রমযানের প্রথম ইফতার ইয়াতিমদের সাথে করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে ইয়াতিমদের সন্মানে মিরপুর-১৩ গ্র্যান্ড প্রিন্স রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ গ্রহণ করেন তিনি। এসময় তিনি ইয়াতিমদের টেবিলে টেবিলে গিয়ে খোঁজখবর নেন।
ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত সুধীজনদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ইয়াতিমদের থেকে আমরা মনিমুক্তা বের করে আনতে চাই। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেন তারা দেশ ও জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যে কাজ করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, আমরা আশা রাখবো সরকার সেই কাজটাই করবে।”
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “শুধুমাত্র দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ যেন জুলুমের শিকার না হয়। আমরা এই দেশ ও দেশের নাগরিকদের ভালোবাসি। যদি কেউ জুলুমের শিকার হয় তাহলে আমরা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।” তিনি আরও বলেন, “সরকারি ও বিরোধীদল মিলে যেন মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি-সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
ইয়াতিমদের দেশের সম্পদ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ইয়াতিমদের থেকে আমরা মনিমুক্তা বের করে আনতে চাই। তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেন তারা দেশ ও জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যে কাজ করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, আমরা আশা রাখবো সরকার সেই কাজটাই করবে।”
সম্প্রতি এখন টিভির চার সাংবাদিকের চাকরি হারানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এটা সাংবাদিকদের স্বাধীনতার উপর নির্লজ্জ আঘাত। আমরা সরকারের কাছে আশা রাখবো সাংবাদিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা হবে। নইলে আমরা মনে করবো সরকার একনায়কতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ ইসলামপ্রিয় ও কুরআন প্রিয়। তারা কুরআনের চেতনায় বিশ্বাস করে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, থানা আমীর ও থানা সেক্রেটারিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ইফতার মাহফিলে প্রায় এক হাজার ইয়াতিম শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
এর আগে এদিন সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত। ভিন্নমত দমন নয়- স্বাগত জানানোই হোক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই জুলাই। ফ্যাসিবাদের ১৭ বছরে বর্তমান সরকারি দল ও আমরা- উভয়পক্ষই স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছি। আমরা সেই অন্ধকার সময়ে আর ফিরতে চাই না।