পবিত্র ঈদুল ফিতরের সাত দিন ছুটি শেষে গতকাল মঙ্গলবার খুলেছে সরকারি অফিস, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান। তবে সকাল থেকেই ঢাকার সড়কে ছুটির আমেজ দেখা গেছে। ঈদ শেষে এরই মধ্যে গ্রামের বাড়ি থেকে কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। তারপরও ঢাকা এখনও অনেকটাই ফাঁকা।

নগরজীবনে ফেরেনি স্বাভাবিক গতি। বিভিন্ন সড়ক, টার্মিনাল, বাজার, এমনকি জনবহুল এলাকাগুলোতেও নেই সেই চিরচেনা ভিড়। এছাড়া শহরের অধিকাংশ গণপরিবহনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা খুবই কম। এছাড়া ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কম। সকাল থেকে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা গেছে, সেকশনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কম।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কলেজগেট, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, বাড্ডা, নতুন বাজার, শ্যামলী, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব এলাকায় যত্রতত্র গাড়ির সারি নেই, ট্রাফিক সিগন্যালে থেমে থাকার চাপ নেই, পথচারীদের ভিড়ও ছিল না চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও ট্রাফিক সিগনালগুলোতে ছিল না যানবাহনের চাপ। তবু ট্রাফিক পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এদিকে শেওড়াপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সারি দেখা যায়নি। যমুনা ফিউচার পার্কের সামনেও দেখা যায়নি গাড়ির জট।

বাড্ডা এলাকায় অছিম বাসের চালকের সহকারী বাবু বলেন, সকাল থেকে রাস্তা ফাঁকা দেখেছি। যানজট নেই। ঈদের সময় শুধু এমন খালি রাস্তা দেখা যায়। যাত্রী কম থাকায় তেমন ভাড়াও পাওয়া যায়নি। ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার এলাকায় সীমিত যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এসব বাসে যাত্রীর সংখ্যা ছিল কম। অন্যদিকে শ্যামলী, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির প্রধান সড়কেও যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কম দেখা গেছে। একই অবস্থা ছিল রাজধানীর ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায়।

লাব্বাইক বাসে সাইনবোর্ড থেকে সাভার যাবেন রহমত উল্লাহ। তিনি বলেন, সাইনবোর্ড থেকে গাড়িতে উঠেছি। আমিসহ গাড়িতে মোট যাত্রী ৭ থেকে ৮ জন। যাত্রী না থাকার কারণে মগবাজার এসে গাড়ি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি বলেন, কোথাও যানজট ছিল না। রাস্তা ফাঁকা। কিন্তু যাত্রীর জন্য দাঁড়িয়ে থেকেই সময় পার করে দিয়েছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আগামী শুক্রবার থেকে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় বাড়বে এবং শনিবার থেকে ধীরে ধীরে পুরোনো চেহারায় ফিরবে ঢাকা।

এর আগে গত ২১ মার্চ সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় মুসলিমদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

এদিকে ঈদুল ফিতরের পর মঙ্গলবার খুলেছে সরকারি অফিস। তবে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কম। সকাল থেকে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা গেছে, সেকশনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কম। প্রথম কর্মদিবসে সকাল ৯টা ১ মিনিটে সচিবালয়ে এসে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও যথাসময়ে সচিবালয়ের দপ্তরে আসেন।

ঈদের পর প্রথম অফিসে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা গেছে। সহকর্মীদের সঙ্গে করেছেন কোলাকুলি। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সচিবালয়ের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি কিছুটা কম। যেসব কক্ষে একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী বসেন, এমন কক্ষগুলোতে অনেকেই অনুপস্থিত রয়েছেন।

সেকশনগুলোতে অনেকে ঐচ্ছিক ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। কারণ মঙ্গল ও বুধবার অফিস করার পর আবার টানা তিন দিনের ছুটি। তবে উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই উপস্থিত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সচিবালয়ে মূলত স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে আগামী রোববার থেকে। ঈদের ছুটির পর দুই দিন অফিস খোলা থাকার পর আবার টানা তিন দিনের ছুটি থাকায় অনেকেই এই দুই দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন বলে জানা গেছে। উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বেশিরভাগ উপস্থিত থাকায় সচিবালয়ে গাড়ি রাখার স্থানগুলো অন্যান্য দিনের মতোই পূর্ণ রয়েছে। তবে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও খুব কম। তাই ৬ নম্বর ভবনসহ অন্যান্য ভবনগুলোর লিফটের সামনে মানুষের ভিড় নেই।

ঈদের অভিজ্ঞতার বিষয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদপ্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, এবারকার ঈদ অন্যরকম ছিল। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন পরে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোট দেওয়ার অধিকার পালন করতে পেরেছে এবং তাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠন করতে পেরেছে। সুতরাং তারা মুক্ত পরিবেশে এবং আনন্দময় পরিবেশে ঈদ পালন করেছে।’

গত ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। রোজার আগে গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয় টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি। গত ১৬ মার্চ ছিল ঈদুল ফিতরের আগে শেষ কর্মদিবস। সোমবার শেষ হয়েছে ঈদের ছুটি।