দেশের ১৯ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ ছাড়া দেশের নদী অববাহিকায় কুয়াশার দাপট থাকতে পারে বলেও সংস্থাটি আভাস দিয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও তা অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গতীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে নিম্নচাপ আকারে বর্তমানে উত্তরপূর্ব শ্রীলঙ্কা উপকূলবর্তী দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ দুপুর বা বিকেল নাগাদ উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলা দেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। এদিকে, একেবারে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। শনিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার।

গত কয়েক দিন ধরে দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও কাক্সিক্ষত উষ্ণতা পাওয়া যাচ্ছে না। শনিবার ভোর থেকেই পঞ্চগড়ের গ্রাম ও শহরের সড়ক-মহাসড়ক ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চালককে ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে দেখা গেছে। টানা শীত ও কুয়াশার প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। কনকনে শীতের কারণে অনেকেই ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না। শীত নিবারণের জন্য ভোর থেকে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে মানুষকে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার ওঠানামা করছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি জানান।