অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো জাতীয়করণের ঘোষণা বাস্তবায়ন এবং অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন-অনুদান দ্রুত ছাড়ের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকরা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ২০তম দিন এবং কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনের তৃতীয় দিন চলছে।
অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান হোসেন বলেন, দীর্ঘ ২০ দিন ধরে আন্দোলন এবং তিন দিন ধরে আমরণ অনশন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষকের বয়স ৫০ বছরের বেশি এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী গত বছরের জুলাই মাসে এমপিওভুক্তির আবেদন করা হলেও প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো মাদরাসা এমপিওভুক্ত হয়নি। একইভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন-অনুদানও ছাড় করা হয়নি।
সদস্য সচিব বলেন, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত থাকলেও তারা ন্যায্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং শিক্ষার্থীরাও মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। দ্রুত এমপিও কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুমোদিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বকেয়া অনুদান ছাড়ের দাবি জানাচ্ছি। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান হোসেন।