# সর্বনি¤œ তাপমাত্রা কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি

# কয়েকটি জেলার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে

ঢাকাসহ সারা দেশে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। রোববার রাতের দিকে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্রমজীবী মানুষ বেশি কষ্টে পড়েছেন। অনেক এলাকায় সকালে যান চলাচলেও বিঘœ ঘটছে।

গতকাল রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কিশোরগঞ্জের নিকলী এলাকায়। এতে করে মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এদিন রাজধানী ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ও সকালের দিকে কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে নগরজীবনে শীতের ভোগান্তি বেড়ে যায়।

এদিকে দেশের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। কিশোরগঞ্জের নিকলীতে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে, ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে তাপমাত্রা নেমেছে বেশ কয়েকটি জেলায়। রংপুরে ১১ দশমিক ৫, দিনাজপুরে ১০ দশমিক ৮, সৈয়দপুরে ১১, কুড়িগ্রামে ১২, বগুড়ায় ১১ দশমিক ৮, নওগাঁয় ১২ দশমিক ২, রাজশাহীতে ১২ দশমিক ৬ এবং ঈশ্বরদীতে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

এছাড়া ফরিদপুরে ১৩ দশমিক ৫, গোপালগঞ্জে ১২ দশমিক ৬, মাদারীপুরে ১৩, ময়মনসিংহে ১০, কুমিল্লায় ১১ দশমিক ৫, ফেনীতে ১২ দশমিক ৭, কুষ্টিয়ায় ১২ দশমিক ৩ এবং চুয়াডাঙ্গায় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল।

শীতপ্রবাহের প্রভাব আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। বিশেষ করে রাত ও ভোরে শীতের অনুভূতি বাড়বে এবং কুয়াশার কারণে জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া ভোরের দিকে বাইরে বের না হওয়ার এবং যানবাহন চলাচলে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আজ সোমবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকা ও নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এদিকে ১ জানুয়ারির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোর ও সকালের দিকে নদী অববাহিকা এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

গাইবান্ধায় টানা ৫ দিন সূর্যের দেখা মিলছে না

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় গাইবান্ধায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ বছর পৌষের শুরুতেই প্রচ- শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চারদিন ধরে জেলায় টানা সূর্যের দেখা মিলছে না।

গতকাল রোববার সকাল থেকে গাইবান্ধা শহরসহ জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল। চারদিনেও সূর্যের আলো না পাওয়ায় নি¤œ আয়ের কর্মজীবী মানুষদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। শীতের তীব্রতায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে হাসপাতালে। কৃষকরা ফসলের মাঠে ক্ষেত প্রস্তুত করতে নাকাল হয়ে পড়েছেন। নি¤œ আয়ের মানুষজন শীত নিবারণে পুরোনো শীতবস্ত্র কিনছেন, অনেককে আবার খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

শহরের পৌরসভা পুরাতন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র শীত ও কুয়াশার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে একাধিক গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে কাজে নেমেছেন শ্রমজীবী মানুষ। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় জনসমাগম কম থাকায় রিকশাচালকসহ অনেক কর্মজীবী মানুষকে শীতের কাপড় জড়িয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সূর্যের দেখা না থাকায় কুয়াশায় যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে, ফলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

রিকশাচালকেরা জানান, কুয়াশার কারণে শহরে লোকজন কম, যাত্রীও মিলছে না। শীতের জন্য রিকশায় কেউ উঠতে চায় না। তবুও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঘর ছেড়ে বের হতে হচ্ছে। এদিকে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বেচাকেনা বেড়েছে। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলায় রবি ফসল, বোরো ধানের বীজতলা এবং মৌ খামারিদের মধু সংগ্রহে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। জেলার সাতটি উপজেলার মাঠে সরিষা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল এবং বোরো ধানের বীজতলা রয়েছে।

রংপুরের আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, রোববার সকালে জেলায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। তিনি জানান, আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে কোনো ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত

পঞ্চগড় সংবাদদাতা : হিমেল হাওয়া ও ঘনকুয়াশা থাকায় উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে হাড়-কাঁপানো শীত। বিকেল হতেই উত্তরের হিমেল হাওয়া বাড়িয়ে দেয় শীতের তীব্রতা।

শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ছিন্নমুল ও নি¤œ আয়ের লোকজন শীতের দাপটে কাহিল হয়ে পড়েছে।

শীতের তীব্রতা বাড়ায় বেচা-কেনা বেড়েছে শহরের ফুটপাতের পুরনো মোটা গরম কাপড়ের দোকান গুলোতে। এদিকে গত দুইদিন থেকে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। ঘনকুয়াশা থাকার কারণে জেলার বিভিন্ন সড়কে হেড লাইট জ্বালিয়ে যানবাহন গুলো চলাচল করছে।

একটু উষ্ণতা পাওয়ার জন্য খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে শিশুরা।

শহরের তুলার ডাঙ্গা গ্রামে আব্দুল হালিম জানান, কয়েকদিন থেকে পঞ্চগড়ে তীব্র ঠান্ডা বিরাজ করছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে আয়-রোজগার কমে গেছে। দ্রুত তারা সরকারি- বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছেন।

অটো চালক মামুন জানান, হিমেল বাতাস ও ঘনকুয়াশার কারণে যাত্রী কমে যাওয়ায় আয়- রোজগার কমে গেছে। মালিককে কিস্তি দিতে পারছি না। পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছি।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় মুঠো ফোনে দৈনিক সংগ্রাম কে জানান, কয়েকদিন থেকে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা উঠানামা করছে।

গতকাল রোববার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ৯৫% ।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন,তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে একটু উষ্ণতা দিতে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে জেলার ছিন্নমুল ও নি¤œ আয়ের লোকজন শীত থেকে বাঁচার উপায় খুজে পাবেন বলে জানান।

দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা: দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলায়। গতকাল রোববার সকালে হাওর অধ্যুষিত এই উপজেলায় তাপমাত্রা নেমে আসে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

বেলা সাড়ে ১১টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশের মধ্যে নিকলীতেই সর্বনি¤œ এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববারের তুলনায় আজ সোমবার শীতের তীব্রতা সামান্য বাড়তে পারে। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসজুড়েই শীতের প্রভাব থাকবে এবং শীতের অনুভূতি কমার সম্ভাবনা নেই।

তীব্র এই শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নি¤œ আয়ের মানুষেরা।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মাছুম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।