রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাথায় গুলীবিদ্ধ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই জুলাই যোদ্ধার কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরলেও সার্বিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মেডিকেলে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওসমান হাদী এখনো শঙ্কামুক্ত নন। ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। হাদীর সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস।
এদিকে হাদীকে গুলী করা দুর্বৃত্তদের ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে- হাদীকে গুলী করা ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে তারা সনাক্ত করে ফেলেছে। তার নাম-পরিচয় সব কিছুই এখন পুলিশ গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে। তবে বার বার স্থান পরিবর্তন করায় গ্রেফতারে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়াও ওই ব্যক্তির পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া গেছে। গুলী করার ঘটনায় সন্দেহভাজন শনাক্ত করা ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। ফয়সাল করিম নামের এই ব্যক্তি কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য হয়েছিলেন। তার পুরো নাম ফয়সাল করিম দাউদ খান। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে গুলীবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের প্রার্থী ওসমান হাদী। মোটরসাইকেলে থাকা আততায়ী তাকে গুলী করে মোটরসাইকেলে করেই পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, পেশাদারদের যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে ফয়সাল করিমের নামে প্রোফাইল আছে। এই অ্যাকাউন্টটি যে ফয়সালেরই তা ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা নিশ্চিত করেছেন। ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের দমনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মাঠে ছিলেন বলে ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, ওসমান হাদীর ওপর গুলীর ঘটনায় সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য (রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও গোলাম রাব্বানী নেতৃত্বাধীন কমিটি) ফয়সাল করিম দাউদ খান একই ব্যক্তি। ওসমান হাদীকে গুলীর ঘটনায় নাম আসার পর ফয়সাল করিমের সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের দুইবারের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতার ছবি ফেসবুকে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে হাদীর সঙ্গে ঢাকা-৮ আসনে গণসংযোগ এবং বাংলামোটরে হাদীর প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের আড্ডায় ফয়সালের অংশ নেওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন, ফয়সাল করিম ওসমান হাদীকে বেশ কিছুদিন ধরে অনুসরণ করছিলেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সহযোগিতা ও সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে ‘ব্যাটল অব ৭১’ নামে একটি কম্পিউটার গেম তৈরি করেছিল ফয়সাল করিমের মালিকানাধীন ওয়াইসিইউ টেকনোলজি লিমিটেড। সে বছরের নভেম্বরে ওই গেমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসিসের তৎকালীন সভাপতি এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারও উপস্থিত ছিলেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক নির্বাচন পরিচালনা ও সমন্বয়ক কমিটি করেছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এই আসনের সমন্বয়ক কমিটির সদস্য ছিলেন ফয়সাল করিম।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের চতুর্থ তলায় অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলার প্রধান আসামী ছিলেন ফয়সাল করিম। মামলা হওয়ার কিছুদিন পর ৭ নভেম্বর আদাবর এলাকা থেকে ফয়সাল করিমকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি গুলী, তিনটি মোবাইল ফোন ও পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই মামলায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান ফয়সাল। জামিনের সময়সীমা বাড়াতে গত ১২ আগস্ট আবারও আবেদন করলে হাইকোর্ট নতুন করে তার এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনে থাকা অবস্থায় এবার তার বিরুদ্ধে ওসমান হাদীকে গুলী করার অভিযোগ এল। এ রকম লুটের ঘটনায় দুটি অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি এত অল্প সময়ের (৩ মাস ৮ দিন) মধ্যে কীভাবে জামিন পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা সমালোচনা চলছে। দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ফয়সাল করিমের জামিনের জন্য অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান আবেদন করলে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী এবং বিচারপতি এসকে তাহসিন আলী ৬ মাসের জামিনের আদেশ দেন। শনিবার দ্য ডিসেন্ট ফেসবুক পেজে ফয়সালের জামিনসংক্রান্ত দুটি ডকুমেন্ট যুক্ত করে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
