আজ বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে প্রচারাভিযান শুরু করে এক টানা ৭টি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বুধবার গুলশানে বিএনপির কার্যালয় এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মূখপাত্র মাহাদী আমীন একথা বলেন। তিনি বলেন, সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করবেন তারেক রহমান। এর আগে গতকাল রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিমান যোগে সিলেটে পৌছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। গভীর রাতে হয়রত শাহ জালাল(রহ) মাজার জিয়ারত করেন।

মাহাদী আমীন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট আলীয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন তারেক রহমান। এরপর তিনি মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলা মাঠে, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা মাঠে, ব্রাক্ষনবাড়ীয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদীর পৌর এলাকা সংলগ্ন এলাকায়, নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার রুপগঞ্জের গাউসিয়ায় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। তিনি জানান, সিলেটের পর পরবর্তি সফর হবে চট্টগ্রামে। সেটা পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

মাহাদী আমীন বলেন, এসব সমাবেশে অংশ নিয়ে গভীর রাতে গুলশানের বাসায় ফিরবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী ১৬ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে এবং গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি ও প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ছিলো অনবদ্য ও অভূতপূর্ব ভূমিকা। তাদের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার প্রতিটি সফরে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী শীর্ষ নেতাদের পর্যায়ক্রমে সফর সঙ্গি হিসেবে নিয়ে যাবেন এবং দেশের জন্য তাদের যে সংগ্রাম তাকে মূল্যায়িত করবেন।

সিলেট সফরে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যাচ্ছেন আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মামুন হাসান, আবদুল মোনায়েম মুন্না, কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবন, ইয়াসীন ফেরদৌস মুরাদ এবং রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বেশ কিছু ত্যাগী সংগ্রামী তরুন নেতৃবৃন্দ। সামনের সফরে এরকম আরো নেতারা সম্পৃক্ত হবেন।

জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি প্রথম প্রহরে ঢাকার লেক শোর হোটেলে থিম সং উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসমাইল জবিহউল্লাহসহ কমিটির সদস্য ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

মাহাদী আমীন বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমরা বিশ্বাস করি ইতিবাচকভাবে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু এবং গ্রহনযোগ্য নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সর্বোচ্চ সহনশীলতা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। সকল রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা আহ্বান জানাই নির্বাচন আচরণবিধির পূর্নাঙ্গ প্রতি পালনের মধ্য দিয়ে বহুল আকাক্সিক্ষত নির্বাচনে জনগনের আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা ও গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে এ নির্বাচন একটি অনন্য দৃষ্টি স্থাপন করতে পারবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহাদী আমীন বলেন, বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটার আইডি কার্ড ও বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করা এটি কোনোভাবে কাম্য না। আমরা বলছি, জনগণ যেন এই ব্যাপারে সজাগ থাকেন। কারণ জনগণের অনেক আকাক্সক্ষা আছে এবার ভোট দেবার। সেজন্য কোনো ভাবেই যেন লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড যেন নষ্ট না হয়। আমরা যদি দেখি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘণ করে কেউ সংঘবদ্ধভাবে কোনো জায়গায় পোস্টাল ব্যালেট পেপার দেখলাম প্রবাসে, কোনো কোন্ োজায়গায় আইডি নিচ্ছেন, বিকাশ নাম্বার নিচ্ছেন এগুলো অনাকাক্সিক্ষত।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানাব, আগামী কাল থেকে যে প্রচারণা শুরু হবে সেখানে ইতিবাচক রাজনীতিকে ধারণ করে যেন সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে যাই, আমাদের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরি এবং যেসব অপপ্রচার হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সঠিক অবস্থা নেই।