রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শুক্রবার চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সবকিছু পর্যালোচনা করে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী কিছুক্ষণ আগে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
ডা. রফিক জানান, এর আগে সকালে ওনার সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল। সেই রিপোর্টে অবস্থার অবনতি দেখা দিলে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে এবং সব কিছু পর্যালোচনা করে এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সম্মতিও নেওয়া হয়েছে।
মেডিকেল বোর্ডে দেশের প্রখ্যাত নিউরো বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন বলে জানান তিনি। বোর্ডে অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক রাজিউল হক, অধ্যাপক সাঈদ আহমেদ, অধ্যাপক কাদের শেখ, অধ্যাপক শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা রয়েছেন। এসময় মির্জা আব্বাসের আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার বলেও উল্লেখ করেন ডা. রফিক।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। শুক্রবার, জুমার নামাযের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি মির্জা আব্বাসের শয্যাপাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এভারকেয়ার হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন মির্জা আব্বাসের সহধর্মিনী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসসহ কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ।
অন্যদিকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে দেখতে গিয়েছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর আমীর।
জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, হাসপাতালে অবস্থানরত মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর কাছে তার স্বামীর শারীরিক অবস্থাসহ চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি আল্লাহর কাছে মির্জা আব্বাসের আশু আরোগ্য কামনা করেন। শফিকুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানার সভাপতি এস এম খালিদুজ্জামান।
এ বিষয়ে শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখে এসেছেন। তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন, তিনি যেন মির্জা আব্বাসকে আশু পূর্ণ সুস্থতা দান করেন। আল্লাহ যেন মির্জা আব্বাসকে দ্রুত তার পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার তওফিক দেন।
গত বুধবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে।
বিদেশ নেওয়া যাচ্ছে না
উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা এই মুহূর্তে দেশের বাইরে নেওয়ার মতো না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। শুক্রবার তিনি বলেন, আপাতত তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না। তার পরিবার দেশের চিকিৎসার প্রতি আস্থাশীল। তবে, পরবর্তীতে তার মেডিকেল বোর্ড মনে করলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
মির্জা আব্বাসের চিকিৎসায় একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড তার অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয় জানিয়ে ডা. রফিক বলেন, পরিবারের সদস্যদের সম্মতিও নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী উনার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন।