তমিজউদ্দিন আহমদ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জর রূপগঞ্জে পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাস ব্যাপি আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য মেলার গতকাল শনিবার বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র শীতেও ক্রেতা সমাগম ছিলো বেশী। এদিকে মেলার সার্বক্ষনিক আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য দুইজন নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সাড়ে ৮শ’ পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জনা গেছে।

অনেক স্টালে পন্যের পসরা সাজানো হচ্ছে। ট্রাকে ট্রাকে নতুন পন্য নিয়ে আসছেন স্টল মালিকরা। শ্রমিকরা সারাদিন স্টলে নিয়ে পন্য ডিসপ্লে করছেন। যাতে ক্রেতারা তাদের সুবিধামতো দেখতে পারেন। আলোকসজ্জার পাশাপশি অনেক স্টলের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান মূল্যস্ফীতি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছর মেলা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল। কারণ হিসাবে তারা বলছেন, ইতিমধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হচ্ছে চলতি মাসে আরো তিন থেকে চারটি শৈত্যপ্রবাহের মতো হতে পারে। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, মেলার প্রথম সপ্তাহ জুড়ে স্টল সাজানো গোছানো কাজেই তাদের মনোযোগ বেশী থাকে। দ্বিতীয় সপ্তাহের মেলা প্রচারনা শুরু হলে ক্রেতা সমাগম বাড়ার পাশাপাশি বেচাকেনা জমে উঠে।

প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলছে। শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিন খোলা থাকছে রাত ১০টা পর্যন্ত।

গত শনিবার (৩ জানুয়ারী) বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনের পরই সাধারন দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মেক্ত করে দেয়া হয়।

কেউ আবার বাহারি স্লোগানে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। সরেজমিন মেলাঘুরে দেখাযায়, দেশি বিদেশি বিভিন্ন স্টলে পণ্য সাজিয়ে অপেক্ষা করছেন বিক্রেতারা। বেশিরভাগ স্টলই ছিল ক্রেতা ও দর্শণার্থীর ভীড়।

এবারের আসরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তৃন্ধ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে স্টলগুলো। তবে এবারের মেলার শুরু থেকেই ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী রয়েছে চোখে হতে মতো। কেউ ঘুরছেন মেলায় প্যাভিলিয়নে। আবার কেউ ছবি তুলছেন মেলার সাজানো নানা রকমের বস্তুর সাথে। এবারের আসরে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দেশী-বিদেশী মিলে মোট ৩২৭ টি। বিশ্বরোড, ফার্মগেট, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস রাখা হয়েছে নির্বিঘ্নে যাত্রী চলাচলে।

ভিশন এম্পোরিয়ামের প্যাভিলিয়ন খোকন জানান, শীতের কারনে ক্রেতা সমাগম প্রথম দিকে কম থাকলেও আজ ছুটির দিন ছিল মানুশের ভীড়। প্রতি বছরের মত এবছরও মেলাকে সামনে রেখে বেশ কিছু নতুন মডেল নিয়ে এসেছি। হোম ডেলিভারির সু-ব্যবস্থা আছে।

সৃতি ফ্যাশন জুয়েলারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিহাদ বলেন, অন্যান্য বারের চেয়ে এবারের মেলায় নিরাপত্তা জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন অনেক বেশি। স্টল মালিক ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় তারা কাজ করছেন এটা খুব ভালো লেগেছে। সামনের দিনগুলোতে আশানুরূপ বেচাকেনা হবে বলে আসা করছি।

আকিজ হেল্থকেয়ার এন্ড হাইজিন লিমিটেড এক্সিকিউটিভ আরমান আহমেদ বলেন, আমরা প্রতি বছরের ন্যয় এবারের মেলায় স্টল বরাদ্দ নিয়েছি। তবে মেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হয়। প্রতিবারের মতো এবারও কিছুদিন গেলে বেচা বিক্রি বাড়বে বলে আসা করছি। আমাদের স্টলে স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের মার্কেটিং করছি। আমাদের মুল লক্ষ্য প্রচারের পাশাপাশি আয় বাড়ানো।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ মেলায় এসেছেন সুফিয়ান আহমেদ বলেন, পরিবার নিয়ে এসেছি মেলায় কিছু কেনাকাটা করেছি। শেষের দিকে আবার আসবো। তখন অনেক ছাড়ে পণ্য কেনা যায়। তবে মেলায় এসে একটা জিনিস ভালো লেগেছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা অন্যান্য বারের চেয়ে অনেক বেশি।

রাজধানী বনানী থেকে এসেছেন নুরুদ্দিন আহমেদ তিনি বলেন, মেলায় সকালে এসেছি কিছু কেনাকাটা করেছি। দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। প্রতি বছরে মেলার শেষের দিকে ছাড়ে পণ্য বিক্রি হয় তখন আবার আসবো কেনাকাটা করতে।

এ বিষয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবির সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক তরফদার সোহেল রহমান বলেন, মেলায় আগতদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে ব্যাপক। এবারের আসরে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩২৭ টি।

নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের উপজেলা নিবার্হী কর্মকতা মো: সাইফুল ইসলাম জয় জানান, বাণিজ্য মেলা আইনশৃংখলা পরিস্থিত নিয়ন্ত্রন রাখার জন্য প্রশাসনের দুইজন নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট সকাল থেকে রাত পর্যন্ত র্সাবক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৮৫০ জন পুলিশ সদস্য ও পোষাকে ও সাদা পোষাকে পাশাপাশি বিপল সংখ্যাক আনার সদস্যসসহ সকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন দায়িত পালন করছেন। যাতে কোন অপ্রিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ (ক্রাইম) সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে প্রায় সাড়ে আটশ’ পুলিশ সদস্য শিপটিং ভাবে ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া ৭০ জন আনসার সদস্য ও রপ্তানী উন্নয়ন ব্যারোর ৬০ জন নিরাপত্তা কর্মী সাথে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, গাড়ি পার্কি ব্যবস্থাসহ পুরো মেলা প্রাঙ্গন সিসিটিভি আওয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে। যাতে কেই কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটালে সাথে সাথে প্রমানসহ আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায়।

মেলার উদ্বোধন নির্ধারিত ছিল ১ জানুয়ারি হলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করায় ৩ জানুযারি উদ্বোধন করা হয়। মেলা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে আয়োজন করেছে।