রমযানের স্নিগ্ধ আমেজে ইফতার উৎসব চলছে ঢাকাজুড়ে। প্রতিদিনই বিকেল ৩টা থেকে ইফতারের সময় পর্যন্ত রাজধানীর ফুটপাত, ছোট দোকান থেকে রেস্তোরাঁÑ সবখানেই চলে বাহারি ইফতার বেচাকেনার ধুম। কোথাও ভাজা হচ্ছে মচমচে বেগুনি-আলুর চপ, কোথাও হাঁড়িতে সুগন্ধ ছড়াচ্ছে হালিম আর তেহারি। ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসে, ক্রেতাদের ভিড়ে ততই মুখর হয়ে ওঠে। যে চিত্রের ব্যতিক্রম নয় রাজধানীর গুলশান এলাকা। পবিত্র রমযান ঘিরে গুলশান-১ ও ২ নম্বর এলাকায় বিকেলে হয়ে যায় জমজমাট ইফতারের বাজার। ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান থেকে শুরু করে নামিদামি রেস্তোরাঁÑ সবখানেই পরিবারের জন্য ইফতার কিনতে ভিড় করেন ক্রেতারা।

এসব এলাকায় রাস্তাঘাটে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও ইফতারের দোকানগুলোতে ক্রেতার কমতি নেই। বিকেল ৩টার পর থেকেই শুরু হয় ব্যস্ততা। স্টলগুলোতে সারিবদ্ধভাবে সাজানো হয় খেজুর, ফলের চাট, ছোলা ভুনা, হালিম, তেহারি ও জিলাপি। অনেক দোকানে বোতলজাত শরবত, বোরহানি ও ফ্রেশ জুসের জন্য আলাদা কাউন্টার দেখা গেছে। পাশাপাশি রাস্তার ফুটপাতেও বসেছে হরেক রকমের ইফতারের আয়োজন। গুলশান-১ নম্বরের মেজবান ডাইনে বিভিন্ন প্যাকেজে ইফতার বিক্রি করা হচ্ছে। এখানকার ‘মেজবান গরু সেট’ বিক্রি হচ্ছে ৮৬৫ টাকায়। এই প্যাকেজে রয়েছেÑ চিয়া সিড ফিউশন ড্রিংকস, আপেল ও মাল্টা শরবত, খেজুর, ছোলা ভুনা, পাঁপড় ভাজা, ফিটকিরি রিফ্রেশ ড্রিংক, পানি, ফ্রেশ জুস, মেজবানি গরু, মেজবানি চানা ডাল ও সালাদ। একই উপাদানসহ ‘কালাভুনা সেট’ মিলছে ৮৬৭ টাকায়। এ ছাড়া বিফ তেহারি সেট ৮৮০ টাকা এবং মেজবানি নলা সেট ৮৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গুলশান-১-এর পূর্ণিমা রেস্টুরেন্টে মূল আকর্ষণ হিসেবে রয়েছেÑ হালিম ও ঘিয়ে ভাজা জিলাপি। ১ কেজি স্পেশাল হালিম ১ হাজার টাকা, ৭০০ গ্রাম ৭০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রামের প্যাকেজ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এখানকার বোম্বে জিলাপি ৪৮০ টাকা ও রেশমি জিলাপি ৬৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গুলশান-১ ও ২-এর মাঝামাঝি অবস্থিত বিয়ন্ড বুফে রেস্টুরেন্টের বিক্রয়কর্মী মো. রিফাত জানান, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে গুণগত মান ঠিক রেখে তারা কাবাব ও রাইস আইটেমসহ বিভিন্ন ইফতারসামগ্রী তৈরি করছেন। এ ছাড়া এলাকার ফলের দোকানগুলোতেও মৌসুমি ও বিদেশি ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।

ইফতার কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আলাল বলেন, ‘গুলশানের বাজারে ইফতারের দাম কিছুটা বেশি হলেও মানের প্রতি আস্থা আছে। তাই পরিবারের জন্য এখান থেকেই ইফতার কিনছি।’ বিক্রেতারা জানান, রোজার প্রথম সপ্তাহেই বিক্রি আশানুরূপ, তবে কাঁচামালের দাম বাড়ায় লাভের হার আগের চেয়ে কমেছে।