# যুবকদের ক্ষমতায়ণ করা হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হবে

# নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা হবে।

# ন্যায় বিচার নিশ্চিত হলে ৭০ ভাগ সমাধান হয়ে যাবে

# খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের বিচার করা হবে

# শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে

একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ইশতেহার তুলে ধরে দলটি। এতে ২৬ বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হবে। বিষয়গুলোর হলো 'জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ' এই শ্লোগানের আলোকে ১. স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন করা হবে। ২. বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন। ৩. যুবকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা হবে। ৫. আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা হবে। ৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন হবে। ৭. প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন করা হবে। ৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা; সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ করা হবে। ৯. ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বান্ধব *টেকসই ও শক্তিশালী অর্থনীতি বিনির্মাণ করা হবে। ১০. আনুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা হবে। ১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের বিচার করা হবে; সেইসাথে ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা হবে। ১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। ১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতার মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব সৃষ্টি করা হবে। ১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং 'তিন শূন্য মিশন' (পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা শূন্যতা, দারিদ্র্য শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়া হবে। ১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে দ্রুত শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। ১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। ১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ* এবং দেশ গঠনে তাদের আনুপাতিক ও স্বাতন্ত্র্যমন্ডিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ১৮. সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ১৯. আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান* এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। ২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা। ২১. দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা* এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে। ২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর রেল ও নৌপথের আধুনিকায়ন এবং ঢাকার যাতায়াতব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হবে। ২৩. নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা হবে। ২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ ঘটিয়ে বিচার ও সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা। ২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে নিম্নবিত্ত ও কর্মহীনদের সাহায্য এবং সকল নাগরিকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এবং ২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

রাজধানীর বনানী শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহার অনুষ্ঠানে পাহারাদার অ্যাপের বিস্তারিত তুলে ধরে বলা হয় সরকার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। ২০৪০ সালে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। ৫ বছরে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ যুবসমাজ গড়া হবে। কর্ম পাওয়ার আগ পর্যন্ত দেওয়া হবে ভাতা। নারীর সম্মান ও নিরাপত্তায় সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্মান ও নিরাত্তা রক্ষা করা হবে। আলাদা বাস সার্ভিস মেট্রোরেলে আলাদা কম্পাটমেন্ট করা হবে। গণপরিবহনে থাকবে সিসি ক্যামেরা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গ্রামীণ নারীর জন্য সম্মানজনক কাজের ব্যবসথা করবে। আমার আয়ের সংসার প্রকল্পের মাধ্যমে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্ম তুলে দেবো। স্বাস্থ্যখাতে বাজেট তিনগুণ করা হবে। বর্তমান হাসপাতালের সেবা শতভাগে উন্নীত করা হবে। আন্তর্জাতিক মডেলের হাসপাতাল বানানো হবে। চলো একসাথে গড়ি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ৫৪ বছরে অনেক কিুছু হওয়ার কথা ছিল। কথা ছিল কৃষক হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিবে। বিনিময়ে সম্মান ও সহযোগিতা পাবে। শ্রমিক সমাজের স্বীকৃতি পাবে। ঘরে ফিরবে নিরাপত্তার সাথে। শিক্ষক সম্মান পাবে। শিক্ষার্থীরা স্কুল আঙ্গিনায় প্রত্যাশার স্বপ্ন দেখবে। কুটির শিল্পীও চিন্তা করবেন। মা-নারী হিসেবে চিন্তা সন্তান ধারণ করেছি। তাকে মানুষ করেছি। আমি সম্মান ও স্বীকৃতি চাই। নিরাপত্তা বিধান করবে। মানুষ ন্যায় ব্চিার পাবে। আমাদের দেশের মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী নয়। আজ যদি নিজেদের প্রশ্ন করি ৫৪ বছরে পেরেছি কি-না। পারিনি। আজ শিক্ষিত যুবকদেও মধ্যে হাহাকার। এমন তো কথা ছিল না। আমার দেশেতো সম্পদের অভাব নেই। যদি অভাব থাকতো তাহলে ১৭ বছর ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হতা না। আমাদের অভাব বিবেকবোধের। বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে দেশের চেয়ে দল বড়। দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়। দফায় দফায় অভ্যূত্থানের পর ২৪ এলো। জুলাইতে তরুণদের বাধ্য করা হয় রাস্তায় নামতে। প্রথমে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পরে ১৮ কোটি মানুষ সম্পৃক হয়। ১৫ জুলাই ঢাবিতে নারীদের গায়ে হাত দেওয়া হয়। তারপর আগুণ জ¦লে সারাদেশে। আবু সাঈদ বলেছিল বুকের ভেতর তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।

তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই। ৫ আগস্টের স্মৃতি ভুলে গেছি। অনেকে নিজেদের ভাগ্য গড়ছে, নানাভাবে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। আমরা বোঝাতে চেয়েছি। আমি আজ নিজেই আহত সৈনিক। আমার চরিত্র হনন করছে। তাদের মাফ করে দিয়েছি। প্রতিশোধ চাই না। প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজকে কুড়ে কুড়ে নষ্ট করেছে। আমাদের যুব সমাজে সম্ভবনার। তারা পারবে। জুলাইতে যেভাবে পেরেছে সেভাবেই বাংলাদেশ গড়তে পারবে।

