিরাতে উপকারে আসে।
পাশাপাশি, বাংলাদেশ কওমী ছাত্রপরিষদের সকল কার্যক্রমের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও দায়িত্বশীলদের পরিশ্রম কবুলের জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া করেন। প্রধান বক্তা তার বক্তব্যে হিফজুল কুরআনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সময়ে এধরনের আয়োজন আরো বেশি করা দরকার। তিনি ব্যক্তি জীবনের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে রাসূল সাঃ এর সুন্নাহ পালন করার উদাত্ত আহবান জানান এবং হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকা খুবই জরুরী। আমরা হাত বাঁধা নিয়ে মতানৈক্য করছি অথচ ইসলামবিরোধীরা আমাদের হাত দুটোই কেটে দিচ্ছেন। তিনি বর্তমান সময়ে সকল বিভেদ ভূলে ঐক্যের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য যে, সারা দেশে বিভাগীয় পর্যায়ে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে আজ ৩০ মে (শুক্রবার) উক্ত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বাছাইপর্ব ও পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে ২গ্রুপের প্রথম ৩ জন করে ৬ জনসহ মোট ৮ বিভাগের ২৮ জনকে পুরষ্কৃত করা হয়।
ক গ্রুপ থেকে ১ম স্থান অধিকার করেন ঢাকা বিভাগের প্রতিযোগি মু. মুসলিম, ২য় স্থান অধিকার করেন রংপুর বিভাগের প্রতিযোগী আদনান সামী ও ৩য় স্থান অধিকার করেন ঢাকা বিভাগের মো. আব্দুল্লাহ।
খ গ্রুপ থেকে ১ম স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিযোগি আব্দুল্লাহ সালমান, ২য় স্থান অধিকার করেন সিলেট বিভাগের প্রতিযোগী রায়হান আহমদ ও ৩য় স্থান অধিকার করেন ঢাকা বিভাগের নাজিব আহমেদ।
অনুষ্ঠান শেষে মেহমানদের মাধ্যমে ১ম স্থান, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারীদেরকে যথাক্রমে নগদ ২০,০০০/-, ১৫,০০০/-, ১০,০০০/-, ৪র্থ থেকে ১০ম স্থান অর্জনকারীকে ৩০০০/- এবং ১১ম স্থান থেকে ১৫তম স্থান অর্জনকারী প্রত্যেককে নগদ ২,০০০/- টাকা পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।