জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে আরব-ইসলামিক দেশগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আঘাবেকিয়ান। এদিকে সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির ফিলিস্তিনবিষয়ক কার্যনির্বাহী সভার ফাঁকে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. আলখারেইজি, তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি। বৈঠকগুলোতে নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান অংশগ্রহণকারী নেতারা। তারা একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঘাবেকিয়ানের। জেদ্দায় ওআইসির ফিলিস্তিনবিষয়ক কার্যনির্বাহী সভার ফাঁকে হওয়া সাক্ষাতে এমন প্রত্যাশার কথা জানান ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্ত এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সমস্যার একমাত্র সমাধান। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের দৃঢ় ও ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশ নির্বাচিত হলে ফিলিস্তিনের স্বার্থ সমুন্নত থাকবে। ফিলিস্তিনি মন্ত্রী প্রত্যাশা করেন, আরব-ইসলামিক দেশগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে।

সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ দেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন খাতে নতুন সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়।

তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও বিস্তারের আশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তুরস্কের সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। তিনি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার সক্রিয় ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে, তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দায়ের করা মামলার কথা উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গাদের পক্ষে গাম্বিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে বাংলাদেশ সমর্থন অব্যাহত রাখবে। আগামী এপ্রিলে বাগদাদে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। এনজি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং এ বিষয়ে অন্যান্য আফ্রিকান দেশের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন।