• কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত ইরানের
  • হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ পর্যন্ত সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে গেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় দেশটির প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ পরবর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন এটি সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আস্থা অর্জন করতে পারবে কিনা। এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে সম্মত হতে না পারায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে তিনটি কঠিন পথ খোলা। পাকিস্তান বলেছে, এই সংলাপ চালিয়ে যেতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে তারা। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে এমন দাবি করে বলেছে, জাহাজ চলাচলের জন্য অবশ্যই ইরানি মুদ্রার রিয়ালে টোল পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প। আল-জাজিরা, বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস, এপিম, তাসনিম নিউজ।

ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে গেছে। দুই পক্ষই আলোচনায় বসেছিল নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী দাবি করে, ফলে স্বল্প সময়ে সমাধানে পৌঁছানো শুরু থেকেই কঠিন ছিল বলে বিশ্লেষকদের মত।

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করছে। এতে করে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গত বুধবার যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তা শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ও ‘ধ্বংসাত্মক’ হুমকির প্রেক্ষাপটে। তিনি ইরানি সভ্যতা ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশেই আলোচনার সূচনা হয়েছিল।

এখন বড় প্রশ্ন—এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী? যুদ্ধবিরতি কি টিকবে, নাকি নতুন করে সংঘাত শুরু হবে?

বিবিসির সংবাদদাতা জো ইনউড জানান, নতুন করে হামলা শুরুর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না এলেও সম্ভাবনা স্পষ্টভাবেই বেড়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি, যা ইরান আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, সেটি পুনরায় চালুর বিষয়টি এখন আর আলোচনার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। এতে করে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা কোনো মারণাস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছে না।

তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা ইরানের ভেতরে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পক্ষে জনমতকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সরাসরি আলোচনা ছিল একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তবে ফলহীন এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা হয়নি, ট্রাম্পের সামনে বিকল্প কী

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর দুই পক্ষ আবার আলোচনার টেবিলে না ফিরলে যুক্তরাষ্ট্র কী করবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এখন প্রধান হাতিয়ার হলো পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর হুমকি দেওয়া। দুই সপ্তাহের চলমান যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা ২১ এপ্রিল। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে আগামী দিনগুলোতে এই সামরিক অভিযান শুরুর হুমকির কথা হয়তো বারবার আসবে। কিন্তু ট্রাম্পের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে খুব একটা বাস্তবসম্মত বিকল্প নয়—আর ইরানিরাও তা ভালো করেই জানে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি অস্থিরতা সামাল দিতেই ট্রাম্প গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। ওই সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায় এবং সারসহ সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য অপরিহার্য হিলিয়ামের মতো অতিপ্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি দেখা দেয়। একটি চুক্তির আশায়— সেটি অপূর্ণাঙ্গ বা অসন্তোষজনক হলেও— শেয়ারবাজার চাঙ্গা হয়েছিল। যুদ্ধ যদি আবার শুরু হয়, তবে বাজারের দরপতন ঘটবে, পণ্যের ঘাটতি প্রকট হবে এবং মুদ্রাস্ফীতি—যা যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই ৩ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে—তা অবধারিতভাবেই আরও বাড়বে।

আর এটিই সবচেয়ে জরুরি বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে, তা হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। ইরানিরা আলোচনার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে এটিকে সবার ওপরে রেখেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি, পরমাণু ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তিসহ মূল বিষয়গুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তালিকাটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যুদ্ধ শুরুর আগে প্রণালিটি বন্ধ হওয়া কোনো ইস্যুই ছিল না। পরবর্তীতে অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরির সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ইরান এটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এখন এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের অন্যান্য দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ দিতে হবে এবং গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথম প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দ্বিতীয়টির বিষয়ে বলেছে যে, ইরান চুক্তির শর্তগুলো পালন শুরু করলে এটি ধাপে ধাপে কার্যকর হতে পারে।

ইসলামাবাদ আলোচনা এটা স্পষ্ট করেছে যে, উভয় পক্ষই নিজেদের প্রথম দফার বিজয়ী মনে করছে। যুক্তরাষ্ট্র ভাবছে তারা ইরানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করতে পেরেছে, আর ইরানিরা ভাবছে তারা টিকে থাকতে পেরেছে। কোনো পক্ষই এখন আপসের মেজাজে নেই।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য দরজা খোলা রাখার ইংগিত ইরানের

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ পরবর্তী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স–এ বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, আলোচনার এই পর্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু এখন এটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আস্থা অর্জন করতে পারবে কি না।

পাকিস্তানে আলোচনার ব্যর্থতার পর প্রথমবারের মতো মন্তব্য করে গালিবাফ বিজয়ের সুর বজায় রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষায় সামরিক অ্যাকশনের সমান্তরালে শক্তিশালী কূটনীতির ওপর জোর দিই। আমরা জাতীয় প্রতিরক্ষায় ৪০ দিনের অর্জনগুলি সুরক্ষিত করতে কাজ চালিয়ে যাওয়া এক মুহূর্তের জন্যও থামাব না।’

ইরানের আলোচক দলের প্রধান গালিবাফ আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টার জন্যও কৃতজ্ঞ। তারা এই আলোচনার প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে সাহায্য করেছে। পাকিস্তানের জনগণের প্রতি আমার শুভেচ্ছা জানাই।’

ট্রাম্পের সামনে কঠিন ৩ পথ

যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ইরান আর যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষই কোনো চুক্তিতে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হতে পারেনি। তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন পথ খোলা আছে। প্রথমত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ আবার শুরু করা, যা ইতিমধ্যে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানিসংকট তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই। তিনি সাপ্তাহিক ছুটিতে ফ্লোরিডায় গেছেন। এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘আমরা আমাদের রেডলাইন স্পষ্ট করে দিয়েছি। কোন বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি আছি সেটাও বলেছি। তারা আমাদের শর্ত মানতে রাজি হয়নি।’ বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ভাষায়, ইরানের উচিত সহজভাবে ‘আত্মসমর্পণ’ করা।

কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। ওবামা আমলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শেষ বড় চুক্তি হতে দুই বছর লেগেছিল। সেই চুক্তিতেও ইরানকে অল্প পরিমাণ পারমাণবিক মজুদ রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে। এ বিষয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে ইরান বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির স্বাক্ষরকারী হিসেবে নিজের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা তাদের অধিকার। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটাই প্রমাণ করে ইরান সব সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ রাখতে চায়। ৪০ দিনের যুদ্ধ এই অবস্থানকে নরম করেনি, বরং আরো শক্ত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের প্রিয়জনদের ক্ষতি আমাদের জাতির স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার সংকল্পকে আগের চেয়ে আরো দৃঢ় করেছে।’ শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই মনে করছে, প্রথম দফায় তারা জিতেছে। সে কারণে কেউই এখন সমঝোতার মেজাজে নেই। তবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে ২১ এপ্রিল। তবে যুদ্ধ আবার শুরুর হুমকি ট্রাম্পের হাতে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরির হাতিয়ার। কিন্তু এই পথে রাজনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। কারণ বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। যুদ্ধ আবারও শুরু হলে বাজার পড়বে, সংকট বাড়বে, মূল্যস্ফীতি আরো চাপে পড়বে, যা এখনই ৩.৩ শতাংশে আছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কয়েক সপ্তাহের সংঘাত ও গভীর অবিশ্বাসের পর মাত্র এক রাউন্ডের আলোচনায় সব মিটে যাবে, এমনটা ভাবা অবাস্তব। তিনি জানান, কিছু বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও গভীর মতভেদ রয়েছে। আলোচনায় মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ছিল হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ত্যাগে তেহরানের অস্বীকৃতি। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া শর্ত না মানলে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হবে না।

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এবং ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং দুই পক্ষকেই যুদ্ধবিরতি বজায় রেখে পুনরায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দুই পক্ষকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। পাকিস্তান এই সংলাপ চালিয়ে যেতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। আপাতত পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য কোনও তারিখ বা স্থান নির্ধারিত হয়নি। তবে উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কূটনীতির পথ এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে টোল দিতে হবে রিয়ালে

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। এ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ ও এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পরিবহন করা হয়। ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ বলেছে, দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবেয়ি হরমুজ প্রণালিকে তেহরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রণালিটি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং এখান দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য অবশ্যই ইরানি মুদ্রা ‘রিয়ালে’ টোল পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে, গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এ জলপথ ‘শিগগিরই খুলে দেওয়া’ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের দুটি সামরিক জাহাজ ইতিমধ্যে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণের একটি ব্যাপক অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করে।

তবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো সামরিক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবির বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ বেসামরিক জাহাজগুলোকে সুনির্দিষ্ট শর্তে এখান দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

ইরানে মার্কিন ইসরায়েলি হামলায় দুই হাজারেরও বেশি শিশু আহত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২ হাজার ১১৫ শিশু ও কিশোর আহত হয়েছে। ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইরানের সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাফর মিয়াদফার বলেন, হামলায় আহত ১৮ বছরের কম বয়সী এসব ভুক্তভোগীর মধ্যে ১২৪ জনের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। এমনকি আহতদের মধ্যে ২৪ জনের বয়স দুই বছরেরও কম। জাফর মিয়াদফার আরও বলেন, হামলায় আহতদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার নারী রয়েছেন। এই হামলাগুলোর বেশিরভাগই চালানো হয়েছে তেহরান, খুজেস্তান, লারেস্তান, ইসফাহান, কেরমানশাহ এবং ইলাম প্রদেশে।

‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে ‘শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

ইরানকে ‘শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প নিজের মালাকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে ‘শেষ করে দেবে’ মার্কিন বাহিনী।

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ট্রাম্প এই হুমকি দিলেন।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ‘অবরোধের’ ঘোষণা ট্রাম্পের

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবেশ বা বের হওয়া যেকোনো জাহাজ ‘অবরোধ’ করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘একটি পর্যায়ে হরমুজ দিয়ে “সবাইকে ঢুকতে দেওয়া হবে এবং বের হতে দেওয়া হবে”—এমন অবস্থানে পৌঁছাব আমরা। কিন্তু ইরান সেটি হতে দিচ্ছে না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি আমাদের নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করতে ও গতিরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি, যারা ইরানকে টোল (শুল্ক) দিয়েছে। যারা বেআইনিভাবে টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তাদের কোনো নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। মূলত তখন থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।