- পালানোর পথ খুঁজছে ইসরাইল
- তেল রফতানি করতে দেবে না তেহরান
- মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন মার্কিন ক’টনীতিকরা
- তেহরান বিস্কোরণে নিহত ৪০
- সংকট সমাধানে ট্রাম্পকে পুতিনের প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্য চলমান যুদ্ধ কবে শেষ হবে তা ইরানই নির্ধারণ করবে। দেশটি যতদিন প্রয়োজন ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালাবে ইসরাইলের কিছু কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে পিছু হর্টার পথ খুঁজছেন। হামলার শস্কায় মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন মার্কিন ক’টনীতিকরা। ইরান তেল রফতানি করতে দিবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। দিকে ট্রাম্পকে রাশিয়ার প্রেসিযেন্ট ইরান সংকট সমাধনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ ছাড়া ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর ভাই এবং অপর একজন ইসরাইলী নিহত হওয়ার অপরদিকে পূর্বে তেহরানের একটি আসাবকি এলাকায় ভয়াবহ হামলায় ৪০ জন ইরানী নিহত হয়েছেন। ইদ্দো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত। আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই, টাইমস অব ইসলামাবাদ, ওয়াশিংটন পোস্ট,রয়র্টাস, এপি।
যুদ্ধ শেষ হবে আমাদের হাতেই
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ কবে শেষ হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করবে বলে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাল্টা এই অবস্থান জানালো তেহরান। বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ডস বলেছে, আমরাই এই যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করব। এই অঞ্চলের সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে; মার্কিন বাহিনী এই যুদ্ধ শেষ করতে পারবে না।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে কোনও তেল রফতানি করতে দেওয়া হবে না। বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, ইরানের ওপর হামলা চললে এক লিটার তেলও রফতানি হতে দেবে না তেহরান।
ইরানের এমন হুমকির বিপরীতে আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধের কোনও চেষ্টা করা হলে ইরানকে ‘মৃত্যু, আগুন ও ক্রোধের’ মুখোমুখি হতে হবে। ট্রাম্প আরও হুমকি দেন যে, ইরান যদি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায়, তবে তাদের ওপর আগের চেয়ে ‘২০ গুণ শক্তিশালী’ হামলা চালানো হবে। এদিকে রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি উন্নত রাডার সিস্টেম এবং বেশ কিছু দামি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, ট্রাম্পের এমন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছে আইআরজিসি। একই সঙ্গে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কমিয়ে দিয়েছে বলে যে গুঞ্জন রয়েছে, তাও প্রত্যাখ্যান করেছে বাহিনীটি। তারা জানিয়েছে, বর্তমানে ইরান আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করছে, যার একেকটি ওয়ারহেডের ওজন এক টনেরও বেশি।
যতদিন প্রয়োজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলবে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ‘দ্রুত’ শেষ হওয়ার পূর্বাভাস দিলেও তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনও ধরনের আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। যতদিন প্রয়োজন এবং যতক্ষণ সময় লাগবে, ততদিন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সুসজ্জিত ও প্রস্তুত। সাক্ষাৎকারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা এখন আর তাদের কার্যসূচিতে নেই। ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতাকে ‘অত্যন্ত তিক্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য খুব খারাপ। গত জুনে এবং এবারের হামলা; উভয় ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে।
এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেবে না ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। তেহরানের এই হুমকির প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করে, তবে দেশটিকে এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোর হামলার মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্পের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইরানের এমন কিছু স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে, যা একটি রাষ্ট্র হিসেবে তাদের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই পাল্টাপাল্টি হুমকিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধের ব্যাপক বিস্তৃতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত আইআরজিসি-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে তা কেবল তারাই নির্ধারণ করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ ‘শিগগির’ শেষ করার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তার জবাবে রেভল্যুশনারি গার্ডস বলেছে যে যুদ্ধের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ এখন তাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে এবং মার্কিন বাহিনী এককভাবে এই সংঘাত থামাতে পারবে না।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বিভিন্ন তেলের ডিপোতে চালানো ভয়াবহ হামলার কথা উল্লেখ করে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা পুরো অঞ্চলের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দেবে। ইতিমধ্যে যুদ্ধের কারণে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ইরানের এই অনড় অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের ওপর মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে।’
ট্রাম্পের এই বার্তাটি সরাসরি তেহরানের সামরিক নেতৃত্বের প্রতি একটি চরম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তিনি তার পোস্টের শেষে উল্লেখ করেছেন যে তিনি আশা ও প্রার্থনা করেন যেন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে না পৌঁছায়, তবে সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ করা হয়, যা বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে। ইরানের নতুন নেতৃত্বের অধীনে আইআরজিসি-র এই কঠোর অবস্থান এবং ট্রাম্পের ‘২০ গুণ শক্তিশালী’ হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগরে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বর্তমান এই সংকটের ফলে জ্বালানি তেলের মূল্য আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছে ইসরাইল
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলা নিয়ে ইসরাইলের কিছু সিনিয়র কর্মকর্তা এখন উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা যুদ্ধ থেকে পিছু হটার সম্ভাব্য পথ বা এক্সিট র্যাম্প খুঁজছেন। এই যুদ্ধ অঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য আরও ক্ষতিকর হওয়ার আগেই থামানো দরকার বলে তারা মনে করছেন। যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। হামলা থামানো বা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। তিনি এখনো সম্পূর্ণ জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে অটল আছেন। রোববার টেলিফোনে ওয়াশিংটন পোস্টের কথা হয় ইরান যুদ্ধের পরিকল্পনা ও কৌশল সম্পর্কে জানা এক সিনিয়র ইসরাইলী কর্মকর্তার সঙ্গে। পরিস্থিতির স্পর্শকাতরতার কারণে তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন। প্রথমে তিনি ইরান সরকারের নমনীয় সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছিলেন।
আলোচনার বিরুদ্ধে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থান আরও শক্ত হতে পারে। কারণ রোববার ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছেলে। তিনি কট্টরপন্থী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে তার বাবার চেয়েও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আলোচনার টেবিলে বসার মানুষ নন।
ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা ও তার মতো আরও অনেকের উদ্বেগের কারণ হলো যুদ্ধের বাড়তে থাকা খরচ। উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর ট্রাম্প নিজেও জনসমর্থন ছাড়াই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন। ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেন, ‘শাসন উৎখাত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াটা আমাদের স্বার্থে কি না তা নিশ্চিত নই। কেউ অনির্দিষ্টকাল ধরে যুদ্ধের ময়দানে থাকতে চায় না।’
তিনি জানান, ইসরাইল ও আমেরিকার বোমা হামলা তার সামরিক লক্ষ্য পূরণের কাছাকাছি এসে গেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবশিষ্ট অংশ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং সামরিক, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব ধ্বংস করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা শাসন উৎখাত চাই, কিন্তু এটাই একমাত্র সমাপ্তি নয়।’ প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলো ধ্বংস হলে ‘ইসরাইল তার লক্ষ্য অর্জন করবে’ বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘ইরান আত্মসমর্পণ করবে না, কিন্তু মার্কিন শর্তে যুদ্ধবিরতি মানতে রাজি হওয়ার বার্তা দিতে পারে।’
ইরানের পালটা হামলার শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন আরও মার্কিন কূটনীতিক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার মুখে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তুরস্ক ও সৌদি আরব থেকে আরও বেশ কিছু সংখ্যক কূটনীতিক ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ তুরস্কের আদানায় অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটের অপরিহার্য নয় এমন কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর একদিন আগেই গত রোববার সৌদি আরবে নিযুক্ত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের জন্যও একই ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতের জেরে ইরানের দিক থেকে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি আসায় এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি। তবে প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই পররাষ্ট্র দপ্তরের এই পদক্ষেপকে অপরিকল্পিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের জন্য অনিশ্চয়তার কারণ হিসেবে দেখছেন। এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের প্রাথমিক হামলাগুলো মোকাবিলা করতেই এ পর্যন্ত প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যয় হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সামরিক ব্যয় এবং কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। উদ্ভূত এই সংকটের কারণে আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মিশনেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত
যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইেলর যৌথ হামলার জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এবার ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ইরানের হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বাড়িতে আগুন লাগার খবর দিয়েছে গণমাধ্যম।বরাতে এক প্রতিবেনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক। সম্প্রতি তিনি রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এসব দাবি করেন। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ইদ্দো নেতানিয়াহু। তিনি পেশায় একজন নাট্যকার। স্কট রিটের দাবি, ইসরায়েলের সিজারিয়ায় অবস্থিত নেতানিয়াহুর পারিবারিক বাড়িতে ইরানের হামলায় ইদ্দো মারা গেছেন। স্কট রিট বলেন, ইসরাইলের কয়েক স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে সফলভাবে এই হামলা চালানো হচ্ছে। এটি দেশটির সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনায় বৃহত্তর প্রতিশোধের অংশ। এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে ইরানের পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৪০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আল-জাজিরার প্রতিবেদকেরা ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। সোমবার সারা দিন ধরেই পরিস্থিতি এমন ছিল-প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা অন্তর এ ধরনের বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটছে।
তেহরানে একের পর এক বিস্ফোরণ আবাসিক এলাকায় হামলায় নিহত ৪০
পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৪০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আল-জাজিরার প্রতিবেদকেরা ইরানের রাজধানী তেহরানে কিছুক্ষণ আগে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। সোমবার সারা দিন ধরেই পরিস্থিতি এমন ছিল- প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা অন্তর এ ধরনের বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটছে।সোমবার ইসফাহানসহ অন্যান্য বড় শহরগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি এলাকায় হামলা হওয়ায় সেখানে উদ্বেগ বাড়ছে। এ ছাড়া গভর্নরের কার্যালয়েও হামলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি প্রাচীন প্রাসাদও বোমা হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলী নিহত
সপ্তাহের শুরুতে মধ্য ইসরাইলে চালানো ইরানের এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত এক ইসরাইলী নাগরিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন। সকালে স্থানীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইসরাইলী সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবারের (৯ মার্চ) হামলায় ওই ব্যক্তি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এই সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্য ইসরাইলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মৃত্যুর ঘটনা ইসরাইলের পক্ষ থেকে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে।
দোটানায় যুক্তরাষ্ট্র
আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় বসার প্রস্তাব নাকচ করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি নাকচ করেছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের দাবি, এখন তারা আগের চেয়ে বেশি সংখ্যায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে এবং এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ওজন এক টনেরও বেশি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘২০ গুণ বেশি কঠোর আঘাত’ হানবে। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি বলেছিলেন, চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে’।মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবেও ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একজন নিহত হয়েছেন এবং মধ্য ইসরাইলে আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে তেহরানে রাতভর যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন আল–জাজিরার একজন সংবাদদাতা। রাজধানীর রিসালাত স্কয়ারের কাছে হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলে ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও গোলাগুলি ও হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননে ইসরাইলে হামলায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪৮৬ জন ছাড়িয়েছে।
ইরান যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পকে প্রস্তাব দিলেন পুতিন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান সংকট সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই সমন্বয় প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, মস্কো এখন সেদিকে নজর রাখবে। আজ মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
গত সোমবার পুতিন ও ট্রাম্প টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া কী ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেন, ‘এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে কিছু বলার সুযোগ নেই। আসলে এমন কোনো উদ্দেশ্যও নেই। প্রেসিডেন্ট (পুতিন) তাঁর প্রতিপক্ষের (ট্রাম্প) কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এখন এই অনুমোদন প্রক্রিয়া কতটা এগোয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা।’
পেসকভ আরও বলেন, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনা হওয়ার অর্থ এই নয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে এই সমস্যা সমাধানের মধ্যস্থতাকারী হয়ে গেছেন।
সাংবাদিকদের পেসকভ বলেন, ‘রাশিয়া সাধ্যমতো সহায়তা দিতে প্রস্তুত এবং এটি করতে পারলে খুশিই হবে। তবে আপনারা জানেন, এর জন্য নানামুখী বোঝাপড়া ও সমন্বয়ের প্রয়োজন। তাই আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’
পেসকভ আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া অনেক প্রস্তাব এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
দুই প্রেসিডেন্টের টেলিফোন আলাপে জ্বালানি তেলের ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেন, দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি।
পেসকভ বলেন, ‘না, এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।’