কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থল ত্যাগ করে হুটহাট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদবির করছেন পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা। বিভিন্নস্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের এ ধরনের তদবিরের কারণে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিব্রত হচ্ছেন। পুলিশের ভাবমর্যাদা ক্ষন্ন হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন সরকারি কাজও এতে ব্যাহত হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি সাম্প্রতিক সময়ে, যা পুলিশ সদর দফতরসহ স্বরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্তাদের নজরে এসেছে। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে তাই অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদবির না করতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের নয়া মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার পুলিশ সদর দফতরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার এডিশনাল ডিআইজি স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ কথা বলা হয়।

আইজিপির পক্ষে জারি করা ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত কিছু সদস্য অফিস চলাকালে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করছেন। বিষয়টি সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। নির্দেশনায় বলা হয়, এ ধরনের তদবিরের কারণে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিব্রত হচ্ছেন। এতে পুলিশের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন সরকারি কাজও ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে এমন কার্যকলাপ নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে গত বছরের ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি স্মারক এবং পুলিশ সদর দপ্তরের একই বছরের ৪ আগষ্ট‘র একটি নির্দেশনার মাধ্যমে বিষয়টি ইতিমধ্যে সব ইউনিটকে ও সব কটি জেলার পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছিল; কিন্তু একই ঘটনা আবারও ঘটছে বলে লক্ষ করা গেছে। সে জন্য আবারও এই নির্দেশনা দেওয়া হলো। পুনরায় দেয়া নির্দেশনাটি পুলিশের সকল ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। পাশাপাশি পদোন্নতি বা অন্য কোনো বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় তদবির করা থেকেও বিরত থাকার জন্য পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গতকাল মঙ্গলবার রাতে দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, অফিস চলাকালে অনুমতি ছাড়া নিজ অফিস ছেড়ে কোনো সরকারি মন্ত্রণালয় বা গুরুত্বপূর্ণ দফতরে অবস্থান করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই চিঠি পুনরায় ইস্যু করা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ছাত্রজীবনে করা রাজনৈতিক পরিচয়ে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত মন্ত্রণালয়ে গিয়ে নিজেদের পদোন্নতি ও বদলির জন্য তদবির করছেন। এতে দলবাজীর আলামত স্পষ্ট হয়ে দেখা দিচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে দলের পরিচয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের পছন্দের জায়গায় বদলীসহ পদোন্নতির জন্য জোর তদবীর করা হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক শৃংখলা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। এছাড়া. তদবীরকারী কর্মকর্তাদের কারণে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বাভাবিক কাজকর্মও যথাসময়ে করতে পারছেন না বলে অভিযোগে প্রকাশ।