আমীরে জামায়াত উল্লেখ করেন, আমাদের ইশতেহার যুবকদের নিয়ে, মায়ের জাতিকে নিরাপত্তার দেওয়ার জন্য। শিশুদের মেধার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য। মেধাবী জাতি গঠনের সার্ভিস নিশ্চিত করার জন্য। কৃষকদের জীবনে বিপ্লব আনতে চাই। অন্যরা পারলে আমরাও পারবো। আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। বিশ^াস করি জনতার রাজনীতিতে। একারণে জনগণের পরামর্শ চেয়েছি। লক্ষ লক্ষ মানুষ মত দিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। উৎসাহিত করেছেন। তাদের চিন্তাগুলো বুঝতে পেরেছি। আমাদের ইশতেহার হবে ব্যবসাবান্ধব, জনবান্ধব,শান্তি বান্ধব ও শৃঙ্খলাবান্ধব। আমাাদের পলিসি হবে সমন্বিত করে শিল্প বাঁচানোর। মহিলা শ্রমিকদের জন্য আলাদা প্লান আছে। বাস্তবায়ন করবো।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সব বয়স্ক মানুষের জন্য অবসরকালীন সময়ে রাষ্ট্র পূর্ণ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবে। ৬৪ জেলায় মেডিকেল কলেজ গড়বো। স্কিল ম্যান পাওয়ার দেবো। স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যা সেবা দেবো। শিক্ষাক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন করবো। শিক্ষায় দুটি গুণগত পরিবর্তন করবো। জাতির ঋণ শোধ করার নৈতিক শিক্ষা দেবো। তারা দূরদর্শী হবে। এর সাথে পেশাদার শিক্ষার ব্যবস্তা করবো। দক্ষ জনগণ দেশের সেবার পাশাপাশি বিদেশে থেকে বেশি রেমিটেন্স আসবে।

ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যুবকদের রাষ্ট্র নামের উড়োজাহাজের ককপিটে বসাতে চাই। আমরা পেছনে থাকবো। তারা দেশকে এগিয়ে নিবে। প্রমাণ করবো। সরকার যারা পরিচালনা করে তারাও মানবিক মানুষ। চা শ্রমিকদের জীবনমানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবো। চা শ্রমিকের সন্তানরাও যেন প্রধান মন্ত্রী হতে পারে। পাহাড় এবং সমতলের হিংসা দূর করতে চাই। পাহাড়ে তাদের পাওনা তুলে দেবো। তারা যেন আস্তার সাথে বলতে পারে দেশটা আমার। আমরা পাহাড়ে অশান্তি চাই না। দূর করতে চাই। কারণ গুলো বের করে যৌক্তিক সমাধান দেওয়া হবে।

এই ইশতেহার জনগণের। বিভাজন নয় ঐক্যের। আমি শিখতে চাই ১৮ কোটি মানুষের কাছ থেকে। একসাথে চলবো। চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ। একটা সুযোগ চাচ্ছি। সহিষ্ণু নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। সীমাহীন বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই। প্রত্যাশা করি, ন্যায় বিচার নিশ্চিত হলে ৭০ ভাগ সমাধান হয়ে যাবে। যুবকরা চায় না বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকুক। ১৪০০ লাশ আর থালা থালা রক্ত পেয়েছি। আর না।

তিনি মানুষের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ইশতেহার প্রকাশিত হলেও আরও ভাল করার সুযোগ আছে। আপনারা সহযোগিতা করবেন। দেশ সকলের। দেশ ভাল থাকলে আমরা ভাল থাকবো। আমরা সবার সাথে কালারফুল সম্পর্ক রাখতে চাই। সম্মানের সম্পর্ক রাখতে চাই। তাহলে আমাদের মর্যাদা ও সম্মান বেড়ে যাবে। গোটা বিশে^র সাথে অঞ্চলের সাথে সমান সম্পর্ক রাখতে চাই।

ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, কসোভো, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, ব্রুনাই, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ইরান, কানাডা, আলজেরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, ভুটান, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল, ভ্যাটিকান, জাতিসংঘ, ইউএনডিপি, আইআরআই, এনডিআই, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এমএলও সহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কুটনীতিবিদগণ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

জুলাই বিপ্লবের আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে জনপ্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে তৈরি করা ইশতেহারে ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে ‘চলো সবাই একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ইশতেহারে ১০টি মৌলিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৫টি হ্যাঁ এবং ৫টি না রয়েছে। হ্যাঁ-এর মধ্যে রয়েছে সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান। না-এর মধ্যে আছে- দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি।

‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিসহ ইনসাফ ও ন্যায় ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও যুবকের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে।

ইশতেহার প্রণয়নে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশার ২৫০-এর বেশি বিশেষজ্ঞের সমন্বয় তৈরি করা জনগণের মতামতকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি ওয়েবসাইটে সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হলে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় চল্লিশ হাজার মতামত দেন ও তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। ওয়েবসাইটে দেয়া মানুষের প্রত্যাশা ও মতামত ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে।