রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও এলাকায় একযোগে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি নজরে এসেছে। গতকাল শনিবার দুপুরের পর থেকে কেন হঠাৎ এত পুলিশ, কোনো বিশেষ পরিস্থিতির আশঙ্কা আছে কি ? এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দেয়। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উদ্যোগে অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে রাজধানীর ৮২ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মূলত নিরাপত্তা শোডাউন পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের নাম মোবিলাইজেশন ড্রিল।
ডিএমপি সূত্র জানায়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই রাজধানীজুড়ে এই কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে গতকাল বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ডিএমপি আওতাধীন ৮২টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় রমনা বিভাগের পুলিশ। সেখানে উপস্থিত হন রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। এসময় শাহবাগ এলাকায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলামকে কর্মসূচি তদারকি করতে দেখা গেছে। একই সময়ে আসাদগেট এলাকায় অবস্থান নেয় ডিএমপির মোহাম্মদপুর বিভাগের একটি দল। ওই দলেন নেতৃত্ব দেন ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা। শ্যামলী স্কোয়ার এলাকায় মোহাম্মদপুর জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল) তারিক লতিফ সামির নেতৃত্ব একটি টিম অংশ নেয়। এছাড়া মিরপুর-১১ নম্বর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় পল্লবী থানা পুলিশের একটি দলের উপস্থিতি দেখা যায়। এসময় পল্লবী থানার ওসি এ.কে.এম আলমগীর জাহান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কমিশনার স্যারের নির্দেশনায় আজকে রাজধানীজুড়ে মোবিলাইজেশন ড্রিল পরিচালিত হচ্ছে। মোবিলাইজেশন ড্রিলের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা মহানগর পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত সেটি নগরবাসীর মধ্যে তু্লে ধরা।
পুলিশ জানায়, এই কর্মসূচির আওতায় সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপি বলছে, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের তৎপরতা নিয়মিতভাবেই অব্যাহত থাকবে।