আগামী সাত দিনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দোসর ও তথ্য সন্ত্রাসীদের জবাবদিহি না করলে ‘মার্চ টু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাগ্রত জুলাইয়ের সভাপতি মুন্সি বোরহান মাহমুদ। পাশাপাশি অভিযুক্ত সাংবাদিকদের মিডিয়ায় স্মারকলিপি দেওয়া এবং তার নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকাল ৪টায় শহিদ ওসমান হাদি চত্বরে (শাহবাগ জাদুঘরের সামনে) আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে গণমাধ্যমের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চালানো দখলদারিত্ব ও বিকৃতির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি। আওয়ামী দুঃশাসনের সময় দীর্ঘ ১৭ বছর গণমাধ্যমে যে পরিমাণ তথ্য সন্ত্রাস আমরা দেখেছি, সেই তথ্য সন্ত্রাসের বিষয়ে এই সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছেÑসে প্রশ্নেই আমাদের আজকের মানববন্ধন।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও পডকাস্ট চ্যানেল তৈরি করে কালচারাল ফ্যাসিস্ট, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনারা দেখেছেন, ওসমান হাদীকে হত্যা করার পর আনন্দে মেতে উঠেছিল আনিস আলমগীর; সেই আনিস আলমগীরকে জামিন করিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখেছি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। এই আনিস আলমগীর বেগম জিয়ার চিকিৎসা থেকে শুরু করে বিএনপির বিরুদ্ধে নগ্নভাবে কাজ করেছিল। তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন তারেক রহমানÑএটা জাতির জন্য লজ্জাকর।

এছাড়া আমরা দেখছি আশিকুর রহমান শ্রাবণ, যিনি বর্তমানে নিউজ ২৪ টেলিভিশনের সিএনই, মাল্টিমিডিয়া ও অনলাইন ইনচার্জ হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন। তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানবিরোধী ছিলেন। তার নেতৃত্বে নিউজ ২৪, রাহুল রাহা, খুনি হাসিনা ও গংদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। এই শ্রাবণ গ্যাং বিভিন্ন নারী সহকর্মীদেরকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব ও অবৈধ কাজ করতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার পৃষ্ঠপোষকতায় আলোচিত মুনিয়া হত্যাকারীদের সকল প্রকার সহযোগিতা করা হয়েছে। এত কিছুর পরও বসুন্ধরা গ্রুপ তাকে প্রোমোশন দিয়ে চিফ নিউজ এডিটর বানিয়েছে এবং টেলিভিশনের মাল্টিমিডিয়া ও অনলাইন-এর ইনচার্জ করেছে। ফলে গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কাজ করা তার জন্য আরও সহজ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা ও তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে তার সাংবাদিকতার অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল হওয়ার পরও তাকে প্রোমোশন দিয়ে সিএনই করেছে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ।

জুলাই আন্দোলনে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি ও ফ্যাসিবাদের দোসর বৈশাখী টিভির ডিএমডি টিপু আলম বহাল তবিয়তে আছে। বৈশাখী মিডিয়া লিমিটেডের ১ শতাংশ মালিকানার দাপটে অস্থির করে রেখেছে এই টিপু আলম। বিগত ফ্যাসিবাদের সময় যে কয়টি টিভি সরকারের আজ্ঞাবহ ছিল, তার অন্যতম বৈশাখী। বৈশাখীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর ১২৬০ পর্বের প্রতিবেদন প্রচারিত হয়, যার নেপথ্যে ছিল টিপু আলম ও অশোক চৌধুরী। কালের কণ্ঠে বহাল তবিয়তে আছে আরেক ফ্যাসিস্ট ও আওয়ামী গণহত্যার সহযোগী হায়দার আলি। সে শেখ হাসিনার খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল। তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ক্রসফায়ারের বৈধতা দেওয়ার ন্যারেটিভ নির্মাণ করার অভিযোগ আছে।

আমরা দেখছিÑসময় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জুবায়ের এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে। সে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিপ্লবীদের সন্ত্রাসী বানানোর জন্য সময় টিভিকে ব্যবহার করেছে। স্বৈরাচারী হাসিনার আরেক দোসর হলো তুষার আবদুল্লাহ, যিনি ফ্যাসিবাদের পুরো সময়জুড়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা মেশিন সময় টেলিভিশনের হেড অব নিউজের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামবিদ্বেষী এই তুষার আবদুল্লাহ গণতন্ত্র হত্যার পাশাপাশি সবসময়ই আওয়ামী ও বাম কালচারাল ফ্যাসিস্টদের প্রোমোট করার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সম্প্রতি জুলাই অভ্যুত্থান ও গণভোটের পক্ষে সাংবাদিকতা করার অভিযোগ এনে এখন টেলিভিশনের চারজন সিনিয়র রিপোর্টারকে গত দুই মাস ধরে বাধ্যতামূলক ছুটিতে রেখেছেন, যা বাংলাদেশপন্থী সাংবাদিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান।

গণমাধ্যমে লুকিয়ে থাকা এসব তথ্য সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মার্চ করবে জাগ্রত জুলাই।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, জুলাই সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব কবি শামিম রেজা, কবি মইন মুনাতাছির, কবি নোমান সাদিক, মোহাম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, আহত জুলাই যোদ্ধা ও সংগঠক বাবু এমদাদ প্রমুখ।