বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ সময় হাসপাতালে খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান, নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, ছোট পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দারসহ পরিবার ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সব চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদ, কূটনৈতিক মহল, বিদেশী রাষ্ট্র, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বুধবার সারা দেশে একদিনের সাধারণ ছুটিসহ তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একইসাথে বিএনপি সাত দিনের কর্মসূচি পালন করবে। আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নামাযে জানাযা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম জিয়াকে তার স্বামী স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
বেগম জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে থাকেন দলের হাজার হাজার শোকাহত নেতাকর্মী। তাদের সবার চোখে-মুখে প্রিয় নেত্রীকে হারানোর বেদনা। গোটা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক ধরনের নিস্তব্ধতা ও শূন্যতা বিরাজ করছে। এছাড়া খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর জানার পর পুরো দেশই শোকে মূহ্যমান হয়ে উঠে। জানাযায় অংশ নিতে অনেকেই গতকালই রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের উচ্চ পদস্থ কর্তারাও জানাযায় অংশ নিবেন বলে জানিয়েছেন।
গতকাল দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। অন্য রোগীদের যাতায়াতে যেন বিঘœ না ঘটে, সেজন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে নেতাকর্মীদের অবস্থান নিশ্চিত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকালের দিকে শোকাহত মানুষের ভিড় বেশি থাকলেও বিকেলে উপস্থিতির সংখ্যা কমে আসে। অশ্রুসিক্ত চোখে সবাই তাদের প্রিয় নেত্রীর রুহের মাগফিরাত কামনায় প্রার্থনা করেছেন।
বিএনপি ও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হযেছে, আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে বেগম খালেদা জিয়ার কফিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে নেওয়া হবে। এর আগে হাসপাতালের সামনে তাকে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকার পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জ থেকে আসা বিএনপি সমর্থক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী শোকার্ত কণ্ঠে বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের মা। রাজনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন। বাংলাদেশের জন্য তাকে আরও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন ছিল।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল। গত ২৮ ডিসেম্বর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান। এর আগে একাধিকবার াতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেয়ারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। ফলে এভারকেয়ার হাসপাতালে রেখেই তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। এবার তিনি আর চিকিৎসায় সাড়া দিতে পারলেন না। ‘দেশনেত্রী’ ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিলেন তার প্রিয় দেশবাসীর কাছ থেকে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব অনন্য, তাকে বিভিন্ন সময় যারা কাছ থেকে দেখেছেন তারা এ কথা সহজেই স্বীকার করে থাকেন। এছাড়া দূর থেকেও যারা তাকে দেখেছেন, তারাও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি অনন্য চরিত্রের অধিকারী। শুধু আপসহীনতার জন্য নয়, ত্যাগ স্বীকার ও কষ্ট সহ্য করার অপরিসীম ক্ষমতা ছিল তার। এ ধরনের চরিত্র খালেদা জিয়া পেয়েছিলেন স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে। তাই তাকে মা মাটি ও মানুষের দেশনেত্রী বলা হয়। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নেতৃত্ব জনজীবনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণেও কাজ করেছেন।
বাংলাদেশের জন্য নিজের পরিবার, নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে যুদ্ধে যোগ দেওয়া এমন প্রথম সারির রাজনীতিক বা পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা নেতা ও পরিবারের সংখ্যা খুব কম আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা গেছে, বিশেষ করে পরে যারা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব পেয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা কেউ এ ধরনের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিলেন না। আগে-পরে রাজনৈতিক সংগ্রামে তারা সামনে ছিলেন, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের সেই সাহস অনুপস্থিত ছিল। এক্ষেত্রে অনন্য জিয়া পরিবার। যুদ্ধের জন্য জিয়াউর রহমানের সেই যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় খালেদা জিয়ারও মুক্তিযুদ্ধ। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি পালিয়ে বেড়িয়েছেন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। যদি তিনি ধরা পড়ে যেতেন, তাহলে পাকিস্তান আর্মির হাতে সুযোগ ছিল জিয়াউর রহমানকে থামানোর। হয়তো স্বাধীনতার ঘোষণাও আটকে যেত। তবে, সেই সুযোগ তাদের দেননি খালেদা জিয়া। তার কৌশল ও দৃঢ় মানসিকতার কাছে নতি স্বীকার করতে হয় পাকিস্তান আর্মিকে।
১৯৮০-এর দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া আশার আলো হয়ে আবির্ভূত হন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশকে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ সময় নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। সংসদে নারীর সংরক্ষিত আসন ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করেন, ফলে জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর প্রতিনিধিত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি বজায় থাকে। তিনি রাজনীতিতে শিষ্টাচার বজায় রেখেছেন এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থেকেছেন। বৈচিত্র্যপূর্ণ বিভিন্ন দলকে একত্রিত করার ক্ষমতার জন্য তিনি কখনো কখনো ‘সব দলের নেতা’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে আসা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল প্রায় ৪৩ বছরের। ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত দলের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন এই আপসহীন নেত্রী। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয় আপসহীন নেত্রীর উপাধি। রাজনৈতিক জীবনে বহুবার সংকটের মুখে পড়েছেন খালেদা জিয়া।
