খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার বিল ডাকাতিয়ায় পর পর দুই বছর জলাবদ্ধতা থাকায় কৃষকরা আমন মওসুমে আবাদি জমির ২০ ভাগও চাষাবাদ করতে পারেনি। আবার বোরো মওসুম শুরু হলেও চাষাবাদে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে আমন মওসুমে মোট আবাদি জমির প্রায় ৪৫ ভাগ চাষাবাদের আওতায় আসে। আর বোরো মওসুমে পানি কমে গেলে হয়তো কৃষকরা আগের মতো প্রাণ ফিরে পাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত আমন মওসুমে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিল ডাকাতিয়া অংশে মোট আবাদযোগ্য জমি রয়েছে ৫ হাজার ২শ’ হেক্টর। এর মধ্যে চাষাবাদের টার্গেট ধরা হয় ১ হাজার হেক্টর। কিন্তু কৃষকরা জলাবদ্ধতার কারণে সময়মতো বীজ বপন ও রোপণ করতে না পারায় মাত্র সাড়ে ৫শ’ হেক্টর জমিতে আবাদ করা সম্ভব হয়েছে। ফলন হয়েছে মাত্র ৪৫ ভাগ। একই সময়ে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রভ ধরা হয় ১শ’ হেক্টর জমিতে। সেখানে চাষের আওতায় আসে মাত্র ২৬ হেক্টর আংশিক ও ৬ হেক্টর সম্পূর্ণ, বাকিটা সম্ভব হয়নি। গত বছরও বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা থাকায় ১৪৩০ হেক্টর আবাদের জন্য পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত টার্গেট পূরণ হয়নি। অপরদিকে, বোরো মওসুমে ৪ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের টার্গেট ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উফসী ১ হাজার হেক্টর এবং হাইব্রিড ৩৩শ’ হেক্টর। এখনই বীজ বপন শুরু হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ৩টি করে ব্লক রয়েছে। ফুলতলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মোট ১২টি ব্লকের আওতায় ১৬ অক্টোবর থেকে বীজ বপনের কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত চাষাবাদের এই কার্যক্রম চলবে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বিল ডাকাতিয়ায় জলাবদ্ধতায় পরিপূর্ণ। শোলমারী গেট দিয়ে সামান্যতম পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। ফলে কৃষকরা এ বছরও গত বছরের ন্যায় চাষাবাদের টার্গেট পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। বসুরাবাদ গ্রামের কৃষক বাটুল মোহন্ত বলেন, বিল ডাকাতিয়ায় পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে আমরা ধানের বীজতলা এখনও তৈরি করতে পারিনি। তাই ফসল উৎপাদন করা প্রায় অসম্ভব।

এদিকে ফুলতলায় কৃষকদের মাঝে যেমন চলছে হতাশা তেমনিভাবে সরকারের খাদ্য বিভাগও রয়েছে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। গত আমন মওসুমে ফুলতলা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ অনেক কষ্ট করে ধান চাল ক্রয় অভিযানের চার্গেট পূরণ করে। কিন্তু এ বছর আমন ও সামনে বোরো ধান ক্রয় অভযানে টার্গেট পূরণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে ফুলতলা উপজেলা কৃষি অফিসার আরিফ হোসেন বলেন, “বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা ফুলতলা ও ডুমুরিয়া কৃষকদের জন্য গলার কাটা হয়ে দেখা দিয়েছে। পানি নিষ্কাশন না হলে আগামী বোরো মওসুমে টার্গেট পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সবকিছু মিলিয়ে অত্র এলাকার কৃষকরা বার বার ধান সবজি ও মাছের দিক থেকে অতিরিক্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর থেকে উত্তরণ পেতে হলে শোলমারী গেটের আশু সংস্কার প্রয়োজন।