- সরকার জ্বালানি তেলে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে: জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী
- শনিবার থেকে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে : পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন
- জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, চোরাকারবার ও পাচার রোধে অভিযান শুরু করছে প্রশাসন। তেলের সংকট নেই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অথচ পাম্পে তেল সংকটে যানবাহন গুলোর দীর্ঘ লাইন। এমন পরিস্থিতি তেল যায় কোথায় এবং সংকট খুজতে গিয়ে প্রশাসন জানতে পেরেছে জ¦ালানি তেলের অবৈধ কারবারের সন্ধান। শেরপুর শহরের একটি আবাসিক ভবনের নিচ তলায় মিলল ২৫ হাজার লিটার তেলের মজুত , চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ৩০টি ড্রামে মজুত করা আনুমানিক ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে । চাপাইনবাবগঞ্জে তেল নাই লেখা পেট্রোলপাম্পে মিলল ৯৭৮৩ লিটার জ্বালনি তেল। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল শুক্রবার অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
শেরপুর শহরের একটি আবাসিক ভবনের নিচ তলায় ২৫ হাজার লিটার তেলের ট্যাংক বানিয়ে ডিজেল মজুদ করায় এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে একদিনের মধ্যে মজুদকৃত তেল ও ট্যাংক সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে শহরের গোয়ালপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স শিমলা ট্রেডার্সের মালিক তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাঁচ তলা আবাসিক ভবনের নিচতলায় তেলের ট্যাংক বানিয়ে ডিজেল মজুত করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলাল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সেখানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ১৮ হাজার ৫৮লিটার ডিজেল মজুত থাকায় আদালত ওই ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং একদিনের মধ্যে তেল ও তেলের ট্যাংকার সরানোর নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জানান, প্রচলিত আইন মেনে শিমলা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া তাদের সব কাগজপত্র আমরা নিয়েছি। এসব কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে একটি গোপন আস্তানা থেকে ৩০টি ড্রামে মজুত করা আনুমানিক ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিযানে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন। তবে অভিযান চলাকালে আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অসাধু চক্রের সদস্যরা সটকে পড়ায় ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা তেল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে সংরক্ষিত রয়েছে। এই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি অসাধু চক্র সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় অবৈধভাবে তেল সরিয়ে নেয়। পরে সেই তেল স্থানীয় বিভিন্ন বিক্রেতার নিকট সরবরাহ করে আসছিল চক্রটি। এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ ‘চোরাই’ ডিজেল মজুতের তথ্য পেয়ে অভিযানে নেমেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের পাশাপাশি লোডিং-আনলোডিং পাম্প জব্দ করা হয়েছে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পতেঙ্গা থানা এলাকার বিমানবন্দর সংলগ্ন স্থানে অবৈধভাবে এই ডিজেল মজুত করা হয়েছিল। গোপন সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসন সকালে সেখানে অভিযান শুরু করে। অভিযানে চোরাই ডিজেলের পাশাপাশি তেল স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জামাদিও জব্দ করা হয়।
সরকার জ্বালানি তেলে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে
সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
তিনি বলেন, বহির্বিশ্বে অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকার করেনি। বরং জনগণের দুর্ভোগ যাতে না বাড়ে তাই সরকার জ্বালানি তেলে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
দুপুরে যশোরে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ৮০টা দেশ জ্বালানির মূল্য বাড়ালেও বাংলাদেশ সরকার দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করেনি। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছে। কিন্তু আমাদের চাহিদা হঠাৎ অস্বাভাবিক বেড়েছে। প্রতিদিন ডিজেলের গড় চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন। পেট্রোল-অকটেনের চাহিদা ছিল ১২০০ থেকে ১৪০০ মেট্রিক টন। ঈদের আগে গড়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমরা সরবরাহ করেছি। ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার কাজও শুরু করেছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে জ্বালানি তেল থাকার পরেও বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় একটি পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকার মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনকে এ জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনে ‘পাম্পে তেল নেই’ ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই পাম্পে যান এবং তেলের মজুত যাচাই করেন। এ সময় দেখা যায়, সেখানে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করার অপরাধে ওই পেট্রোল পাম্পকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার থেকে সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে
জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য পেট্রলপাম্পগুলোতে গ্রাহকদের চলমান উপচেপড়া ভিড় ও সাময়িক অস্থিরতা কেটে যাওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন আশা প্রকাশ করেছে যে শনিবার থেকেই সারা দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
শুক্রবার এক বার্তায় সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমানে পেট্রলপাম্পগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য যে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে, তা অনভিপ্রেত।
গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বলেন, ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনা এবং পাম্পে অযথা ভিড় না করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার ৫০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এমন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। এ অবস্থা সামলাতে সাধারণ গ্রাহকদের অবশ্যই সংযত হতে হবে।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বারবার অনুরোধ করার পরও যদি গ্রাহকরা সংযত না হন, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে, যা কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।
জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক জানান, মার্চ মাসে অধিক মাত্রায় সরকারি ছুটি থাকায় জ্বালানি তেলের ধারাবাহিক সরবরাহ প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশের বেশ কিছু জায়গায় পাম্প সাময়িকভাবে তেলশূন্য হয়ে পড়েছিল। তবে এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা
রাজধানীর উত্তরা থেকে ভোর ছয়টায় মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য এসেছেন আসলাম উদ্দিন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি তেল পাননি। পরে জানতে পারেন তাকেসহ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের দুপুরে পর তেল দেওয়া হবে।
শুধু আসলাম নন, সেই মুহূর্তে তেলের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন শতাধিক ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রাইভেটকার এবং কাভার্ডভ্যান চালক। তারাও অপেক্ষায় তেলের জন্য।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয় সরনি এলাকায় ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে কথা হয় আসলামের সঙ্গে। তার সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন সবেমাত্র একটি তেলের লরি পাম্পে এসে প্রবেশ করেছে। তারা তেল আনলোডের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন।
এই পাম্পে তেল নিতে ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় আছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা। তবে কারও মাঝে তেমন কোনো ক্লান্তি বা বিরক্তির ছাপ লক্ষ্য করা যায়নি।
পরে সেখান থেকে আসাদগেটের বিপরীত পাশে থাকা তালুকদার পাম্পে গিয়ে একই অবস্থা দেখা গেল। সেখানেও একটি তেলের গাড়ি সবেমাত্র প্রবেশ করেছে। নিরাপত্তা কর্মীরা জানালেন, তারা দুপুর ২টার পর থেকে তেল দেওয়া শুরু করবেন। সেখানে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালকদের সারি কম। তবে প্রাইভেটকার চালকদের সারি দীর্ঘ, যা ঠেকেছে ৩৬ জুলাই জাদুঘরের সামনের পূর্ব দিকের মোড় পর্যন্ত।
আবার সেখান থেকে সরাসরি হাইকোর্টের উল্টো পাশের সড়কের কোণে থাকা রমনা ফিলিং স্টেশনে এসে কোনো বাইকার বা গাড়ি চালকের লাইন পাওয়া গেল না। পাম্প পুরোপুরি ফাঁকা। সেখানে থাকা কয়েকজন যুবক জানালেন, তাদের তেল আনতে গেছে। কয়টার দিকে আসবে তারা কেউ জানে না। তবে তেল তিনটার পর হয়তো দিতে পারবেন।
এই তিন পাম্প ছাড়াও অন্যান্য পাম্পগুলোতে খোঁজ নিয়ে যা জানা গেল, সকাল থেকে দুটি পাম্প ছাড়া কোনো পাম্পে অকটেন ও ডিজেল ঢোকেনি। ফলে তারা এসব তেলের কোনোটাই সরবরাহ করতে পারছেন না।
তারা আরও জানিয়েছেন, গত রাত থেকে লরি ভর্তি করে তেল আনার জন্য ডিপোগুলোতে তারা লাইন দিয়েছেন। কেউ সকালের পর পাচ্ছেন আবার কেউ দুপুরের পর সেই তেল পাবেন। তারপর তা পাম্পে এনে বাইকার ও প্রাইভেটকার চালকদের দিতে পারবেন। তার আগে নয়।
জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার
দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (দরপত্র বা প্রতিযোগিতা ছাড়াই) মোট তিন লাখ মেট্রিকটন ডিজেল কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বৃহস্পতিবার অনলাইনে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৯তম এবং ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দেশে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের কাছ থেকে একই পদ্ধতিতে ২ লাখ মেট্রিক টন ইএন ৫৯০ মানের ডিজেল ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তেল অবৈধভাবে মজুতের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে পুরস্কার
দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। শুক্রবার এক বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকি করতে ইতিমধ্যে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। অবৈধ মজুতদারি বন্ধে যারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সচেতন নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত প্রতিরোধের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশের সব তেল ডিপো, পেট্রলপাম্প ও সংশ্লিষ্ট তেল কারবারিরা প্রশাসনের নিবিড় নজরদারির আওতায় রয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আরও একটি জাহাজ
চট্টগ্রাম ব্যুরো: দেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ৩০ হাজার টন তেল নিয়ে আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ জাহাজটি বন্দরে নোঙর করে।
জানা গেছে, চীনের প্রতিষ্ঠান ইউনিপেকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের জাহাজে করে এ চালানটি দেশে আসে। এতে রয়েছে ১০ হাজার টন ডিজেল এবং ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
এর আগে বুধবার ওমান থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে মোট ১৭টি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে আটটি জাহাজ এসেছে, সর্বশেষ যুক্ত হলো আরও একটি। বাকি ছয়টি জাহাজ পথে রয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিপিসি সাধারণত সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয় দেশে।
এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা প্রধানত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা হয়। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আকারে এনে দেশে পরিশোধন করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল হিসেবে ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
পিরোজপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: পাম্পে দীর্ঘ লাইন, পুলিশের পাহারায় মিলছে তেল
সোহরাব হোসেন জুয়েল ও জাকির হোসেন,পিরোজপুর থেকে : সারাদেশের মতো পিরোজপুরেও জ্বালানি তেলের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার পরিবহন খাতে, বিশেষ করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। গত কয়েকদিন ধরে শহরের কোনো পাম্পেই মিলছে না অকটেন। সামান্য পরিমাণ পেট্রোল মিললেও তা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
পিরোজপুর জেলা শহরের নতুন বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন বলেশ্বর ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না চালকরা। অনেক চালক তেল না পেয়ে মাঝপথেই বাইক ফেলে রেখে গন্তব্যে ফিরছেন। এতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
ভুক্তভোগী এক বাইক চালক জানান, “ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সামান্য কিছু তেল পেয়েছি, যা দিয়ে জরুরি কাজও শেষ করা সম্ভব নয়।” আরেক চালক বলেন, তেলের এই সংকট অব্যাহত থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বেড়ে যাবে এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।
এদিকে, পাম্পগুলোতে তেল দেওয়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাম্পগুলোতে এখন পুলিশের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, দ্রুতই তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশা করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে,পামেপর মালাকরা কোটি টাকার হয়ে গেছে ,জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসন না হলে জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় এর বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।