এছাড়াও হাদীকে গুলী করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশ বলেছে- যে কোনো সময় আসামী গ্রেফতার হতে পারে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসামি গ্রেফতারে সব বাহিনীর অভিযান চলছে। ইমিগ্রেশনে বার্তা দেয়া হয়েছে। সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে যাতে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেতে না পারে। এছাড়া আততায়ীকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ওসমান হাদীর পরিবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শনাক্তের পর তাদের গ্রেফতার করতে গতকাল দুপুর পর্যন্ত অন্তত পাঁচ জায়গায় অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে, সন্ত্রাসীরা বারবার অবস্থান বদলে ফেলা ও সিমকার্ড পরিবর্তন করায় গ্রেফতারে বেগ পেতে হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, গুলীবিদ্ধ হাদীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলায় মোটরসাইকেল চালক ও তার পেছনে বসে যিনি গুলী করেছে তাদেরকে আসামি করা হবে। এদিকে, ডিএমপির মতিঝিল জোনের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার তদন্তে ‘বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ফয়সাল করিম দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এমন তথ্য নেই। তিনি বলেন, অভিযুক্ত রাহুল পালাতে পারেননি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তের বাসাসহ অন্তত পাঁচটি জায়গা লোকেট করা হলেও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযুক্ত একাধিক মোবাইল ফোন ও নম্বর ব্যবহার করছিলেন এবং বারবার নম্বর পরিবর্তন করেছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালানো হলেও নিশ্চিত কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি। তদন্তে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। র্যাব, ডিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ ও সমন্বয় রয়েছে।
অন্য একটি সূত্র জানায়, হাদীকে গুলী করে হত্যাচেষ্টার আগে ‘হাদী কালচারাল সেন্টার’ অফিস রেকি করতে দেখা যায় আদাবর এলাকার এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শুক্রবার দুপুরে ওই ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় হাদী কালচারাল সেন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে এবং অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে কারও বের হওয়ার অপেক্ষা করতে দেখা যায়। জানা গেছে, রেকি করা ওই ব্যক্তি আদাবর এলাকার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কবির ওরফে দাঁতভাঙা কবির। তিনি আদাবর এলাকার নবোদয় হাউজিং, শ্যামলী হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্প ও বেড়িবাঁধ এলাকার ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত। হাদীর অফিস রেকি করার সময় কবিরের পরনে একটি ছাই রংয়ের হুডি ও সাদা রংয়ের প্যান্ট এবং পায়ে চামড়ার জুতা দেখা যায়। তিনি লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে একবার সিসিটিভি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দ্রুত অফিসে প্রবেশ করেন। যেখানে তার চেহারা পুরোপুরি বোঝা যায়।
যা বলেছে মেডিকেল বোর্ড: গতকাল শনিবার বিকেল পৌনে ৪টায় হাদীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. জাফর ইকবালের বরাত দিয়ে হাদীর চিকিৎসার সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা ঢাকা মেডিকেল কলেজ নিউরোসার্জারী বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্য সচিব ডা. আব্দুল আহাদ জানান, রোগীর মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেহেতু সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ সম্পন্ন হয়েছে, তাই বর্তমানে তাকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে। ব্রেন প্রোটেকশন প্রটোকল অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সকল সাপোর্ট চালু থাকবে। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে পুনরায় ব্রেনের সিটি স্ক্যান করা হতে পারে। মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, হাদীর ফুসফুসে ইনজুরি বিদ্যমান রয়েছে। চেস্ট ড্রেইন টিউব দিয়ে অল্প পরিমাণ রক্ত নির্গত হওয়ায় তা আপাতত চালু রাখা হয়েছে। ফুসফুসে সংক্রমণ ও এআরডিএস প্রতিরোধের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমানে কিডনির কার্যক্ষমতা বর্তমানে ফিরে এসেছে। এটি বজায় রাখার জন্য পূর্বনির্ধারিত ফ্লুইড ব্যালেন্স যথাযথভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। তবে অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ডা. আহাদ জানান, পূর্বে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের মধ্যকার অসামঞ্জস্যতা (ডিআইসি) দেখা দিলেও বর্তমানে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ অবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত ও রক্তজাত উপাদান সঞ্চালন অব্যাহত থাকবে। ব্রেন স্টেম ইনজুরির কারণে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে যে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে তা চলমান থাকবে। হৃদস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে টেম্পোরারি পেস মেকার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট টিম সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভিড় না করার পাশাপাশি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন মেডিকেলে বোর্ডের সদস্যরা। পাশাপাশি হাদীর অবস্থা নিয়ে অনুমান নির্ভর তথ্য ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।
গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. জাফর ইকবালের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের এ বোর্ড গঠন করা হয়। অন্য সদস্যরা বলেন, হাসপাতালটির নিউরো অ্যানেস্থেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নিউরো সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জিল্লুর রহমান, কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এ কে এম রেজা, নেফ্রোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাসুম কামাল খান, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জিয়াউল হক, নিউরোমেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. খন্দকার মাহবুবুর রহমান, নিউরোমেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এস. এম. হাসান শাহরিয়ার, কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জুলফিকার হায়দার, বক্ষব্যাধি সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শাহিনুর রহমান, অর্থোপেডিক্স বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আতিয়ার রহমান, নাক-কান-গলা বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. একরাম উদ্দৌলা ও হেমাটোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. কাজী স্মিতা হক।
৫০ লাখ টাকা পুরস্কার: শরীফ ওসমান বিন হাদীর আততায়ীকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি এও বলেছেন, জুলাই সম্মুখসারির যোদ্ধাদের বিশেষ নিরাপত্তায় একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। গতকাল শনিবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমার একটা ছোট্ট একটা কমিটি করে দিয়েছি। ওই কমিটি অ্যাসেস করে তারা ব্যবস্থা নেবে।
তথ্য চেয়েছে পুলিশ : হাদীর উপর সন্দেহভাজন এক হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করে তার বিষয়ে তথ্য চেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি বলছে, পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে; ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কোন তথ্য থাকলে বা তার সন্ধান পেলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। ওই ব্যক্তির বিষয়ে কোন তথ্য থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনারকে ০১৩২০০৪০০৮০ এই নম্বরে বা পল্টন থানার ওসিকে ০১৩২০০৪০১৩২ ফোন করে জানানোর অনুরোধ করেছে পুলিশ। সন্ধানদাতার পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি তাকে উপযুক্ত পুরস্কারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। হামলাকারী হাদীর সঙ্গে তার নির্বাচনি প্রচারে ছিলেন বলে সতীর্থরা মনে করছেন। তাদের তোলা প্রচারের কিছু ছবিতে থাকা দুইজনকে তারা আততায়ী হিসেবে সন্দেহ করছেন।
শিগগিরই গ্রেফতার হবে আসামি: হাদীকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। গতকাল শনিবার রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়োমে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
যা বলেছেন হাদীর বোন: ওসমান হাদীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল শনিবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় ওসমান হাদীর ভাই আবু বকর সিদ্দীক, বোন মাসুমা এবং ইনকিলাব মঞ্চের তিন নেতা আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা ও মো. বোরহান উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ওসমান হাদীর সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সারাদেশ তাঁর জন্য দোয়া করছে। তার সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিতে সবাই চেষ্টা করছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় যদি দেশের বাইরে পাঠাতে হয়, যেখানে পাঠানোর প্রয়োজন হবে সরকার সেখানেই তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। ওসমান হাদীর বোন বলেন, ‘সে ছোটবেলা থেকেই দেশকে মনেপ্রাণে ভালোবাসত। ছোটবেলা থেকেই সে বিপ্লবী। বিদ্রোহী কবিতা তার প্রিয়, সে বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করতে ভালোবাসত। তার একটি ১০ মাসের সন্তান আছে। হাদী আমাদের মেরুদন্ড। ওর অনেক কাজ, ওকে বেঁচে থাকতে হবে। আপনারা বিপ্লবী সরকার, যে করেই হোক জুলাই বিপ্লবীদের বাঁচিয়ে রাখবে হবে।