২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবন। অপেক্ষায় ছিলেন কখন ফিরবেন নিজের ভুবনে। যেখানে তার শৈশব, কৈশর থেকে রাজনীতিতে আসা। আজ ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার তার সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে। শেষ হচ্ছে অগণিত নেতাকর্মী, শুভাকাক্সক্ষী ও সাধারণ মানুষের আক্ষেপও। নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে দেশের মাটিতে পা রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বেলা ১১টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। বিএনপিসহ রাজনীতিবিদরা তার এ প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। দেশে পৌঁছার পর তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। যাওয়ার পথে ৩০০ ফুটে সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।
এই ফ্লাইটের বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের পাশাপাশি আরও পাঁচ সফরসঙ্গীর টিকিট বুকিং দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান। এ রিপোর্ট লেখার সময় তারেক রহমান বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বাসা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে সারাদেশ থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আসছেন রাজধানীতে। শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে ঢাকা নগরী। উপস্থিতির দিক থেকে অতীতের সব রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের রেকর্ড ভাঙার প্রত্যাশা করছে বিএনপি। তারা বলছেন, সারাদেশ থেকে ৫০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে বরণ করে নিতে ঢাকায় থাকবেন। এদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে তার নিরাপত্তা।
সূত্রমতে, ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের পর তৎকালীন সরকার তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে। ২০০৮ সালে তাকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার নামে যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে পাঠানো হয়। সেখান থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতি পরিচালনা করে আসছেন। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং অসুস্থতার কারণে মূলত দলের প্রধান অভিবাবকে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার গণঅভূত্থানের পর নতুন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা ও প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ধারণা করা যায়, উপস্থিতির দিক থেকে অতীতের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাবে এই গণসংবর্ধনা। তারা বলছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সন্নিকটে খিলক্ষেত ৩০০ ফুট এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে দলটি। সর্বোচ্চ জনসমাগম নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো আয়োজন সুশৃক্সখল ও নিরাপদ রাখতে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে দলের পাশাপাশি সরকারের আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিতে রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় বিশাল মঞ্চ এখন প্রস্তুত। পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের বিশাল মঞ্চ। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কুড়িল থেকে সংবর্ধনা মঞ্চের পরবর্তী অংশ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে তারেক রহমানকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন রঙের ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সংবর্ধনায় অন্তত ৫০ লাখ মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন তারা। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যও রয়েছে এই আয়োজনের পেছনে। গতকাল সংবর্ধনা মঞ্চ পরিদর্শন শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনায় অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি আশা করছি।
সংবর্ধনায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীরা গতকালই চলে এসেছেন। তারা শুকনো খাবার নিয়ে সংবর্ধনাস্থলে অবস্থান করছেন। তবে ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতা-কর্মীরা সকালে বিমানবন্দর এলাকা ও ৩০০ ফিটে আসবেন। দলের শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। এছাড়া ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা পুরো প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থেকে কর্মসূচি সফল করবেন।
আজ সারা দেশের ১০টি লাইনে চলবে স্পেশাল ট্রেন। কক্সবাজার থেকে পঞ্চগড়, খুলনা থেকে রাজশাহীসহ দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্ত থেকে ঢাকামুখী বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সংবর্ধনায় উপস্থিতির ইতিহাস সৃষ্টি হবে এমনটা দাবি করে বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সারা দেশের নেতাকর্মীসহ দেশবাসী তারেক রহমানকে বরণে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে বৃহস্পতিবার। জনসমুদ্রে পরিণত হবে ঢাকা। তিনি বলেন, দিনটি আমরা স্মরণীয় করে রাখতে চাই। আশা করি ঢাকায় অতীতের যেকোনো প্রত্যাবর্তনকে ছাপিয়ে যাবে।
সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে নিরাপত্তা: তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিন বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে। তার নেতৃত্বে চেয়ারপার্সন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক নিরাপত্তা টিম দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি দলের বিশ্বস্ত নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে আলাদা একটি সমন্বয় টিম। নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এনিয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও বৈঠক করছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসা পর্যন্ত তারেক রহমানকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। একইভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকেও। বলা হয়েছে, তারেক রহমান দেশে এলে তার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ কোনো ঝুঁকির তথ্য নেই।
জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তায় ‘কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট’ নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রণয়ন করেছে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী। রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট-এই তিন জোনে ভাগ করে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ছক। সূত্র জানায়, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠক করেছে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট এবং সিএসএফ।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছি। পেশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসএসএফ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না তারেক রহমানকে। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিকল্পনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে গুলশান পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা এবং তার বাসভবনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলন : গতকাল চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভ্যর্থনা জানাবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ। এরপর সড়ক পথে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন তিনি। পথিমধ্যে তিনি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেস ওয়ে অর্থাৎ ৩০০ ফুটে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে বিএনপি। তিনি বলেন, এটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান হবে। সেখানে তিনি দেশবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন। এরপর তিনি চলে যাবেন এভার কেয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকে তারেক রহমান গুলশান এভিনিউতে ১৯৬ নং বাসায় যাবেন। এই বাসায় তারেক রহমান থাকবেন।
দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে আছে, বাদ জুম্মা শেরে বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত এবং সেখান থেকে সড়কপথে সাভারে জাতীয় স্মতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। এই দুইটি কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে জানিয়ে সালাহ উদ্দিন বলেন, পরদিন তারেক রহমান নিজে ভোটার হতে যা করতে হয় সেই কাজগুলো করবেন। এছাড়া সেদিন শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত এবং পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে যাবার কথা রয়েছে। তবে এসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যথা সময়ে দিনের কর্মসূচিগুলো গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ : সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাই যে, প্রিয় নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে বাস্তবায়িত করতে দলের পক্ষ থেকে অনিবার্য অত্যাবশ্যক এবং ন্যূনতম যে সকল কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে সেজন্য সৃষ্ট অসুবিধা ও কষ্টের জন্য। আমাদের কোন কর্মসূচি যেন জনদুর্ভোগের কারণ না সৃষ্টির করে সেজন্য আমরা শত চেষ্টা সত্ত্বেও সেটা হয়তো এক শতভাগ প্রতিপালন করতে পারিনি। তারপরও জনদুর্ভোগের জন্য আমরা অগ্রিম ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করছি।
সালাহ উদ্দিন বলেন, তিন‘শ ফিটের অনুষ্ঠানটি কোন জনসভা নয়, সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানও নয়। শুধুমাত্র দেশবাসীর প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও দেশনেত্রী সহ দেশের সকলের কল্যাণ কামনায় দোয়ার অনুরোধের অনুষ্ঠান। সেই আয়োজনে তিনি ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন বক্তা থাকছেন না।
সিলেটে ভিড় না করার নির্দেশনা : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সিলেট, মহানগর, জেলার নেতাকর্মৗদের উদ্দেশে বলেন, তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি প্রথম ল্যান্ড করবে সিলেট বিমান বন্দরে। সিলেট জেলার কোনো নেতাকর্মীরা বিমান বন্দরে ভিড় করবেন না। আমাদের নেতা ওই বিমানেই ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে কথা বলবেন।
নেতাকর্মীদের জন্য নির্দেশনা : এই প্রত্যাবর্তন যেন কোনোভাবেই বিশৃক্সখলা, উত্তেজনা বা নাগরিক দুর্ভোগের কারণ না হয়, সেই বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ আচরণ, শৃক্সখলা বজায় রাখা এবং আইনশৃক্সখলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অপেক্ষমাণ দেশের সকল প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের রাজধানীমুখী স্বতঃস্ফূর্ত স্রোত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই, বেশিরভাগ নেতাকর্মীকে কাঞ্চন ব্রিজ ও ঢাকার প্রবেশমুখগুলো ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।