বাংলাদেশ নিজেই তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাইবে না। একই সঙ্গে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। গতকাল সোমবার দুপুরে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকা’য় দেওয়া এক পোস্টে এ শুভেচ্ছা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘গতকাল (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে আমাদের দেশের বিদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আমরা বৈঠক শুরু করেছি। আমরা তাদের কাছে আমাদের সরকারের বৈদেশিক নীতির আউটলাইন তুলে ধরেছি।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মোটো হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। সবার ওপরে থাকবে বাংলাদেশ। আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো, পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবো না এবং আমাদের নীতিমালা হবে পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যাশনাল ডিগনিটি ও জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমি লক্ষ্য করেছি, তারা আমাদের সরকারের প্রতি গভীর আস্থা এবং আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন’। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি, আমাদের অঞ্চলের এবং বিশ্বের অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম হবো। ড. খলিলুর আরও বলেন, ‘আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো, কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব। আমাদের সব ইস্যু আমরা পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্মানজনকভাবে সমাধান করবো। আগামী দিনে আমরা অত্যন্ত গতিশীল বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা সৌজন্যমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছি। ভবিষ্যতে আমরা স্পেসিফিক বিষয় নিয়ে আলাপ করবো, এজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন পোস্টে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন। আমাদের দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।