ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইয়ের বিপ্লবী বীর শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামায আদায়ের শেষে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি কবর জিয়ারত করেন। এদিকে গতকাল সকাল থেকেই দলে দলে হাদীর কবর দেখতে আসছেন ছাত্র-জনতা।

এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল রোববার বাদ ফজর অনুষ্ঠিত এ কবর জিয়ারতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মেডিকেল থানা সভাপতি ও ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এসএম ফারহাদ সহ জামায়ত ও শিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

কবর জিয়ারতে ছাত্র-জনতা

এদিকে গতকাল জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর কবর দলে দলে দেখতে আসছেন ছাত্র-জনতা। একইসঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে দাঁড়িয়ে করছেন দোয়া।

গতকাল রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশের এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

দেখা যায়, সকাল থেকে ছাত্র-জনতা দেখতে আসছেন বিপ্লবী হাদীর কবর। কেউ কেউ তার সমাধির বাউন্ডারি থেকে দূর থেকে ঘুরে ঘুরে, কেউ কেউ কবর দেখছেন, কেউ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দোয়া করছেন। আবার কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন হাদীর কবর দেখতে। সবার চোখে মুখেই রয়েছে শোক আর ক্ষোভের ছায়া।

সকাল ১১টার দিকে মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে হাদীর কবর দেখতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল আহাদ। এসময় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আব্দুল আহাদ বলেন, ‘স্বাধীন দেশে ভারত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কীভাবে খুনি ভারতে পালিয়ে যায়? খুনিদেরকে ভারত কেন আশ্রয় দেবে। ভারতের উচিত খুনিদের ফেরত দেওয়া এবং গুপ্তহত্যাকারীদের কোনো ধরনের সহায়তা না করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারত আর আওয়ামী লীগ একসূত্রে গাঁথা। তাদেরকে বাংলাদেশের মাটিতে আর জায়গা দেওয়া যাবে না। শহীদের রক্তে কেনা বাংলাদেশ। এই দেশে আধিপত্যবাদী শক্তির জায়গা দেওয়া যাবে না।’

আরেক দর্শনার্থী শরিফ হাসান বলেন, ‘হাদীর হত্যার যথাযথ বিচার চাই। খুনিদেরকে ধরতে হবে। আর কেউ যেন এমন হত্যাকা-ের সাহস না পায়, এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয় নগরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওসমান হাদী। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১০ টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হাদীর লাশ দেশে আনা হয়। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদীর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো ছাত্র-জনতা জানাযায় উপস্থিত হন। জানাযা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে শহীদ শরিফ ওসমান হাদীকে সমাহিত করা হয়।