আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করতে ২৬টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বেও রয়েছেন। এ সময় নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।

নৌপরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, রমজান চলছে, ঈদ সমাগত এ সময় ঢাকার মানুষ যেন নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও মানসম্মতভাবে ঢাকার বাইরে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আজ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের করণীয় বিষয়গুলো আগে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে সেগুলো বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। গতবারের যাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক ছিল। এবার সেটিকে আরও ভালো ও মনোরম করতে নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে এবং সবার পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

ঈদের পাঁচ দিন আগে এবং পাঁচ দিন পরে ঢাকামুখী ও ঢাকা থেকে বাইরে যাওয়ার যাত্রা নির্বিঘœ রাখতে ২৬টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান নৌপরিবহন মন্ত্রী।

সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না এবং ভাড়া বাড়ানো যাবে না। ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে যাত্রীরা নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারেন। সেখানে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। অবৈধ পার্কিং ও দোকানপাট থাকবে না। সদরঘাট টার্মিনালে কুলিদের কোনো দৌরাত্ম্য থাকবে না।

যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা হবে। নির্ধারিত সময়েই লঞ্চ ছেড়ে যাবে। পথে বাল্কহেড বা স্পিডবোটের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধ রাখা হবে। নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড এ বিষয়ে তদারকি করবে। দুষ্কৃতকারীরা যাতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ভাড়া বাড়ানো যাবে না- এ বিষয়ে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট নিয়মিত তদারকি করবে।

চাঁদা ও চাঁদাবাজি এক নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি অপরাধ, সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। নৌপথে যাত্রা নির্বিঘœ করতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছ, ভাড়া বাড়বে না।

শেখ রবিউল বলেন, ‘চাঁদাবাজি হচ্ছে সেটা জোর করে আদায় করা হয়। চাঁদাবাজি থাকবে না সড়কে। শ্রমিক মালিকের সমঝোতায় আদায়কৃত অর্থ চাঁদাবাজি নয়। এটা শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় হয়।’

তিনি বলেন, ‘ঈদযাত্রায় নতুনত্ব সফলভাবে করতে পারার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়কে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই।

প্রতিমন্ত্রীদের দফতর বণ্টনের কার্যক্রম নিয়ম মেনেই হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে থেকে কিছু করিনি। কেবিনেট ডিভিশনের নির্দেশ মেনে করা হয়েছে।’