চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি কর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর অরোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মফিজুর রহমানের শয্যাপাশে যান ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহত নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরে তার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি, পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমীর শাহীন আহমেদ খানসহ নেতৃবৃন্দ। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের হাসাদাহ এলাকায় বিএনপি কর্মীদের হামলায় ইউনিয়ন আমীর মফিজুর রহমান আহত হন এবং তার ভাই হাফিজুর রহমান নিহত হন। এছাড়া হামলায় জামায়াতে ইসলামীর আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

গোলাম পরওয়ারের নিন্দা : এদিকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ এলাকায় নৃশংস হামলায় হাফিজুর রহমানের শাহাদাত ও একাধিক নেতাকর্মীর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল রোববার প্র্রদত্ত বিবৃতিতে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং আরও কয়েকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করে। আমি এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব থেকে সংঘটিত এ বর্বর হামলা কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা সামাজিক বিরোধ কোনোভাবেই সহিংসতা ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে না। রাজনৈতিক মতভেদকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে নিরস্ত্র মানুষের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রতি সরাসরি আঘাত। তিনি হাফিজুর রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। বিবৃতিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ক্ষুণ্ন হবে এবং এর দায় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।