দলীয় ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, ২০২০ ও ২০২১ সালে কারাবন্দী অবস্থায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তখন একাধিকবার বি এস এম এম ইউ-তে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। ২০২২ সালে মুক্ত অবস্থায়ও তার শারীরিক অবনতি হলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকতে হয় তাকে। ২০২৩ সালে লিভার ও কিডনি জটিলতার কারণে একাধিক দফায় হাসপাতাল ভর্তি হয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বয়স ও জটিল রোগের কারণে হাসপাতালে থাকার সময় আরও দীর্ঘ হয়। সব মিলিয়ে, গত পাঁচ বছরে তার হাসপাতালে অবস্থান ৪৮৪ দিন, যা প্রায় দেড় বছরের সমান।
চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরদিন সেখানে দি লন্ডন ক্লিনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। প্রায় ১৭ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতাল ছাড়েন। এরপর হাসপাতালে ভর্তি না থেকে ছেলে তারেক রহমানের লন্ডনের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা চালিয়ে যান। প্রায় চার মাস পর, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরে আসেন। লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এসব রোগের জটিলতা আরও বেড়ে গেলেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে গেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার পুরো রাজনৈতিক যাত্রা আপসহীনতা, দৃঢ়তা এবং সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আছে। তাই তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের রাজনীতিতে হার না মানা সংগ্রামের নাম।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাত দিন শোক পালন করবে দলটি। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন এবং দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জড়ো হন হাজার হাজার নেতাকর্মী। প্রিয় নেত্রীর বিদায়ে পুরো কার্যালয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। কেউ অঝোরে কাঁদছেন, আবার কেউ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয় নেত্রীর স্মরণে। খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় গতকাল সকাল ১০টা থেকে দলীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে পবিত্র কোরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বুধবার জানাযার আগ পর্যন্ত এই কোরআনখানি চলবে। শোকের প্রতীক হিসেবে ইতোমধ্যে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার ও শোকবার্তাসহ নয়াপল্টনে এসেছেন নেতাকর্মীরা।
নয়াপল্টনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তার ফাঁসি দাবি করছেন। জিয়া নামের বিএনপির একজন কর্মী বলেন, শেখ হাসিনা বিনা অপরাধে খালেদা জিয়াকে বছরের পর বছর কারাগারে আটকে রেখেছে। সেখানে খাবারের সঙ্গে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে দুর্বল করে দিয়েছে। যার ফলে আজকের এই দিন আমাদের দেখতে হচ্ছে। ইয়াসিন নামের ছাত্রদলের একজন কর্মী বলেন, আমরা একজন আপসহীন নেত্রী হারালাম। যিনি দেশের জন্য তার সর্বোচ্চটুকু ত্যাগ শিকার করেছেন। তার মতো এমন দেশপ্রেমিক কেউ ছিল না। তিনি ছিলেন অতুলনীয়। আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন এই দোয়া সবসময়।
জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই দাফন :
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাযা আজ বুধবার বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। জানাযা শেষে তাকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের চন্দ্রিমা উদ্যানে তার স্বামী, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে গুলশানে চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জরুরি স্থায়ী কমিটির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব এ তথ্য জানান। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গুলশান কার্যালয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী কমিটির এই সভা চলে।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার জানাযা পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। পুরো জানাযা কার্যক্রমের সঞ্চালনা করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সবাই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে জানাযায় অংশগ্রহণ করবেন। তার দাফনে বিদেশীসহ দেশের রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন।
সাত দিনব্যাপী শোক পালনের ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে শোক ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে দাফন করা পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা সরকারকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে সাত দিনব্যাপী শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এই সাত দিন কালো ব্যাজ ধারণ করব। একই সঙ্গে প্রত্যেকটি দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উড়বে। প্রত্যেক কার্যালয়ে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া পড়া হবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশের মানুষের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি এমন সময় চলে গেলেন যখন তাকে সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল।
এদিকে সরেজমিনে গতকাল বিকেলে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই খালেদা জিয়াকে দাফনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দাফনের জন্য স্থান নির্ধারণ ও পরিমাপের কাজ শেষ কবর খননের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও শ্রমিকদেরও সেখানে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। রাতের মধ্যেই সব কার্যক্রম শেষ হবে বলে বিএনপির নেতারা জানান।
এছাড়া দাফন উপলক্ষে গতকাল সকালেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো চন্দ্রিমা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। জানা গেছে, সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষের চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকায় প্রবেশ সীমিত করে দেয়া হয়।
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাযা ও দাফন রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় জানাযা আয়োজনে সার্বিক কাজ রাতেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির মহাসচিব শোক ও আজ দাফনের দিন নেতাকর্মীদের বিশৃঙ্খলা না করার অনুরোধ করেন।